দেশের
জনসংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি। সম্পদ আহরণ ও ব্যয়ের আকার স্বাধীনতাপূর্ব
অবস্থার চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন সমস্যা-প্রতিকূলতার মধ্যে অর্থনৈতিক
অগ্রগতি লক্ষণীয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, যোগাযোগ, শিল্প ও
তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমরা এগিয়েছি। পেনশনার-অবসর ভোগীদের
বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সঙ্গতি বিশ্লেষণপূর্বক সামাজিক সুরক্ষায় আরো
আর্থিক সুযোগ, অর্থতুল্য পরিষেবা সম্প্রসারণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে
একমাত্র সরকারই। এ প্রসঙ্গে কিছু মৌলিক বিষয়ে বাস্তবতার নিরিখে আলোচনা করা
হলো।
০১. সম্পদ আহরণে অপর্যাপ্ততা হেতু সরকারকে পুঁজির অভাব পূরণে তাৎক্ষণিক প্রদেয় সুদের অঙ্গীকারে জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। পারিতোষিক হিসাবে স্থির হারে নির্ধারিত সময়ের জন্য মুনাফা-আয় পায় পুঁজির মালিকেরা। পেনশনারদের নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের ঝুঁকিবিহীন আশ্রয়স্থল- সরকারি বন্ড, সঞ্চয়পত্র। বিনিয়োগকারী পেনশনারদের অর্থে সরকারি উদ্যোগে ফান্ড সৃষ্টি করে উৎপাদনশীল প্রকল্প স্থাপন করা যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত কার্যক্রম গ্রহণ করলে সুদহারের চেয়ে অধিক গড় মুনাফা আয় হলে বিনিয়োগকারীরা অধিক লভ্যাংশ পাবেন। লাভ-লোকসান ভিত্তিতে ইসলামি ব্যাংকগুলো যথেষ্ট পুঁজি সংগ্রহ করে ব্যবসায় করছে, যা অনুসরণীয়। এ ব্যবস্থা পুঁজি হারানোর ঝুঁকি, সুদহার আয়, মালিকানাবিহীন নির্দিষ্ট আয় থেকে পেনশনারেরা মুক্ত থাকবেন এবং সুদমুক্ত-সম্মানজনক আয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন। লক্ষ করা যায়, অনেক পেনশনার অলস অর্থ, গ্র্যাচুইটির টাকা শেয়ারবাজার-ফটকা ব্যবসায় লগ্নি করে অধিক মুনাফায় খাটাতে গিয়ে পুঁজি খুইয়েছেন। তাই সরকারের পরিকল্পনায় ঝুঁকিবিহীন নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ মাধ্যমই অবসরভোগীদের প্রত্যাশিত।
০২. অর্থমন্ত্রী পেনশন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার সম্পর্কে তার বাজেট বক্তৃতায় উপস্থাপন করেছিলেন। আর্থিক ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিমুক্ত সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু করতে ১৯৭৪ সালের সরকারি কর্মচারী (অবসর) আইন সংশোধন, পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষা চালু করার কথা রয়েছে। বর্তমানে কর্মক্ষম জনগণের সামান্য অংশ পেনশন পায়, পেনশনব্যবস্থার বাইরে রয়েছে অধিক জনগণ। পেনশনব্যবস্থা যুগোপযোগী করার একান্ত প্রয়োজন অবসরভোগীরা উপলব্ধি করেন। তাদের প্রতিধ্বনি অর্থমন্ত্রী সর্বজনীনভাবে অর্থাৎ ব্যাপকভাবে পরিকল্পনার আওতাভুক্ত করতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং কর্মচারীর মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের বছরে দু’টি উৎসবভাতা প্রাপ্যতার বিষয় আগের নিয়ম সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিশেষ এ জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের জন্য অর্থমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সবার কাছে ভুক্তভোগী, সমর্পণকারী, উত্তরাধিকারী ও বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে ভূয়সী প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।
