সমকামীদের
নাইটক্লাবে হত্যাযজ্ঞে কাঁদছে অরল্যান্ডো। শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন স্বজন
হারানো মানুষগুলো। নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার রাতে কয়েক
হাজার মানুষ। লস অ্যানজেলেস টাইমস জানিয়েছে, রোববারের ওই সন্ত্রাসী হামলায়
নিহতের সংখ্যা ৫০ নয়। ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফলে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অরল্যান্ডোতে সোমবার রাতে
যখন শোকার্ত হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন তখন চার্চ থেকে ৪৯ জন নিহতের
উদ্দেশ্যে ৪৯ বার বেল বাজানো হয়। রোববার ২৯ বছর বয়সী ওমর মতিন অরল্যান্ডোতে
পালস নামের সমকামীদের নাইটক্লাবে প্রবেশ করে সেখানে গণহত্যা চালায়। তার
জন্ম নিউ ইয়র্কে। তার পিতামাতা আফগান। হত্যাকাণ্ডে সে ব্যবহার করে অ্যাসল্ট
রাইফেল ও হ্যান্ডগান। এগুলো সে যথাযথ আইন অনুযায়ী সম্প্রতি কিনেছিল। ঘটনার
সময় তার কাছে আরও একটি ডিভাইস ছিল। তবে সেটা কি তা নিশ্চিতভাবে জানা
যায়নি। ইসলামিক স্টেটের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে
কিনা তা তদন্ত করছে তদন্তকারীরা। এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমি বলেছেন, ওমর
মতিন ইসলামিক স্টেটের বিরোধী ইসলামিক গ্রুপগুলোর সঙ্গে এর আগে সংহতি প্রকাশ
করেছিল। এক সময় মতিন ছিল এফবিআইয়ের টেরর ওয়াচ লিস্টে। এ জন্য দুবার তাকে
জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে কেন আটক রাখা হয়নি, বা
কেন তার ওপর নজরদারি করা হয়নি তা নিয়ে নানা বিতর্ক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ওদিকে অরল্যান্ডোর ঘটনাস্থলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যাওয়ার কথা রয়েছে
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। সোমবার রাতে অনেক মানুষ নিহত ও আহতদের উদ্দেশে
শ্রদ্ধা জানাতে অরল্যান্ডোর ড. ফিলিপস সেন্টারের সামনে জড়ো হয়েছিলেন; তাদের
হাতে ছিল রঙধনু চিহ্ন, রঙধনু পতাকা। সেখানে মুসলিম, এলজিবিটি ও লাতিনো
সম্প্রদায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা পালস নাইটক্লাবে নৃশংস
হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন ব্রিটানি টোরেস (১৮)।
তার দু’বন্ধু সিমন আদ্রিয়ান ক্যারিলো ফার্নান্দেজ ও অস্কার
আরাসেনা-মন্টেরোকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সম্মানে টোরেস একটি চিহ্ন তৈরি
করেছেন। নিহত দুজনের মধ্যে একজন তার ম্যাকডোনাল্ড অফিসের ব্যবস্থাপক। তার
হাত ধরেই টোরেসের জীবনে সফলতা এসেছে। তাই তিনি বন্ধুর কথা স্মরণ করতেই
কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার বোন লেসলি কোলন (২৬)। তিনি বাসায় তৈরি একটি
স্মরণচিহ্ন নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন ওই সমাবেশে। তিনি পালস ক্লাবকে একটি বিশেষ ও
নিরাপদ স্থান হিসেবে স্মরণ করেন। সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন ম্যাডেলিন বায়েজ
(৪৪)। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এই স্মরণসভায় যোগ দিয়েছেন। কারণ, তারা
মনে করছেন নিহত ও আহতরা তো তাদেরও সন্তান হতে পারতেন।
Monday, June 20, 2016
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment