Monday, June 20, 2016

ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দি কারাগারে

বেশির ভাগ কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বা তিনগুণ বন্দি অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার দশম জাতীয় সংসদের একাদশতম অধিবেশনে মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, জেল কোড অনুযায়ী একজন বন্দির শোয়ার জায়গা ৩৬ বর্গফুট হিসেবে নির্ধারিত। অধিকাংশ কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বা তিনগুণ বন্দি অবস্থান করছেন। বন্দি আবাসন সমস্যা দূরীকরণে বর্তমান সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কারাগারগুলো পুনঃনির্মাণে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মো. আবদুল্লাহ’র অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মোট ৪৪২৭ কি.মি সীমান্তের মধ্যে ৪১৫৬ কি.মি সীমান্ত ভারতের সঙ্গে এবং ২৭১ কি.মি সীমান্ত মিয়ানমারের সঙ্গে। মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কি.মি সীমান্তের মধ্যে কোনো স্থানে কোনো বিরোধ নেই। ভারতের সঙ্গেও বর্তমানে কোনো সীমান্ত বিরোধ নেই। ভারতের সঙ্গে ছিটমহল, অপদখলীয় ভূমি অচিহ্নিত সীমানা ইত্যাদি বিষয়ে যে বিরোধ ছিল তা ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফেনীর মুহুরী নদী এলাকা ব্যতীত সকল সীমান্ত এলাকার সীমানা পিলার স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। মানুষ সহিংসতা, হত্যা এবং ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এদিকে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোন সহিংসতা, হত্যা এবং ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের চলমান ৪৬টি প্রকল্প যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। আমাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  আমাদের থানাও বাড়ছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাটে পুলিশের দায়িত্বও বাড়ছে। কারণ সংসদ সদস্যরা প্রতিনিয়ত তাদের নির্বাচনী এলাকার থানাগুলোতে যানবাহন বৃদ্ধির কথা বলেন। সেই কারণে বাজেটে আমাদের জন্য বরাদ্দ আরো বেশি প্রয়োজন আছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, আমরা যদি দেশের নিরাপত্তা সঠিকভাবে দিতে না পারি তাহলে দেশের সব উন্নয়নই থমকে যাবে। আমরা যদি ব্যবসায়ীদের শিল্প-কারখানা নিরাপত্তা দিতে পারি, হাইওয়ের নিরাপত্তা দিতে না পারি, জনগণ যদি শান্তিতে ঘুমাতে না পারে। তাহলে আমরা মনে করি, আমাদের সব উন্নয়ন ব্যাহত হবে। বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেসময় তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সরকার তা  কঠোর হস্তে দমন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পরিবেশ থেকে বের করে এনে দেশকে একটি সক্ষম দেশে উপনীত করেছি। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাসহ এদেশের জনগণ এটা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ কখনো কোন জঙ্গিকে, বাংলাদেশের মানুষ কোন সহিংসতা, হত্যা এবং ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটা প্রমাণের মাধ্যমেই আজকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আমরা মনে করছি প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এগিয়ে যাচ্ছি। ওই সময়ে যে বর্বরতা লক্ষ্য করেছি, হরতাল-অবরোধের নামে সবকিছুই দেখেছি। তিনি বলেন, পুলিশের সক্ষমতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি। পুলিশকে একটি আধুনিক বাহিনী সাজানোর জন্য। পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ ফায়ার সার্ভিসকে আরো আধুনিক করারও বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উদ্যোগ তুলে ধরেন তিনি।

No comments:

Post a Comment