০৩. প্রজাতন্ত্রের পেনশন নীতিমালায় স্বেচ্ছায় অবসর গমনকারীদের সব আর্থিক সুবিধাসহ চিকিৎসাভাতা অনুমোদিত। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কল্যাণ তহবিল থেকে অবসরে যারা যান, তাদের এককালীন চিকিৎসার জন্য অর্থ দেয়া হয়, কিন্তু স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণকারীদের প্রজ্ঞাপন জারি করেই অমানবিকভাবে সে সুবিধা প্রাপ্তি থেকে সুকৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সবার জন্য সরকার ঈদ উৎসবভাতা, চিকিৎসাভাতা অনুমোদন করে থাকে, যা ওইসব প্রতিষ্ঠানের অনুসরণ করা উচিত।
০৪. বৈশাখ আবহমানকালের। বৈশাখকে ঘিরে উৎসবের আমেজে সবাই মেতে ওঠে। বৈশাখের উৎসব সংস্কৃতির অংশ। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের উৎসব-আনন্দে খরচ নির্বাহে বার্ষিক এককালীন ভাতা অনুমোদন করে উৎসবভাতা চালু করেছেন। তার এ উদারতা প্রশংসার দাবিদার। মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবর ২০১৫-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ ভাতা দেয়া হচ্ছে, তবে যারা পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পেনশনের ১০০ শতাংশ বা শতভাগ সমর্পণ করেছেন, তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। উল্লেখ্য, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদেরকে সরকার বার্ষিক উৎসবভাতা ও মাসিক চিকিৎসাভাতা দিয়ে থাকে।
০৫. পেনশনার বা অবসর ভোগীদের কল্যাণে সরকারের অন্যান্য জনহিতকর প্রকল্পের মতো স্বল্পসুদে বা জামানতবিহীন ঋণদানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। নিজের ও পারিবারিক প্রয়োজনে শিক্ষা-চিকিৎসায় ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণসহ শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সঞ্চয়পত্র জামানত হিসেবে লিয়েন বা বন্ধক রেখে ঋণ দেয়ার সুবিধা চালু করা একান্ত জরুরি।
০৬. সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্র সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীরা নির্ধারিত সীমায় ও সময়ের জন্য কিনেন। আগে এ বিশেষ সঞ্চয়পত্র করমুক্ত ছিল। এখন সুদের হার কমিয়ে করযুক্ত করা হয়েছে। যা করমুক্ত রাখা প্রয়োজন। যেসব অবসরভোগীর অন্য কোনো আয় বা উপার্জন ক্ষমতা নেই, তারা স্থির আয়েই পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করেন, তারা করমুক্ত আয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
০৭. পূর্বাপর পে-স্কেল তুলনা করলে বর্তমান অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুমোদন, অর্থসংস্থান ও কার্যকর করা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও কমিশনের জনকল্যাণমূলক ইচ্ছার একান্ত প্রতিফলন, যা প্রশংসনীয়। স্বাধীনতাপূর্ব ও উত্তর সময়ে দ্বিগুণ করে এ ধরনের বেতন স্কেল কোনো সময় হয়নি। সরকার পেনশন নীতিমালা সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে। অবসরভোগীদের জীবনমান স্বাচ্ছন্দ্যের লক্ষ্যে যে গ্রেড থেকে তারা অবসরে গেছেন সে পদবি অনুসারে বর্তমান স্কেলে গ্রেড অনুযায়ী প্রাপ্তব্য বেতন নির্ধারণ করে নতুনভাবে কমিউটেশন বের করে তাদের বোনাস, পেনশনসহ অন্যান্য ভাতা দিয়ে আয়-বৈষম্য কমিয়ে বর্তমান বাজারে তাদের সচ্ছলভাবে বাঁচার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
০৮. মনোনয়ন, মনোনীতক, মনোনীত একই অর্থবহ শব্দের সাথে আমরা পরিচিত। ব্যক্তির ইচ্ছা মতে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতিনিধি বা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব অর্পণে মনোয়ন বা নিযুক্তি দেয়া হয়। ব্যাংকগুলোয় বিভিন্ন জমা হিসাবের জন্য একক ব্যক্তি, যৌথ হিসাবে মনোনয়ন দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার নির্ধারিত ফরম্যাটে অন্যান্য নির্দেশনাবলির সাথে হিসাব ধারকের মৃত্যুর পর হিসাবের অর্থ শতকরা হার অনুযায়ী মনোনীতদের দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোর সঞ্চয়পত্র ক্রয় ফরমে নমিনির নাম-অংশ ইত্যাদি উল্লেখের নিয়ম থাকলেও মৃত্যুর পর অর্থ দেয়ার সুনির্দিষ্ট বিশেষ নির্দেশনা নেই। মনোনীত ব্যক্তির দায়িত্ব অর্থ উত্তোলন করে উত্তরাধিকারীদের বণ্টন করে দেয়া। অতি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে বঞ্চিতদের পক্ষে বিজ্ঞ বিচারকদের অনুসরণীয় রায় রয়েছে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ধারকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকে সে ক্ষেত্রে বিধান কী হবে, ফরম্যাটে সংযোজন করা দরকার। অজ্ঞতাহেতু অনেকের ধারণা নমিনিই শুধু অর্থ পাবেন। অনেকের উত্তরাধিকার আইন বা কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকে না বিধায় বিষয়টি নিশ্চিত ও প্রচ্ছন্ন হওয়া দরকার।
০৯. সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সেবা সম্প্রসারণসহ অবসরভোগীদের কল্যাণে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সুবিধা, ভ্রমণ পাশ, ছাড়মূল্যে পরিবহন টিকিট, পোষ্যদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ, জটিল রোগে আর্থিক ব্যয় নির্বাহে সরকারি অর্থে বা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এবং সিএসআরের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সেবা বৃদ্ধি করতে পারে।
১০. মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোর মৌলিক বিষয়গুলো ব্যাখ্যা না করে অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু উদ্ধৃতি দিয়ে দায়সারাভাবে ইশতেহার ইস্যু করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শাখা অফিসগুলোতে ও সর্বত্র ইশতেহার পৌঁছানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইশতেহারে বর্ণিত বিষয়ে বোধগম্য না হওয়ায় ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়। এতে কালক্ষেপণ হয় এবং যেকোনো প্রাপ্তিতে অবসরভোগীদের ভোগান্তি বাড়ে। ইশতেহারগুলোর পাঠ উদ্ধারের জন্য সহজ ও সাবলীল এবং ব্যাখ্যা সংবলিত হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে সহজেই মূল অর্থ বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।
০১. সম্পদ আহরণে অপর্যাপ্ততা হেতু সরকারকে পুঁজির অভাব পূরণে তাৎক্ষণিক প্রদেয় সুদের অঙ্গীকারে জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। পারিতোষিক হিসাবে স্থির হারে নির্ধারিত সময়ের জন্য মুনাফা-আয় পায় পুঁজির মালিকেরা। পেনশনারদের নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের ঝুঁকিবিহীন আশ্রয়স্থল- সরকারি বন্ড, সঞ্চয়পত্র। বিনিয়োগকারী পেনশনারদের অর্থে সরকারি উদ্যোগে ফান্ড সৃষ্টি করে উৎপাদনশীল প্রকল্প স্থাপন করা যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত কার্যক্রম গ্রহণ করলে সুদহারের চেয়ে অধিক গড় মুনাফা আয় হলে বিনিয়োগকারীরা অধিক লভ্যাংশ পাবেন। লাভ-লোকসান ভিত্তিতে ইসলামি ব্যাংকগুলো যথেষ্ট পুঁজি সংগ্রহ করে ব্যবসায় করছে, যা অনুসরণীয়। এ ব্যবস্থা পুঁজি হারানোর ঝুঁকি, সুদহার আয়, মালিকানাবিহীন নির্দিষ্ট আয় থেকে পেনশনারেরা মুক্ত থাকবেন এবং সুদমুক্ত-সম্মানজনক আয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন। লক্ষ করা যায়, অনেক পেনশনার অলস অর্থ, গ্র্যাচুইটির টাকা শেয়ারবাজার-ফটকা ব্যবসায় লগ্নি করে অধিক মুনাফায় খাটাতে গিয়ে পুঁজি খুইয়েছেন। তাই সরকারের পরিকল্পনায় ঝুঁকিবিহীন নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ মাধ্যমই অবসরভোগীদের প্রত্যাশিত।
০২. অর্থমন্ত্রী পেনশন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার সম্পর্কে তার বাজেট বক্তৃতায় উপস্থাপন করেছিলেন। আর্থিক ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিমুক্ত সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা চালু করতে ১৯৭৪ সালের সরকারি কর্মচারী (অবসর) আইন সংশোধন, পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যবীমা, শিক্ষা চালু করার কথা রয়েছে। বর্তমানে কর্মক্ষম জনগণের সামান্য অংশ পেনশন পায়, পেনশনব্যবস্থার বাইরে রয়েছে অধিক জনগণ। পেনশনব্যবস্থা যুগোপযোগী করার একান্ত প্রয়োজন অবসরভোগীরা উপলব্ধি করেন। তাদের প্রতিধ্বনি অর্থমন্ত্রী সর্বজনীনভাবে অর্থাৎ ব্যাপকভাবে পরিকল্পনার আওতাভুক্ত করতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং কর্মচারীর মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের বছরে দু’টি উৎসবভাতা প্রাপ্যতার বিষয় আগের নিয়ম সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিশেষ এ জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের জন্য অর্থমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সবার কাছে ভুক্তভোগী, সমর্পণকারী, উত্তরাধিকারী ও বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে ভূয়সী প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।
০৩. প্রজাতন্ত্রের পেনশন নীতিমালায় স্বেচ্ছায় অবসর গমনকারীদের সব আর্থিক সুবিধাসহ চিকিৎসাভাতা অনুমোদিত। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কল্যাণ তহবিল থেকে অবসরে যারা যান, তাদের এককালীন চিকিৎসার জন্য অর্থ দেয়া হয়, কিন্তু স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণকারীদের প্রজ্ঞাপন জারি করেই অমানবিকভাবে সে সুবিধা প্রাপ্তি থেকে সুকৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সবার জন্য সরকার ঈদ উৎসবভাতা, চিকিৎসাভাতা অনুমোদন করে থাকে, যা ওইসব প্রতিষ্ঠানের অনুসরণ করা উচিত।
০৪. বৈশাখ আবহমানকালের। বৈশাখকে ঘিরে উৎসবের আমেজে সবাই মেতে ওঠে। বৈশাখের উৎসব সংস্কৃতির অংশ। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের উৎসব-আনন্দে খরচ নির্বাহে বার্ষিক এককালীন ভাতা অনুমোদন করে উৎসবভাতা চালু করেছেন। তার এ উদারতা প্রশংসার দাবিদার। মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবর ২০১৫-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ ভাতা দেয়া হচ্ছে, তবে যারা পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পেনশনের ১০০ শতাংশ বা শতভাগ সমর্পণ করেছেন, তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। উল্লেখ্য, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদেরকে সরকার বার্ষিক উৎসবভাতা ও মাসিক চিকিৎসাভাতা দিয়ে থাকে।
০৫. পেনশনার বা অবসর ভোগীদের কল্যাণে সরকারের অন্যান্য জনহিতকর প্রকল্পের মতো স্বল্পসুদে বা জামানতবিহীন ঋণদানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। নিজের ও পারিবারিক প্রয়োজনে শিক্ষা-চিকিৎসায় ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণসহ শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সঞ্চয়পত্র জামানত হিসেবে লিয়েন বা বন্ধক রেখে ঋণ দেয়ার সুবিধা চালু করা একান্ত জরুরি।
০৬. সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্র সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীরা নির্ধারিত সীমায় ও সময়ের জন্য কিনেন। আগে এ বিশেষ সঞ্চয়পত্র করমুক্ত ছিল। এখন সুদের হার কমিয়ে করযুক্ত করা হয়েছে। যা করমুক্ত রাখা প্রয়োজন। যেসব অবসরভোগীর অন্য কোনো আয় বা উপার্জন ক্ষমতা নেই, তারা স্থির আয়েই পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করেন, তারা করমুক্ত আয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
