Sunday, June 12, 2016

জিতে যা বললেন মেসি

প্রথম একাদশে তাকে না দেখে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ‘‌দ্য সোলজার ফিল্ড’‌-‌এর। আরে তাকে দেখতেই তো আসা। এই যে কোচ মার্টিনো আশ্বাস দিয়ে ম্যাচের আগে বললেন, ‘‌মেসি খেলবে’, তার কী হল?‌ কথার খেলাপ করলেন মার্টিনো!‌ মেসি-‌ভক্তদের মিথ্যে আশ্বাস দিয়েছিলেন?‌ এই প্রশ্নগুলো যখন গ্যালারির আনাচে-‌কানাচে, তখনই ইচ্ছে পূরণের আভাস মিলল। ওই, ওই তো সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে ওয়ার্ম-‌আপ করছেন!‌  দেখা মাত্রই গর্জন শিকাগোর গ্যালারিতে!‌ আর তিনি মাঠে নামার পর, গোটা গ্যালারি গুনগুনিয়ে উঠল মনে মনে। আচ্ছা শিকাগোর মানুষ কি বাংলা গান জানে?‌ হয়ত না। যদি জানত, হয়ত ওই মুহূর্তে গেয়ে উঠত, ‘‌ধন্য আমি, ধন্য হে, পাগল তোমার জন্য যে’‌। সত্যি সত্যিই তাকে দেখে এমন গানই গাইতে ইচ্ছে করবে। কারণ, মাঠে নামার পর ৩১ মিনিটে তিনি যা করলেন, তাকে কাব্য বলা চলা। তাকে গানও বলা যায়!‌ চোট সারিয়ে মাঠে ফিরেই হ্যাটট্রিক!‌
কী করে পারেন, এভাবে নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে দিতে?‌ না, চোখাচোখা ভাষণে নিন্দুকদের আক্রমণের ধার ধারলেন না তিনি। বরং বড় স্বাভাবিক শোনাল তার কথাগুলো। বলে দিলেন, ‘‌এর থেকে ভাল সময়ে, মাঠে নামা, শুরু করা সম্ভব ছিল না। পানামা ম্যাচটা ছিল স্নায়ুর চাপের খেলা। যে মাঠে খেলা হয়েছে, তা সাধারণের থেকে একটু বেশি রুক্ষ ও শক্ত ছিল। ঘাসগুলোও অন্য মাঠের তুলনায় একটু বড় বড় ছিল। গ্রুপ শীর্ষে থাকতে হলে, এই ম্যাচটা আমাদের জিততেই হত। আমরা সেটা পেরেছি। এতেই খুশি।’‌ নিজের হ্যাটট্রিক, নিজের পারফরমেন্স— তা নিয়ে কি কোনো কথাই বলার ছিল না?‌ হয়ত ছিল। কিন্তু লিও মেসি বললেন না। ইচ্ছে করেই। ‘‌গত কুড়ি বছরে আমিই সেরা’‌, রোনাল্ডো বলেছেন। সে বিষয়েও পাল্টা জবাব দিলেন না। ইচ্ছে করেই। যা জবাব দেয়ার মাঠেই দেবেন, ঠিক করেছেন। যেমন দিলেন শনিবার। সত্যি গ্রেটরাই পারেন এমন সংযম দেখাতে!‌ সত্যি মেসিই পারেন এমন বিনয়ী হতে!‌ ‌

No comments:

Post a Comment