শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)
ঈদগাঁও-গোমাতলী-চৌফলদন্ডী দুটি সড়কের ১৫/১৬ কিলোমিটার বেহাল হয়ে পড়েছে।
মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পার্শ্ববর্তী জালালাবাদ, ইসলামাবাদ ও
পোকখালী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ঐ ১৫/১৬ কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে
সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে এ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী পথচারী,
যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার ও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
করতে হচ্ছে তাদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্ধ না থাকায় কাজ
শুরু হচ্ছে না। এ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী আমজাদ হোসেন, মোঃ রুবেলসহ আরো
অনেকেই জানান, বাঁশঘাটা থেকে গোমাতলী বাজার পর্যন্ত সড়কটির বেশিদূর
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ সড়কের পাহাশিয়াখালী, পশ্চিম
পাহাশিয়াখালী, রাবারড্যাম রাস্তার মাথা, ভুইল্যার টেক, টেকপাড়া, ইছাখালী,
পূর্ব ইছাখালী, নতুন বাজার, বাংলা বাজার, পূর্ব গোমাতলী এলাকায় ২০/৩০টি
স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী সড়কের বঙ্কিম
বাজার পয়েন্টটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার
মানুষ। সেখান থেকে বশিরের দোকান, পালাকাটা, শুক্কুরের দোকান, নতুন মহাল,
কালু ফকির পাড়া, খামার পাড়া, চৌফলদন্ডী বাজার পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে বড় বড়
গর্তের। মাঝে-মধ্যে গোমাতলী সড়কটি সংস্কার করা হলেও ৪/৫ বছর ধরে সংস্কার না
হওয়ায় দারুন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী পোকখালী
ইউনিয়নবাসীকে। বড় বড় গর্ত রাস্তার কিনারা ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচল কষ্টকর হয়ে
পড়ছে। যে স্থানগুলো বেশি খারাপ, সেখান দিয়ে সাধারণ যানবাহন তো দূরের কথা,
সাধারণ মানুষ ও চলাচল করতে দারুন হিমশিম খাচ্ছে। কোন কোন স্থানে এতই খারাপ
যে, চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। চালকেরা অনেক স্থানে রাস্তার পাশের মাটির
উপর দিয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে একাধিকবার সড়ক দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।
গোমাতলীর বাসিন্দা জসিম উদ্দীন বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারনে তারা
প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। কয়েকদিন আগে একজন রোগী নিয়ে যাওয়ার সময়
চরম বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। টমটম চালক মোঃ আলম, মোস্তাক, সিএনজি চালক রেজাউল,
রমজানসহ একাধিক চালক জানান, ঈদগাঁও থেকে গোমাতলী যেতে ২০ মিনিটের রাস্তা
পারাপার হতে হচ্ছে এক ঘন্টা তার চেয়ে বেশি দেড় ঘন্টা। যাত্রী বোঝাই করে
রাস্তায় গাড়ী চালানো যায় না। অনেকটাই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যে
কারনে রাস্তার পাশে কাঁচা অংশ দিয়ে যান চালাতে গিয়ে অনেকবার খাঁদে পড়ে
যায়। অপরদিকে চৌফলদন্ডী সড়কটি টেন্ডার হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার না
হওয়ায় দারুন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। কক্সবাজার সদরের এলজিইডি
অফিস সূত্রে জানা যায়, সড়কগুলো সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে। একটি সড়কে কাজ চলছে। অন্যটির বাজেট বরাদ্ধ আসলে আগামী কয়েক মাসের
মধ্যে সংস্কার করতে দরপত্র আহবান করা হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment