জাপানের হোক্কাইডু অঞ্চলের বনে গত সপ্তাহে
হারিয়ে যাওয়া এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির উদ্ধারকর্মীরা এই
দাবি করেছেন। শাস্তি হিসেবে গত সপ্তাহে নিজেদের ছেলেকে বনে ফেলে আসেন তার
মা-বাবা। বিবিসি জানায়, সাত বছর বয়সী ছেলে ইয়ামাটো তানোকাকে হোক্কাইডুর
কাইয়াব অঞ্চলের শিকাব শহরের কাছে পাওয়া যায়। জাপানের সামরিক কর্মকর্তারা
বলেন, স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
জাপানের বিশেষ বাহিনী এসডিএফের এক সদস্য বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে
শিশুটিকে পাওয়ার কথা জানান। জাপানের এনএইচকে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক
বাহিনীর এক সদস্যের কাছে ইয়ামাটো তানোকা নিজের পরিচয় জানায়। এডিএফের
মুখপাত্র মানাবু তাকেহারা এএফপিকে বলেন, উদ্ধারের সময় শিশুটির স্বাস্থ্য
যথেষ্ট ভালো ছিল। এর পরও খাবার ও পানীয় দিয়ে হেলিকপ্টারে তাকে হাসপাতালে
নেওয়া হয়েছে। সন্তান হারানোর পর ইয়ামাটো তানোকার মা-বাবা প্রথমে বলেছিলেন,
তাঁরা সবজি খুঁজছিলেন। ওই সময় তানোকা হারিয়ে যায়।
![]() |
| ৭ বছরের শিশু তানোকা |
পরে অবশ্য তাঁরা স্বীকার
করেন, পাথর ছোড়ার শাস্তি হিসেবে তানোকাকে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ
পরই ছেলেকে ফিরিয়ে নিতে যান তাঁরা। তবে ওই সময় তানোকাকে আর খুঁজে পাওয়া
যায়নি। তানোকার মা-বাবা বলেন, তার কাছে কোনো খাবার ও পানি ছিল না। পরনে ছিল
শুধু দিনের পোশাক। ইয়ামাটো তানোকার খোঁজে বিশেষ এসডিএফ বাহিনীর সদস্যসহ
বিভিন্ন পেশার লোকদের নিয়ে উদ্ধারকারী দল গঠন করা হয়। বাদামি ভালুকের
বাসস্থান বলে পরিচিত হোক্কাইডুর প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে এক সপ্তাহ ধরে উদ্ধার
অভিযান চলে। এ সময়ে শিশুটির কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি। তাই শিশুটি উদ্ধারের
আশা ছেড়েই দেওয়া হয়েছিল। জাপানের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়ামাটোর মা-বাবা
শিশুকে বনে ফেলে আসার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায়
ওই মা-বাবার বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ আনা হতে পারে।


No comments:
Post a Comment