Wednesday, June 29, 2016

তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৩৬

মুহূর্তেই রক্তে সয়লাব  ইস্তাম্বুলে কামাল আতাতুর্ক আন্তজার্তিক বিমানবন্দর। সন্ত্রাসী হামলায় ঝরে গেল কমপক্ষে ৩৬টি প্রাণ। আহত হন কমপক্ষে ১৪৭ জন। এতে পুরো বিমানবন্দরে নেমে আসে এক মৃত্যু আতঙ্ক। কোন মতো জীবন বাঁচাতে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটতে দেখা গেছে যাত্রী, পরিদর্শনকারীদের। এ আতঙ্ক গ্রাস করেছে পুরো তুরস্ককে। হামলার নিন্দায় ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপী। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করে নি কোন পক্ষ বা ব্যক্তি। মঙ্গলবার এ হামলায় অংশ নেয় তিন জন। তারা বিমানবন্দরের টার্মিনাল প্রবেশ পথে প্রথমে গুলি করা শুরু করে। জবাবে পুলিশও তাদের দিকে গুলি করে। ততক্ষণে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে কমপক্ষে ৩৬ জনকে। পুলিশ তাদের দিকে গুলি ছুড়ছে তারা নিজেরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করে। এর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্তাম্বুলের মধ্যে চলাচলকারী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এ হামলার জন্য তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিম প্রথম দিকে ইঙ্গিত করেন ইসলামিক স্টেটের দিকে। তবে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন নি কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে।
বাংলাদেশে বুধবার সেহরির সময় সিএনএন টেলিভিশন ওই হামলা নিয়ে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করে। তাতে দেখা যায়, হামলার পর বিমানবন্দরের যাত্রীরা প্রাণপণ ছুটছেন। একজন সাদা শার্ট পরিহিত নিরাপত্তা রক্ষাকারী একজন যাত্রীদের দ্রুত দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান করছেন হাত নেড়ে। এম্বুলেন্স, পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল। নিহত ও আহতদের দ্রুত এম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল হাসপাতালে। সকালে সম্প্রচার করা এক খবরে একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। তাতে একজন ব্যক্তিকে দেখা যায় দৌড়াচ্ছে। অকস্মাৎ সে পড়ে যায়। তার গায়ে পুলিশের গুলি লেগে থাকতে পারে। ধারণা করা হয়, ওই ব্যক্তি হামলাকারীদের একজন। সে মারা যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি কালাশনিকভ রাইফেল পায়। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কে যেসব বোমা হামলা হয়েছে তার সঙ্গে জড়িত হয়তো ইসলামিক স্টেট না হয় কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। বিবিসির সাংবাদিক মার্ক লোয়েন বলেছেন, মঙ্গলবারের এ হামলাটি বড় ধরণের পরিকল্পনা মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে। উল্লেখ্য, কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন সন্ত্রাসীদের টার্গেটে আছে বলে দেখা হচ্ছিল। এ বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ পথে রয়েছে এক্সরে স্ক্যানার। তা সত্ত্বেও কিভাবে সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ অস্ত্রী নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, টার্মিনালে প্রবেশ পথে এক্সরে স্ক্যানার থাকলেও গাড়ির নিরাপত্তা চেকের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান বলেছেন, এ হামলা বিশ্বব্যাপী জঙ্গি গ্রুপগলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেছে। এক্ষেত্রে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমেয়ার বলেছেন, আমরা ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা তুরস্কের সঙ্গে আছি। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ইয়িলদিরিম বলেছেন, নিহতদের মধ্যে কিছু বিদেশী থাকতে পারেন। আইনমন্ত্রী বেরি বোজদাড় বলেছেন, আহতের সংখ্যা ১৪৭। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল টুইটে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপিয় ইউনিয়নের ব্রাসেলস সম্মেলন থেকে। তাতে তিনি লিখেছেন, ইস্তাম্বুলের হামলার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের সমবেদনা। নৃশংস এ হামলার নিন্দা জানাই। উল্লেখ্য, মার্চে তার দেশের রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। ওদিকে ডিসেম্বরে ইস্তাম্বুলের ভিন্ন আরেকটি বিমানবন্দর সাবিহা গোকিনের টারমার্কে বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তাতে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল কুর্দি গ্রুপ কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস। এ বছরেই ৭ই জুন তুরস্কে গাড়িবোমা হামলা চালায় কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস। এতে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৭ জনই পুলিশ সদস্য। ৪ জন বেসামরিক মানুষ। ১৯শে মার্চ একটি শপিং এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। তাতে নিহত হন ৪ জন। এ হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। ১৩ই মার্চ আঙ্কারায় গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হন। এর দায় স্বীকার করে কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস। ১৭ই ফেব্রুয়ারি আঙ্কারায় সামরিক বাহিনীর একটি বাসে হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ২৯ জন নিহত হন। এর দায় স্বীকার করে কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস। ১২ই জানুয়ারি ইস্তাম্বুলে একটি পর্যটন এলাকায় সিরিয়ার বোমারু হামলা চালায়। তাতে ১১ জন জার্মান নিহত হন। ২০১৫ সালের ২৩শে ডিসেম্বর ইস্তাম্বুলে সাবিহা গোকিন বিমানবন্দরে বোমা হামলা করা হয়। তাতে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী নিহত হন। এর দায় স্বীকার করে কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস। ১০ই অক্টোবর আঙ্কারায় একটি রেল স্টেশনের বাইরে শান্তি সমাবেশে বোমা হামলা করা হয়। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। এর দায় স্বীকার করে আইএস। ২৩শে জালুই সিরিয়া সীমান্তের কাছে সুরুকে একটি কুর্দি শহরে বোমা হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ৩৪ জন। এ হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

No comments:

Post a Comment