Tuesday, May 10, 2016

ভূয়া মামলা, ভূয়া বিচারকের স্বাক্ষরে নারীর হাজতবাস

ফেনী কারাগারে বিগত ১৪ দিন ধরে হাজতবাস করছে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ভূয়া একটি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত নারী মাজেদা আক্তার। ভূয়া মামলায় ভূয়া বিচারকের স্বাক্ষরে ওয়ারেন্ট জারির পর গত ২৬শে এপ্রিল ঢাকার সাভার আশুলিয়া এলাকার ভাদাইল গ্রামের গনকবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জজ কোটের আইনজীবী ও গ্রেপ্তারকৃত মাজেদার আইনজীবী মো. হাবিব জানান, ঢাকার সাভার আশুলিয়া এলাকার ভাদাইল গ্রামের গনকবাড়ি থেকে আল আমিন পারভেজের স্ত্রী মাজেদা আক্তারকে গত ২৬শে এপ্রিল গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহজালাল। গ্রেপ্তারকৃত মাজেদাকে ফেনী আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় (মামলা নং ৩৭৬/২০১৫) গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমালী আদালত নং-৪ এর আদালতের বিচারকের সামনে আদালতে হাজির করে। আসামি মাজেদার পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরে মাজেদাকে ঢাকা কারাগার হয়ে ফেনী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা। এসময় মামলার মুল নথি নারী ও শিশু নির্যাতন ফেনীর আদালতে পাঠানো হয়।
ফেনী জজ কোর্টের আইনজীবী ও মাজেদার আইনজীবী নুরুল ইসলাম মজুমদার সোহাগ জানান, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মাজেদার মামলার মূল নথি পাঠানো হলে ওই নাম্বারে (মামলা নং ৩৭৬/২০১৫) কোন মামলা রেকর্ড হয়নি বলে আদালত নিশ্চিত করে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে ২০১৫ সালে মামলা রেকর্ড হয় ৩১৪ টি। আদালত থেকে ইস্যুকৃত ওয়ারেন্ট নামা (ওয়ারেন্ট ইস্যুর স্মারক নং ১৩২০(২), তাং-০৪/০৪/২০১৬ ইং) পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ‘এসএম শফি কামাল’ স্বাক্ষরিত ওয়ারেন্ট নামায় আসামি মাজেদাকে ২৭/৬/২০১৬ এর মধ্যে আদালতে হাজির করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফৌসদারী কার্য বিধির ৭৫ ধারায় জারিকৃত ওয়ারেন্টে আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকা পুলিশ সুপারকে মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আইনজীবী নুরুল ইসলাম মজুমদার সোহাগ আরো জানান, ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দেওয়ান মো. শফি উল্যাহ বর্তমানে কর্মরত রয়েছে। ‘এসএম শফি কামাল’ নামে ফেনী জেলায় কখনও কোন বিচারক কর্মরত ছিলো না। ভূয়া বিচারক ও ভূয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে মাজেদা আক্তার নামে নিরীহ নারীকে জেল হাজাতে বন্ধি করে রাখা হয়েছে। সোমবার বিকেলে তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিষয়টি তুলে ধরলে আদালত মামলার ভূয়া নথি পর্যবেক্ষণ করে মাজেদা আক্তারকে অব্যহতি দেয়ার নির্দেশ দেয়।
মাজেদার আইনজীবী মো. হাবিব আরো জানান, মাজেদার সাথে তার প্রথম স্বামী সাইফুল ইসলাম প্রধানিয়া (সাইফ প্রধানিয়া) বিয়ে বিচ্ছেদ হয় ২০১৫ সালে। এর পর মাজেদা তার পূর্বের স্বামী সাইফ প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা ও তারকাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ধারে নেওয়া ৮৫ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলার পর মাজেদার বড় ভাইয়ের এক ছেলেকে মুক্তিপনের জন্য অপহরণ করে সাবেব স্বামী সাইফ প্রধানিয়া। ওই ঘটনায় ওই সময়ে ঢাকার পল্লবি থানায় একটি জিডিও করা হয়, পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। বিয়ে বিচ্ছেদের পর মাজেদা আল আমিন পারভেজ নামে এক জনকে বিয়ে করে। মাজেদার প্রাক্তন স্বামী সাইফ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য মাজেদা ও তার বর্তমান স্বামী আল আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভূয়া একটি মামলা দায়েরের কপি তৈরী করে। ওই মামলায় মাজেদার বর্তমান স্বামী আল আমিন পরভেজও ঢাকা কারাগারে বন্ধি রয়েছে।
আইনজীবী মো. হাবিব জানান, মাজেদা কারাগার থেকে মুক্তি পেলে তার সাবেক স্বামী সাইফের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি, প্রতারণসহ একাধিক মামলা দায়ের করবে।

No comments:

Post a Comment