Wednesday, August 10, 2016

শোকে স্তব্ধ পাকিস্তান, দায় স্বীকার আইএস ও তালেবানের: ৭ দিনের শোক, ৩ দিনের ধর্মঘট

হাসপাতালে ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ার পর শোকে স্তব্ধ পাকিস্তান। সোমবার কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে ওই হামলা চালায় জঙ্গিরা। একইসঙ্গে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিকে তালিবান পাকিস্তানের একটি অংশ দ্য জামা’আতুল আহরার এবং আইএস সোমবার প্রথমে বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিলাল আনোয়ার কাসিকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তার লাশ নেয়া হয় সিভিল হাসপাতালে। এ সময় সেখানে শোকার্ত জনতার ভিড় জমলে জরুরি বিভাগেই শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে সাংবাদিক, আইনজীবীসহ কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ হামলার পরপরই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ নিন্দা জানিয়েছেন। ওদিকে প্রথমে আইনজীবী কাসি’কে টার্গেট করে হত্যা ও পরে হাসপাতালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে জামা’আতুল আহরার। একই সঙ্গে এর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক’কে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলা ছিল আত্মঘাতী। এর দায় স্বীকার করেছে আইএস। তারা বার্তা সংস্থা আমাক-এ জানিয়েছে, ‘কোয়েটায় আইন মন্ত্রণালয়ের ও পাকিস্তানি পুলিশের সদস্যদের এক জমায়েতস্থলে শরীরে বেঁধে রাখা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএসের এক শহীদ’। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারাও মনে করছেন, প্রথমে কাসি ও পরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী জড়িত। উল্লেখ্য, নিহত ৭০ জনের মধ্যে ৫৫ জনই আইনজীবী। এর মধ্যে রয়েছেন বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বাজ মুহাম্মদ কাকার, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ কাহির শাহ, অ্যাডভোকেট সাঙ্গাত জামালদানি, অ্যাডভোটেক দাউদ লাসি প্রমুখ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কমপক্ষে দুজন ক্যামেরাম্যান। তারা হলেন- আজ টিভির শাহজাদ খান ও ডন নিউজের মেহমুদ খান। সোমবার ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যখন বিস্ফোরণ হয় তখন সেখানে এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় মৃতদেহ। রক্তে ভেসে যায় মেঝে। তার মাঝে বাঁচার আকুতি নিয়ে আর্তনাদ করছেন আহতরা। সে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। চারদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। সে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালের করিডোরে। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে কাচের গুঁড়ো। যারা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তাদেরকে এর ভিতর দিয়েই প্রাণপণ দৌড়াতে দেখা যায়। কেউ হতবিহ্বল হয়ে কান্না শুরু করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী ওয়ালিউর রেহমান বলেছেন, জরুরি ওয়ার্ডে তিনি তার অসুস্থ পিতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণে পুরো হাসপাতাল ভবন কেঁপে ওঠে। এতে তার পিতা ও তিনি দুজনই মেঝেতে পড়ে যান। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ বলেছেন, আইনজীবী কাসি হত্যায় শোক জানাতে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি ভাবতে পারি নি যে, একজনের লাশ দেখতে এসে এত লাশ দেখতে হবে। উল্লেখ্য, কোয়েটার সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আহত অনেককে স্থানান্তর করা হয়েছে অন্য হাসপাতালে।
এক সপ্তাহের শোক ও ৩ দিনের ধর্মঘট পাকিস্তানি আইনজীবীদের
ওদিকে এক সপ্তাহের শোক ও তিন দিন সব আদালতে ধর্মঘট ডেকেছে পাকিস্তান বার কাউন্সিল (পিবিসি) ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)। সোমবার কোয়েটা হামলার প্রতিবাদে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। কোয়েটা হামলায় নিহতদের বেশির ভাগই আইনজীবী। রয়েছেন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ। তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিলাল আনোয়ার কাসিকে হত্যা ও তারপর কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পিবিসি ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক নাসিম ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল ফায়াজ। আইনজীবীদের দু’সংগঠন থেকে আইনজীবী সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ধর্মঘট পালনের জন্য। নিহত ও আহত আইনজীবীদের প্রতি সম্মান জানাতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা করেছে পিবিসি। এ সময়ে আইনজীবীরা তাদের বার রুমে প্রতিবাদ সভা করবেন। তাদের বাহুতে থাকবে কালো রঙের বাহুবন্ধনী।

No comments:

Post a Comment