পার্বত্য
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু
লারমা) বলেছেন, স্বাধীনতার পঁয়তাল্লিশ বছর পরও আদিবাসীরা বিচ্ছিন্ন
জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তাদের এই বিপর্যয়ের জন্য শাসকগোষ্ঠী দায়ী।
গতকাল আন্তজার্তিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর সিরডাপ
মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সন্তু লারমা বলেন, বর্তমান সরকার যদি সত্যি
আদিবাসীদের প্রতি আন্তরিক হয় তাহলে আদিবাসীদের বসবাসের স্থান রিজার্ভ
অঞ্চলে পরিণত করতেন না। সরকার যদি গণতান্ত্রিক হয় তাহলে মধুপুরের সেই
আদিবাসীদের ফরেস্ট ভিলেজার হিসেবে জীবনধারণ করতে হতো না। তিনি বলেন,
পার্বত্য অঞ্চল দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সরকার বরাবরই এ অঞ্চলের সঙ্গে
উপনিবেশিক আচরণ করে আসছে। আমরা চারদিকে অন্ধকার দেখি, নিরাপত্তহীনতায়
ভুগছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও আদিবাসীদের অধিকার
বাস্তবায়িত হয়নি। শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে অদিবাসীদের অনাস্থা এবং অবিশ্বাসের
সম্পর্ক। আদিবাসীরা যে সম্মান, মর্যাদা অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায় বর্তমান
শাসক গোষ্ঠীর কাছ থেকে আমি সেটা আশা করি না। সরকার যদি এভাবে আমাদের শাসন
করে তাহলে আমরা আর বাঁচতে পারবো না। আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের
টেকনোক্র্যাট সদস্য সঞ্জীব দ্রং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ৯ই আগস্ট
বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। এ বছর জাতিসংঘ
ঘোষিত আদিবাসী দিবসের মূলসুর হলো আদিবাসীদের শিক্ষার অধিকার। তবে আদিবাসী
ফোরাম জাতিসংঘের এই মূলসুরের সঙ্গে মিল রেখে সংসদীয় ককাশ নির্ধারণ করেছে,
আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবিকার অধিকার। লিখিত প্রবন্ধে সঞ্জীব দ্রং
বলেন, সাবধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও এখনও সাঁওতাল-ওঁরাও-মুণ্ডরা তাদের শত
বছরের আবাদি জমি হারায়। তাদের নিজ ভিটা মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। তারা
আইনের আশ্রয় পায় না। দেশের ত্রিশ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক
স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ক্রমাগতভাবে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কেড়ে
নেয়া হয়েছে। একসময় যেসব অঞ্চলে আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল সেখানে রাজনৈতিক
কারণ ও পপুলেশন ট্রান্সফারের ফলে আদিবাসী জনগণ নিজভূমিতে সংখ্যালঘুতে
পরিণত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, গারো পাহাড়, উত্তরবঙ্গ, গাজীপুর, মধুপুর
বনাঞ্চল, পটুয়াখালী-বরগুনা, খাসিয়া অঞ্চল সর্বত্র আদিবাসীরা তাদের ঐতিহ্যগত
ভূমি ও বন হারিয়েছে। আদিবাসীদের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা,
এখন আত্ম-পরিচয় ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে
পড়েছে। লিখিত প্রবন্ধে সঞ্জীব দ্রং আন্তর্জাতিক আদিবাসী দশকের কয়েকটি
সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে
নীতি-নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব
নিশ্চিত করা। আদিবাসী জীবনধারাকে সরাসরি প্রভাবিত করে এমন সকল ক্ষেত্রে
সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায় আদিবাসী জাতিসমূহের মতামত গ্রহণ করা। আদিবাসী
জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যতার সঙ্গে যথাযথভাবে সঙ্গতি রেখে উন্নয়ন নীতি গ্রহণ
করা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment