যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত শীর্ষ কয়েকজনের সন্তানদের গতিবিধি নজরদারিতে আনা হয়েছে। এক গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বিশেষ প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থাটি তাদের সুপারিশে জানায়, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহীল আমান আজমী, মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজির মোমেন নিজামী, মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আরমান বিন কাশেম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীর কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখার জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে। এর ভিত্তিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মীর কাসেম আলীর রিভিউ শুনানিকে কেন্দ্র করেই ওই প্রতিবেদন দেয়া হয়। এতে মীর কাসেম আলীর বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়। বিশেষ প্রতিবেদনে মন্তব্য কলামে বলা হয়েছে, মীর কাসেম আলীর মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে আপিল বিভাগের সপ্তম রিভিউ রায়। তিনি জামায়াতের অর্থদাতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাকে রক্ষা করতে জামায়াত-শিবির ও জামায়াত সমর্থিত বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে পারে। এ জন্য বিশেষ প্রতিবেদনে দেয়া সুপারিশে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সংগঠন ও প্রগতিশীল নেতাকর্মীদের রাজপথে সরব থাকার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের ১৭ই জুন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে মতিঝিলের নয়াদিগন্ত কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২রা নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। ওই রায়ে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনা ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে অভিযোগ ১১ এ সর্বসম্মতিক্রমে ও অভিযোগ ১২ এ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং অন্য আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে ২০১৬ সালের ৮ই মার্চ মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়। পরে ৬ই জুন লিখিত রায় প্রকাশ হলে ১৯শে জুন আসামিপক্ষ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করে। এর ভিত্তিতে ২৫শে জুলাই রিভিউ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন আসামিপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ২৪শে আগস্ট পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment