![]() |
| মহেশখালী থানায় হাজির সাজানো গাড়ী নিয়ে বর আব্দু ছালাম। |
স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরী: কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে ঘটেনি এমন ঘটনা বিরল। সিনেমার কাহিনীর মত এমন একটি ঘটনাজন্ম দিলো সেই আলোচিত মহেশখালী । দু’বছর পূর্বে যে কিশোরী মেয়েটি সংবাদ
পত্রের খবরের শিরোনাম হয়েছিল। আজ বিয়ের দিনও আবার তার কপালে জুটল খবরের
শিরোনাম। অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটি গত দু’বছর পূর্বে স্কুলে আসা যাওয়ার
পথে প্রতিবেশী বখাটে যুবকের ইভ্ টিজিং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মা বাবাসহ
সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে বাবার হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল। আজ বিয়ের দিনে এসেও
শিকার হল এক অনাকাংখিত ঘটনার। বিয়ের দিনে বধূ সেজে বসে আছে কনে। বর সেজে
বরযাত্রী নিয়ে বর আসার পথে বিয়ের ১০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে চম্পট দিয়েছে বরের বড়
ভাই। বিয়ের দিনে যাত্রা ভঙ্গ। অবশেষে বরযাত্রী নিয়ে লুন্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার ও
মামলা করতে দুলা গিয়ে হাজির হল থানায়। সিনেমার গল্পের কাহিনীর মত এ ঘটনাটি
ঘটেছে গতকাল ৩১ জুলাই দুপুর ১টায় মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের
দেবাঙ্গা পাড়া গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বরের পারিবারিক সুত্র জানান,
উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গা পাড়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের পুত্র
মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দু ছালামের সাথে একই উপজেলার হোয়ানক বড়ছড়া গ্রামের
আজিজুর রহমানের কন্যা জিয়াসমিন আক্তার মুন্নীর বিয়ের দিন ধার্য ছিল গতকাল
৩১ জুলাই। পূর্বের দিন বর কনে উভয় পরিবারে মেহেদী অনুষ্টানের আয়োজন সেরে
গতকাল রবিবার দুপুরে বর যখন বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ীর উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা
দেয় ঠিক সে মূহুর্তে বর আব্দুস সালামের বড় ভাই ফরিদুল আলম তাদের অপর বোনের
হাতে থাকা স্বর্ণালংকারের ব্যাগ নিয়ে পার্শ¦বর্তী পাহাড়ের দিকে পালিয়ে
যায়। ব্যাগে ১০ ভরি স্বর্ণ, ২ লক্ষ টাকার চেক, ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ছিল
বলে জানান বর পক্ষের লোক জন। জানাগেছে, বড় ভাই ফরিদুল আলম ছোট ভাইয়ের এ
বিয়ের সওদা কিনতে যাওয়ার সময় অভিমান করছিল। পরে ভাই বোন সবাই মিলে বড় ভাইকে
বিয়েতে কেনাকাটা করার সময় রাজি করে। এ ঘটনার পর বড় ভাইসহ মিলে বিয়ের
দিনক্ষণ টিক করে রাখে। তবুও তার মনের ক্ষোভ মেঠাতে বিয়ের দিনে ছোট ভাইয়ের
প্রতি প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা করেছে বলে মন্তব্য করছে বরযাত্রিরা। এ ঘটনার
পর বর আব্দু ছালাম বরযাত্রী নিয়ে সোজা হাজির হয় মহেশখালী থানায়। সে পুলিশের
নিকট লুন্ঠিত র্স্বণ উদ্ধারের জন্য সহায়তা চেয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
নিচ্ছিল বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য কনে জিয়াছমিন আক্তার উপজেলার হোয়ানক
বহূমূখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ সালে এসএস সি পাশ করে। ২০১৩ সালে প্রতিবেশী
জনৈক বখাটে ছেলে তাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে উত্যাক্ত করার প্রতিবাদ করায়
সন্ত্রাসীরা তার মা ও তাকে মেরে রক্তাক্ত করে এবং তার বাবাকে হাত ভেঙ্গে
দিয়েছিল। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়ে এখনো বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি
বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ট কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা মেয়ে জিয়াছমিনকে মালয়েশিয়া
প্রবাসী আব্দু সালামের সাথে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মহেশখালী থানায়
উপস্থিত হয়ে দেওয়া সাক্ষাতকারে মনে হয়েছে অপরদিকে ১০ভরি স্বর্নের মধ্যে
হাওলাত নেওয়া স্বর্ণ ছিল। যা ঘটানোর পিছনে যে কোন অপর একভাই ও কোনের
সংশ্লিণ্টতা থাকতে পারে। গতকাল মহেশখালী থানায় হাজির হয়ে বরের মা নুর জাহান
ও বোন মোতাহেরা বেগম দাবী করেন, বড় ভাই ফরিদ অভিমানের প্রতিশোধ নিতে এমন
ঘটনা ঘটিয়েছে। বড় ভাই ফরিদুল আলম অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের
ব্যাগটি নিয়ে যায় বলে জানান।

No comments:
Post a Comment