![]() |
| বার্নি স্যান্ডার্স ও হিলারি ক্লিনটন |
হিলারি
ক্লিনটন ভেবেছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে
বাছাইপর্বের নির্বাচন এপ্রিল নাগাদ শেষ হবে। আর তিনি সে দলের একমাত্র
প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ঘোষিত হবেন। তাঁর সে পরিকল্পনায় বাদ সেধেছেন
ভারমন্টের ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। মোট
ডেলিগেট সংখ্যায় হিলারির তুলনায় বিস্তর পিছিয়ে থাকলেও তিনি একের পর এক
প্রাইমারি জিতে চলেছেন। তাঁর সর্বশেষ বিজয় ছিল প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত
ওরেগন রাজ্যে। গত মঙ্গলবার ওই রাজ্যে অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে তিনি সহজেই জিতে
যান। একই দিন কেন্টাকিতে অনুষ্ঠিত দিনের অপর প্রাইমারিতে হিলারির কাছে
শূন্য দশমিক ১ শতাংশ ভোটে হারেন স্যান্ডার্স। একই দিন ওরেগনে রিপাবলিকান
প্রাইমারিতে দলের একমাত্র প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সহজেই জয়লাভ করেন। অন্য
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁর দলের মনোনয়ন লাভ কেবল আনুষ্ঠানিকতা
মাত্র। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই দুই প্রার্থী ৭ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় চূড়ান্ত
প্রাইমারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হয়।
তবে ওরেগন ও কেন্টাকির জোড়া প্রাইমারি ভোটের ফলে নির্বাচনী দৌড়ে আপাতত
তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, সুপার ডেলিগেটসহ
হিলারির পক্ষে রয়েছেন ২ হাজার ২৯১ ডেলিগেট। অন্যদিকে স্যান্ডার্সের ঝুড়িতে
সাকল্যে জমা পড়েছে ১ হাজার ৫২৮ ডেলিগেট। দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে প্রয়োজন
অন্যূন ২ হাজার ৩৮৩ ডেলিগেটের সমর্থন। অঙ্কের হিসাবে স্যান্ডার্সের পক্ষে
মনোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ডেলিগেটের সমর্থন পাওয়া অসম্ভব, সেই কারণে তাঁর
সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
হিলারির সমর্থকদের
সঙ্গে তাঁদের একাধিক মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। স্যান্ডার্সের
সমর্থকেরা দাবি করছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব স্যান্ডার্সের প্রতি
অবিচার করছেন। জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, হিলারির চেয়ে স্যান্ডার্স অনেক
সহজে ট্রাম্পকে পরাজিত করতে সক্ষম। এ কথা জানা সত্ত্বেও শুধু দলীয়
আনুগত্যের কারণে দলের অধিকাংশ প্রথম সারির নেতা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা
প্রায় ঢালাওভাবে হিলারির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। সুপার ডেলিগেট হিসেবে
জয়-পরাজয়ের শেষ খেলা এসব নেতা ও প্রতিনিধির হাতে। দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে
স্যান্ডার্সের সমর্থকদের বিরাগ সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয় গত শনিবার নেভাডায়
ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজ্য সম্মেলনে। জুলাই মাসে ফিলাডেলফিয়ায় দলের
কনভেনশনে কারা ডেলিগেট হবেন, সে উদ্দেশ্যে ডাকা এই সম্মেলনে স্যান্ডার্সের
সমর্থকেরা দলীয় নেতাদের হিলারির প্রতি পক্ষপাতের তীব্র প্রতিবাদ করেন ও
একপর্যায়ে সম্মেলন মঞ্চ দখল করে নেন। একাধিক স্যান্ডার্স সমর্থক
আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তব্য দেন ও পরে টুইটারে দলের রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের
হত্যার হুমকি দেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা স্যান্ডার্সের
সমর্থকদের এই ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। স্যান্ডার্স নিজে এই
ব্যবহারের কোনো সমালোচনা না করায় তিনিও দলীয় নেতাদের আক্রমণের শিকার হন।

No comments:
Post a Comment