০৭. পূর্বাপর পে-স্কেল তুলনা করলে বর্তমান অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুমোদন, অর্থসংস্থান ও কার্যকর করা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও কমিশনের জনকল্যাণমূলক ইচ্ছার একান্ত প্রতিফলন, যা প্রশংসনীয়। স্বাধীনতাপূর্ব ও উত্তর সময়ে দ্বিগুণ করে এ ধরনের বেতন স্কেল কোনো সময় হয়নি। সরকার পেনশন নীতিমালা সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে। অবসরভোগীদের জীবনমান স্বাচ্ছন্দ্যের লক্ষ্যে যে গ্রেড থেকে তারা অবসরে গেছেন সে পদবি অনুসারে বর্তমান স্কেলে গ্রেড অনুযায়ী প্রাপ্তব্য বেতন নির্ধারণ করে নতুনভাবে কমিউটেশন বের করে তাদের বোনাস, পেনশনসহ অন্যান্য ভাতা দিয়ে আয়-বৈষম্য কমিয়ে বর্তমান বাজারে তাদের সচ্ছলভাবে বাঁচার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
০৮. মনোনয়ন, মনোনীতক, মনোনীত একই অর্থবহ শব্দের সাথে আমরা পরিচিত। ব্যক্তির ইচ্ছা মতে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতিনিধি বা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব অর্পণে মনোয়ন বা নিযুক্তি দেয়া হয়। ব্যাংকগুলোয় বিভিন্ন জমা হিসাবের জন্য একক ব্যক্তি, যৌথ হিসাবে মনোনয়ন দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলো হিসাব খোলার নির্ধারিত ফরম্যাটে অন্যান্য নির্দেশনাবলির সাথে হিসাব ধারকের মৃত্যুর পর হিসাবের অর্থ শতকরা হার অনুযায়ী মনোনীতদের দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোর সঞ্চয়পত্র ক্রয় ফরমে নমিনির নাম-অংশ ইত্যাদি উল্লেখের নিয়ম থাকলেও মৃত্যুর পর অর্থ দেয়ার সুনির্দিষ্ট বিশেষ নির্দেশনা নেই। মনোনীত ব্যক্তির দায়িত্ব অর্থ উত্তোলন করে উত্তরাধিকারীদের বণ্টন করে দেয়া। অতি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে বঞ্চিতদের পক্ষে বিজ্ঞ বিচারকদের অনুসরণীয় রায় রয়েছে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ধারকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকে সে ক্ষেত্রে বিধান কী হবে, ফরম্যাটে সংযোজন করা দরকার। অজ্ঞতাহেতু অনেকের ধারণা নমিনিই শুধু অর্থ পাবেন। অনেকের উত্তরাধিকার আইন বা কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকে না বিধায় বিষয়টি নিশ্চিত ও প্রচ্ছন্ন হওয়া দরকার।
০৯. সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সেবা সম্প্রসারণসহ অবসরভোগীদের কল্যাণে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সুবিধা, ভ্রমণ পাশ, ছাড়মূল্যে পরিবহন টিকিট, পোষ্যদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ, জটিল রোগে আর্থিক ব্যয় নির্বাহে সরকারি অর্থে বা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এবং সিএসআরের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সেবা বৃদ্ধি করতে পারে।
১০. মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোর মৌলিক বিষয়গুলো ব্যাখ্যা না করে অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু উদ্ধৃতি দিয়ে দায়সারাভাবে ইশতেহার ইস্যু করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শাখা অফিসগুলোতে ও সর্বত্র ইশতেহার পৌঁছানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইশতেহারে বর্ণিত বিষয়ে বোধগম্য না হওয়ায় ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়। এতে কালক্ষেপণ হয় এবং যেকোনো প্রাপ্তিতে অবসরভোগীদের ভোগান্তি বাড়ে। ইশতেহারগুলোর পাঠ উদ্ধারের জন্য সহজ ও সাবলীল এবং ব্যাখ্যা সংবলিত হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে সহজেই মূল অর্থ বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়।

No comments:
Post a Comment