বেসরকারি
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
পর্যায়ের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং বোর্ডের
প্রো-বিধানমালা ২০০৯ এর ৫(২) ধারা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ফলে সংসদ সদস্যরা বেসরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির সভাপতি
হতে পারবেন না। এ সংক্রান্ত জারি করা একটি রুলের শুনানি করে বুধবার এই রায়
দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহুরুল হকের
সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ম্যানিজিং
বোর্ড এবং গভর্নিং বোর্ডের কমিটি চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের
পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেছিল। ওই প্রো বিধানের ৫
ধারার ক্ষমতা বলে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা চারটি বেসরকারি স্কুল ও কলেজের
গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন। এদিকে হাইকোর্ট ওই প্রো
বিধান মালার ৫ ধারা বাতিল ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ভিকারুননিসা স্কুল
অ্যান্ড কলেজের বিশেষ কমিটিও বাতিল করেছে আদালত।
এ বিশেষ কমিটির প্রধান
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
পাশাপাশি ওই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এডপ কমিটি গঠন করতে বলেছে আদালত। এ কমিটি
গঠনের ৬ মাসের মধ্যে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন দেয়ার আদেশ দিয়েছে
হাইকোর্ট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং বোর্ডের
প্রো-বিধানমালার ৫০ এর ৫ ধারায় ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের
গভর্নিং বডির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী
আকন্দ। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই দুটি ধারাকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা
করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ
হাইকোর্ট রায় দিলেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে সারা দেশের বেসরকারি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে এমপিদের থাকার কর্তৃত্ব আর
থাকল না।

No comments:
Post a Comment