মাদারীপুর
সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর
হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে কথিত
বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ফাহিমকে
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিন রিমান্ড চাইলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
করে। যেখানে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে সেই বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচর মাদারীপুর
শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরের একটি নিভৃত গ্রাম। ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা
গেছে, গ্রামের সরু একটি পাকা রাস্তার পাশে একটি পাটক্ষেতে কিছুপাট ভাঙা।
এখান থেকেই উদ্ধার করা হয় নিহত ফাইজুল্লাহ ফাহিমের লাশ। শনিবার দুপুরে
উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচরের যে স্থনে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা
ঘটেছে তার আসে পাশের একাধিক স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা হয়েছে। কথিত
বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল সবচেয়ে নিকটে দু’টি বাড়ি। একটি বেপারী বাড়ি অপরটি
খান বাড়ি। এই বাড়ি দু’টি থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র দেড়শ’ গজ। মিয়ারচর
বেপারী বাড়ির বাসিন্দা শাহ্ আলম বেপারী জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমরা
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন দেখে রাস্তায় গিয়ে দেখি একটি ছেলের লাশ পুলিশ উদ্ধার
করে নিয়ে যাচ্ছে। ওই একই এলাকার আপেল বেপারীর স্ত্রী রাশিদা বেগম বলেন,
আমরা রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পরি। সকালে জানতে পারি পাটক্ষেত থেকে একটি
ছেলে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখানে কোন বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের
জবাবে তিনি বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম যুদ্ধের কোন শব্দ পাইনি।
লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরনে প্যান্ট ও সাদা রঙের গেঞ্জি ছিল। তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। এলাকাবাসী জানায়, মৃতদেহের বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে তারা কোন গোলাগুলির আওয়াজ শুনেনি বা কাউকে পালাতে দেখেনি। মর্গে নেয়ার আগে ফাইজুল্লাহ ফাহিমের দেহ মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সামনে দীর্ঘসময় রাখা হয়েছিল। এ সময় অনেকেই সেখানে ছুটে আসে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, পুলিশ ফাইজুল্লাহকে নিয়ে অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ সময় ফাইজুল্লাহ নিহত হয়। মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার সারোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফাইজুল্লাহ ফাহিম নিজেকে হিজবুত তাহরিরের সদস্য বলে দাবি করেছিল। মাদারীপুরের সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে গত বুধবার বিকালে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তরা মাথায় ও হাতে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ফাইজুল্লাহকে ধরে ফেলে। ওই শিক্ষককে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে এসআই আইয়ুব আলী হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ফাইজুল্লাহসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো- সালমান তাসকিন ওরফে আবুল হোসেন ওরফে সালিম (১৯), শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ (২২), জাহিন (২৩), রায়হান (২৪), মেজবা (২৪)। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সদর থানার এসআই বারেক করিম হাওলাদারকে। মামলার বাদী সদর থানার এসআই আইয়ুব আলী বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত রক্তমাখা পোশাক, হামলায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি ও একটি দস্তানা এবং পরবর্তীতে অভিযানে ফাইজুল্লাহর ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ ও অন্যান্য আলামত থানায় রাখা হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জনগণের হাতে আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম নিজে এবং সালমান তাসকিন ওরফে আবু হোসেন ওরফে সালিম ও শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ ওই শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে। তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে মেজবা, জাহিন ও রায়হানসহ ৩ জনের আরেকটি দল। তারা ঘটনাস্থলের বাইরে পাহারায় ছিল। ঘটনার পর অন্যান্য সকলেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ফাহিম এলাকাবাসীর হাতে ধরা পরে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফাহিমের লাশ কেউ গ্রহণ করতে আসেনি।
লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। তার পরনে প্যান্ট ও সাদা রঙের গেঞ্জি ছিল। তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। এলাকাবাসী জানায়, মৃতদেহের বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে তারা কোন গোলাগুলির আওয়াজ শুনেনি বা কাউকে পালাতে দেখেনি। মর্গে নেয়ার আগে ফাইজুল্লাহ ফাহিমের দেহ মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সামনে দীর্ঘসময় রাখা হয়েছিল। এ সময় অনেকেই সেখানে ছুটে আসে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, পুলিশ ফাইজুল্লাহকে নিয়ে অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ সময় ফাইজুল্লাহ নিহত হয়। মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার সারোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফাইজুল্লাহ ফাহিম নিজেকে হিজবুত তাহরিরের সদস্য বলে দাবি করেছিল। মাদারীপুরের সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে গত বুধবার বিকালে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তরা মাথায় ও হাতে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ফাইজুল্লাহকে ধরে ফেলে। ওই শিক্ষককে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে এসআই আইয়ুব আলী হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ফাইজুল্লাহসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো- সালমান তাসকিন ওরফে আবুল হোসেন ওরফে সালিম (১৯), শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ (২২), জাহিন (২৩), রায়হান (২৪), মেজবা (২৪)। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সদর থানার এসআই বারেক করিম হাওলাদারকে। মামলার বাদী সদর থানার এসআই আইয়ুব আলী বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত রক্তমাখা পোশাক, হামলায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি ও একটি দস্তানা এবং পরবর্তীতে অভিযানে ফাইজুল্লাহর ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ ও অন্যান্য আলামত থানায় রাখা হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জনগণের হাতে আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম নিজে এবং সালমান তাসকিন ওরফে আবু হোসেন ওরফে সালিম ও শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ ওই শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে। তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে মেজবা, জাহিন ও রায়হানসহ ৩ জনের আরেকটি দল। তারা ঘটনাস্থলের বাইরে পাহারায় ছিল। ঘটনার পর অন্যান্য সকলেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ফাহিম এলাকাবাসীর হাতে ধরা পরে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফাহিমের লাশ কেউ গ্রহণ করতে আসেনি।

No comments:
Post a Comment