Sunday, July 17, 2016

নতুন 'নাটকের' আশঙ্কা শিবিরের

 ঝিনাইদহ থেকে ৫ শিবির নেতাকর্মীকে আটকের পর পুলিশ তাদের আদালতে হাজির না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ঝিনাইদহে পুলিশের গুম এবং সংখ্যালঘু খুনের প্রকৃত রহস্য যখন জাতির সামনে প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে তখন পরিকল্পিতভাবে আবারো দায়িত্বহীন ও অমানবিকতার আশ্রয় নিয়েছে পুলিশ। তারা বলেন, গত ৫ জুলাই ঝিনাইদহের নিজ বাসা থেকে শিবির নেতা মিলন হোসেন ও শাহিনুর রহমানকে, ১০ জুলাই সাবেক শিবির নেতা রজব আলীকে, ৪ জুলাই আজম হুদাকে ও ৩ জুলাই শিবির নেতা সাইফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার চেষ্টা ও অনুরোধ করার পরও এখন পর্যন্ত তাদের আটকের কথা স্বীকার বা আদালতে হাজির করেনি পুলিশ। আমরা বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পেরেছি, জঙ্গি নিবরাসের সাথে সম্পৃক্ততা আবিষ্কার করার ষড়যন্ত্রে বেআইনিভাবে তাদেরকে গুম করে রেখেছে পুলিশ। নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলিশ বেআইনি কর্মকাণ্ড দ্বারা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে নিরপরাধ ছাত্রদের 'বলির পাঠা' বানাতে চাইছে। কিন্তু দেশবাসী তা মেনে নেবে না। কেননা ঝিনাইদহে একাধিক সংখ্যালঘুকে হত্যার সাথে জঙ্গি নিবরাসের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশবাসী ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মিথ্যাচার ও নির্বিচারে নিরপরাধ শিবির কর্মীদের হত্যার বিষয়টিও জনগণ বুঝে ফেলেছে। তাই দায় এড়াতে ঝিনাইদহে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে চাইছে পুলিশ। আইনের পোশাকে পুলিশের এই বেআইনি অপচেষ্টা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশের এই আচরণ সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। পুলিশের এমন নীতিহীন আচরণে আমাদের মনে নানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। এটা পরিষ্কার যে, নতুন কোনো নাটকের জন্ম দিতেই তাদেরকে গুম করে রেখেছে পুলিশ। কেননা এর আগেও এভাবে গ্রেফতারের পর আটক রেখে নানা নাটক সাজানো হয়েছে। তাছাড়া ঝিনাইদহতেই অনেক ছাত্র-শিক্ষককে বেআইনিভাবে আটকের পর অস্বীকার করে রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পুলিশ। যা আমাদের উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আটকের এতদিন পরও পুলিশের এই অমানবিক আচরণে আটক ছাত্রদের পরিবারের সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, কোন অশুভ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতেই ঝিনাইদহের মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করেছে সরকার ও পুলিশ। সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যেই টার্গেট কিলিংয়ের মধ্যদিয়ে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। একেরপর এক মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে হত্যা করেছে পুলিশ। আর কোনো নিরপরাধ ছাত্রদের নিয়ে কোন প্রকার নাটক বা তাদের সামান্যতম ক্ষতি ছাত্রশিবির মেনে নিবে না। অবিলম্বে আমরা শিবির নেতাদের অবস্থান নিশ্চিত ও তাদের আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

No comments:

Post a Comment