লিবিয়া
উপকূলে বৃহস্পতিবার ভেসে এসেছে
অন্তত ৮৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা
রেডক্রিসেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে। গত সপ্তাহে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে
যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে তাদের মৃত্যু হয়। পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা শহরের
নিকটবর্তী উপকূলে ভেসে আসে লাশগুলো। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা
যায়নি বলে রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা আল-খামিস আল-বোসাইফি জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে
ভূমধ্যসগারে নৌকা ডুবে কয়েকশ’ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জুয়ারা এবং
উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার সাবরাথা অঞ্চল থেকে নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি
পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রাণহানি ঘটছে।
আল-খামিস আল-বোসাইফি জানিয়েছেন, উপকূলে ভেসে আসা লাশগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে।
এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী।
উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া থেকে প্রতি সপ্তাহে অগণিত সংখ্যক অভিবাসী ইউরোপে
পাড়ি জমান। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান গন্তব্য ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ।
তবে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার সময় প্রায়ই ঘটছে
নৌকাডুবির ঘটনা।
প্রতিবছর শত শত অভিবাসী নৌকাডুবির শিকার হচ্ছেন। এদিকে
ত্রিপলিতে কোস্টগার্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কীভাবে লাশগুলো ভেসে এলো,
তা তাদের বোধগম্য নয়। তার ভাষ্য, গত দুই দিনে ভূমধ্যসাগরে কোনও নৌকা
যায়নি। গত কয়েক বছর ধরেই অনেক নৌকা ভূমধ্যসাগরে ডুবেছে যেগুলোর হদিস
মেলেনি, কিংবা নিহতদেরও পাওয়া যায়নি। যখন নিখোঁজদের স্বজনরা জানান যে,
লিবিয়া থেকে যাত্রার পর তাদের প্রিয়জন আর ফেরেননি তখন নৌকাগুলো ডুবে গেছে
বলে ধারণা করা হয়। চলতি বছরে লিবিয়া উপকূল হয়ে প্রায় ৪০ হাজার
অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালি পৌঁছেছেন। তারা মানবপাচারকারীদের অর্থ দিয়ে
ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় সাগর পাড়ি দেন বলে জানা গেছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত
কয়েক হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন। নিহতদের অধিকাংশই
ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক এবং লিবিয়ার অধিবাসী।

No comments:
Post a Comment