অবশেষে
মারা গেলো বানের জলে ভেসে আসা ভারতীয় বুনো হাতি বঙ্গ বাহাদুর। গতকাল সকালে
সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামে কর্দমাক্ত খোলা মাঠেই
ডাণ্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায়ই হাতিটির মৃত্যু হয়। এ সংবাদে এলাকার শত শত
নারী-পুরুষ শেষবারের মতো হাতিকে দেখার জন্য ছুটে আসেন। জানা যায়, হাতিটি গত
২৮শে জুন ভারতের আসাম রাজ্য থেকে দলছুট হয়ে বানের পানিতে ভেসে আসে। পরে
ব্রহ্মপুত্র নদ বেয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে বগুড়ার
সারিয়াকান্দি হয়ে যমুনা পাড়ি দিয়ে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মনসুরনগর
ইউনিয়নের দুর্গম ছিন্নারচরে ১১ দিন অবস্থান করে। ২৭শে জুলাই হাতিটি
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রবেশ করে। এরপর দেশীয় উদ্ধারকারী দলের
পাশাপাশি ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল হাতিটিকে বারবার উদ্ধারের চেষ্টা
চালিয়ে ব্যর্থ হয়। গত বৃহস্পতিবার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামে হাতটিকে
প্রথম দফায় ট্রাঙ্কুলাইজ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়। কিন্তু হাতিটি পাশের
ডোবায় পড়ে গেলে এলাকাবাসীর সহায়তায় রশি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে ডাঙ্গায় তুলে
গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় দুদিন
সেখানেই অবস্থান করে। রোববার সকালে হাতিটি ছুটে গেলে আবারও দ্বিতীয় দফায় পর
পর ৪ বার ট্রাঙ্কুলাইজ করে অজ্ঞান করার চেষ্টা করা হয়। এরপর হাতিটি ঝিমিয়ে
পড়লে পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি, শিকল ও রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। খোলা মাঠে প্রচণ্ড
রোদ আর ট্রাঙ্কুলাইজ করায় হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
উদ্ধারকারী দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল বড় দুই পোষা হাতি সরিষাবাড়ী পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু হাতিটির অবস্থা বেগতিক বুঝে রওনা দেয়া হাতি দুটি ফেরত নেয়া হয়েছে বলে ঢাকার বন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-প্রধান বনসংরক্ষক ড. তপন কুমার দে জানান। সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বলেন, হাতিটির ময়নাতদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটি কয়রা গ্রামেই মাটিতে পোঁতা হবে। এ বিষয়ে কামরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল বড় দুই পোষা হাতি সরিষাবাড়ী পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু হাতিটির অবস্থা বেগতিক বুঝে রওনা দেয়া হাতি দুটি ফেরত নেয়া হয়েছে বলে ঢাকার বন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-প্রধান বনসংরক্ষক ড. তপন কুমার দে জানান। সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বলেন, হাতিটির ময়নাতদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটি কয়রা গ্রামেই মাটিতে পোঁতা হবে। এ বিষয়ে কামরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment