ঈদের
ছুটিতে যারা দল বেঁধে কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দূরে কোথাও যেতে
পারবেন না তাদের জন্য ঢাকার কাছেই দিনে দিনেই ঘুরে আসার মতো সুন্দর একটি
জায়গা থেকে ঘুরে এসে লিখেছেন মো: জাভেদ হাকিম
তিন দিন ছিল সরকারি ছুটি। ভ্রমণের নেশায় আসক্ত মানুষগুলো দল বেঁধে কেউবা নিজের মতো করে ছুটছিল প্রকৃতির সান্নিধ্যে। আমরা যারা নিজে ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের জন্য শুক্র- রোববারের মাঝে শনিবার ছিল বিষফোঁড়ার মতো। তাই দূরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অন্যদের ভ্রমণআনন্দ দেখে মাথা পুরাই নষ্ট। এদিকে ঘুরবাজ বন্ধুরাও দিচ্ছে প্যারা- কি যে করি। অবশেষে সিন্ধান্ত নেই, যে দিকের টিকেট পাবো ওই দিকেই ছুটব। খোঁজ লাগাই বাস কাউন্টারে। জয়পুরহাট, সিলেট, বড়লেখা, বান্দরবান যেকোনো এক জায়গার হলেই হয়। নাহ- কোনো জায়গার টিকেটই কপালে জুটল না। অবশেষে রাত ১১টায় মোটরসাইকেলে তিন ভ্রমণ পাগলু ছুটি মৌলভীবাজার জেলার পুছুম ঝর্ণার পথে। আহারে- আমাদের আর পায় কে? কাঁচপুর ব্রিজে কিছুটা মন্থর গতি, এর পরের ইতিহাস অন্যরকম। ব্রিজ থেকে নেমেই দেখি সিলেট মহাসড়ক পুরাই ফাঁকা। হেসে-খেলে গান গেয়ে একটানে নরসিংদীর ইটাখোলা। চায়ের তৃষ্ণা- পথের পাশে চায়ের স্টলে ব্রেক। তখনো বুঝে উঠতে পারি নাই কি করছি আমরা- কারণ বাইক নিয়ে লং ড্রাইভে আমি নিজেই অন্যদের বারণ করি, আর সেই আমিই কি না যাচ্ছি! কথা ছিল পালাক্রমে তিনজনই ড্রাইভ করব, কিন্তু এখন উল্টো। চা পানে দেহ চাঙা, ভটভটি স্টার্ট। বকরি মোটরসাইকেল হওয়ায় (সাধারণ মানের) রনিকে প্রায় টাংকির উপরে বসেই চালাতে হচ্ছে।
তিন দিন ছিল সরকারি ছুটি। ভ্রমণের নেশায় আসক্ত মানুষগুলো দল বেঁধে কেউবা নিজের মতো করে ছুটছিল প্রকৃতির সান্নিধ্যে। আমরা যারা নিজে ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের জন্য শুক্র- রোববারের মাঝে শনিবার ছিল বিষফোঁড়ার মতো। তাই দূরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অন্যদের ভ্রমণআনন্দ দেখে মাথা পুরাই নষ্ট। এদিকে ঘুরবাজ বন্ধুরাও দিচ্ছে প্যারা- কি যে করি। অবশেষে সিন্ধান্ত নেই, যে দিকের টিকেট পাবো ওই দিকেই ছুটব। খোঁজ লাগাই বাস কাউন্টারে। জয়পুরহাট, সিলেট, বড়লেখা, বান্দরবান যেকোনো এক জায়গার হলেই হয়। নাহ- কোনো জায়গার টিকেটই কপালে জুটল না। অবশেষে রাত ১১টায় মোটরসাইকেলে তিন ভ্রমণ পাগলু ছুটি মৌলভীবাজার জেলার পুছুম ঝর্ণার পথে। আহারে- আমাদের আর পায় কে? কাঁচপুর ব্রিজে কিছুটা মন্থর গতি, এর পরের ইতিহাস অন্যরকম। ব্রিজ থেকে নেমেই দেখি সিলেট মহাসড়ক পুরাই ফাঁকা। হেসে-খেলে গান গেয়ে একটানে নরসিংদীর ইটাখোলা। চায়ের তৃষ্ণা- পথের পাশে চায়ের স্টলে ব্রেক। তখনো বুঝে উঠতে পারি নাই কি করছি আমরা- কারণ বাইক নিয়ে লং ড্রাইভে আমি নিজেই অন্যদের বারণ করি, আর সেই আমিই কি না যাচ্ছি! কথা ছিল পালাক্রমে তিনজনই ড্রাইভ করব, কিন্তু এখন উল্টো। চা পানে দেহ চাঙা, ভটভটি স্টার্ট। বকরি মোটরসাইকেল হওয়ায় (সাধারণ মানের) রনিকে প্রায় টাংকির উপরে বসেই চালাতে হচ্ছে।
গভীর
রাতে সুনসান নিরিবিলি পথে হঠাৎ হঠাৎ বহু চাকার লড়িগুলো যেন সাক্ষাৎ
জমদূতের মতো ভোঁ করে এসে শাঁ করে পাশ দিয়ে চলে যায়। ব্যাপারটা পুরাই ভিন্ন
আঙ্গিকের- লাইভ ফিলিংসে ভরপুর। ভৈরব পৌঁছার ঠিক ১০-১২ মিনিট আগে ঘুটঘুটে
অন্ধকার। আশপাশে জনমানবের বসতি নেই, এমন ভুতুড়ে পরিবেশে পেছনের চাকা
পাংচার, আহ কি মজা। টর্চের আলোতে চাকা নিয়ে গবেষণার নিষ্ফল চেষ্টা অতঃপর
বাইক চড়ল পিকআপের উপর- ওয়াও! ভৈরব গিয়ে দেখি ভলকানাইজিংয়ের দোকান সব বন্ধ।
দুর্জয়ের মোড়ে এক চা দোকানির কাছে বাইক বুঝিয়ে দিয়ে, পাশেই আবাসিক হোটেলের
কেয়ারটেকারকে কেচিগেটে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে তুলি। ম্যানেজার বিরক্ত
হওয়ার আগেই ফাপর দেই। ব্যাস, এবার মুচকি হেসে বয়কে রুম বুঝিয়ে দিতে বলেন।
ভোর হতে মাত্র তিন ঘণ্টা বাকি। ঘুমের বদলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বাইকের যে
হাল, পুছুম পর্যন্ত কি যাওয়া যাবে বা যাওয়া ঠিক হবে কি? অবশেষে পাগলামির
পারদ কমিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসীরনগর পর্যন্ত যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সকাল
সকাল চাকা মেরামত, ডিম-পরোটা দিয়ে ভরপুর নাশতা; অতঃপর ডাবের পানি পানে দেহে
ফুয়েল নিয়ে ছুটছি বি-বাড়িয়ায়। পথে সৈয়দ নজরুল ইসলাম নামক দৃষ্টিনন্দন
সেতুতে কিছুক্ষণ ফটোস্যুট। প্রমত্তা মেঘনা নদীর উপর রেল ও সড়ক সেতু দুটোই
পাশাপাশি। এ রকম চরম ভিউতে কিছু চরম ছবি তুলেই আবার ছুটছি। একাই এতটা পথ
চালিয়ে বন্ধু ক্লান্ত, তাই বি-বাড়িয়ার বিশ্বরোডের কাছাকাছি এক গ্যাস
স্টেশনে বাইক রেখে সিএনজিতে চেপে বসি। বিস্তীর্ণ হাওরের মাঝে পিচঢালা পথ-
ওসম! কাঁচাপাকা ধানের ম ম ঘ্রাণ, যত দূর চোখ যায় শুধু ফসলের মাঠ। ওদিকে
জুমার নামাজের তাড়া, তাই ফটো তুলে সময় নষ্ট না করে এগিয়ে যাই তিতাস নদীর
পাড়ে হরিপুরের দিকে। নামাজ আদায় করে জমিদার কৃষ্ণপ্রসাদ রায় চৌধুরীর বাড়িতে
ঢুকি। নয়নাভিরাম তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছিল বাড়ির স্থাপনা।
দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীই বলে দেয়- জমিদারবাবু খুব শৌখিনদার ছিলেন। ত্রিশ
শতকের বিশ একর নিয়ে গড়া দোতলা বাড়িটি মোট ২০০ কক্ষবিশিষ্ট। এখনো বাড়িটি
হরিপুর গ্রামে শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে জানান দেয়, জমিদার কৃষ্ণপ্রসাদ রায়
চৌধুরীর আভিজাত্য। জমিদারের বংশধরদের কেউ আর এখানে থাকেন না।
এখন
বেশকিছু হিন্দু পরিবারের আবাসস্থল। বাড়িটি সংস্কারের অভাবে দেয়াল থেকে
পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের শেষ ছবি
‘ঘেটুপুত্র কমলা’ ছায়াছবির চিত্রায়ন হয়েছিল। সেবারই স্যুটের প্রয়োজনে
কিছুটা চুনকাম করানো হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে শেখার অন্যতম মাধ্যম হলো ভ্রমণ।
বিশেষ করে রাজা, নবাব, জমিদারদের মহলে গিয়ে একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা
করলেই নিজের ভেতরের পশুত্বকে নির্মূল করা যাবে। কিসের এত বাহাদুরি,
হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিপত্তি কিছুইতো রবে না, যা থাকে তা শুধু যুগ-যুগান্তর
সৎ ও অপকর্মের আলোচনা-সমালোচনা। ইতিহাস থেকে মানুষ শিক্ষা নিলে সমাজ হবে
আরো সুন্দর, আরো বেশি গতিময়। বেশ কিছুটা সময় বাড়িটির ভেতরে-বাইরে ঘুরে
ঘাটলা বাঁধা তিতাসের পানিতে ঝাঁপাঝাঁপি করে শরীরের দাবদাহ কমিয়ে নেই। বেলা
প্রায় ৩টা। পেটে এবার টান পড়েছে, যাই হরিপুর বাজারে। খাই এমন এক হোটেলে,
সেখানে কুলি-মজুররাই খেয়ে থাকে। অথচ খাবারের স্বাদ এখনো লেগে আছে জিবে।
খাবার শেষে খাঁটি দুধের দই চেখে যাই এবার সরাইলের দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামে।
এখানে মোঘল আমলে নির্মিত একটি দর্শনীয় মসজিদ রয়েছে। যার স্থাপত্যকাল ১৬৬২
খ্রিষ্টাব্দ। মসজিদটির আয়তন ৭০′-২০″ দেয়ালের পুরুত্ব ৫′-৬′। ৩৫০ বছর আগে
নির্মিত মসজিদটি দেখতে অনেকটাই তাজমহলের মতো। স্থানীয়রা আঞ্চলিক ভাষায় আইড়ল
মসজিদ নামে ডেকে থাকে। আসরের কসর নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়াই
মসজিদ লাগোয়া দীঘির সামনে। বিশাল আয়তনের দীঘি। সব মিলিয়ে মনে রাখার মতো
ভ্রমণের বেশ কিছু অসাধারণ সুখস্মৃতি নিয়ে আপন নীড়ে ফেরার পথ ধরি।
যোগাযোগ : বিভিন্ন কোম্পানির বাস ও ট্রেন দু’ভাবেই যাওয়া যাবে কমলাপুর থেকে ট্রেনে বা বাসে। এ ছাড়া মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকেও বাসে যাওয়া যাবে। ভাড়া সরাইলের আবদুল কুদ্দুস মাখন (বিশরোড) চত্বর পর্যন্ত বাসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। নাসিরনগর ও সরাইল ভ্রমণে চত্বরে নেমে সিএনজিতে যেতে হবে, ভাড়া নিবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার জন্য ৬০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। সবচেয়ে সুবিধা হবে নিজস্ব গাড়ি বা রিজার্ভ মাইক্রো নিয়ে গেলে, আর গণপরিবহনে গেলে নামতে হবে বিশ্বরোড (মাখন) চত্বরে।
থাকা-খাওয়া : দিনে দিনেই ঘুরে আসা সম্ভব, তবে রাতে থাকতে চাইলে শহরের কুমারশীল মোড়, সড়কবাজার ও নিউ সিনেমা রোডে বেশকিছু মানসম্পন্নসহ কিছু সাধারণ মানের আবাসিক হোটেলও রয়েছে। খাবারের জন্য ভালো মানের রেস্টুরেন্টও পাবেন। তবে আর যাই খান না কেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিখ্যাত স্বাদে ভরা ছানামুখী খেতে কিন্তু ভুল যেন না হয়। পুরনো জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কে আরো বেশি তথ্য জানতে ক্লিক করুন বিশ্বসেরা গুগল ইঞ্জিন সার্চে।
যোগাযোগ : বিভিন্ন কোম্পানির বাস ও ট্রেন দু’ভাবেই যাওয়া যাবে কমলাপুর থেকে ট্রেনে বা বাসে। এ ছাড়া মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকেও বাসে যাওয়া যাবে। ভাড়া সরাইলের আবদুল কুদ্দুস মাখন (বিশরোড) চত্বর পর্যন্ত বাসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। নাসিরনগর ও সরাইল ভ্রমণে চত্বরে নেমে সিএনজিতে যেতে হবে, ভাড়া নিবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার জন্য ৬০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা। সবচেয়ে সুবিধা হবে নিজস্ব গাড়ি বা রিজার্ভ মাইক্রো নিয়ে গেলে, আর গণপরিবহনে গেলে নামতে হবে বিশ্বরোড (মাখন) চত্বরে।
থাকা-খাওয়া : দিনে দিনেই ঘুরে আসা সম্ভব, তবে রাতে থাকতে চাইলে শহরের কুমারশীল মোড়, সড়কবাজার ও নিউ সিনেমা রোডে বেশকিছু মানসম্পন্নসহ কিছু সাধারণ মানের আবাসিক হোটেলও রয়েছে। খাবারের জন্য ভালো মানের রেস্টুরেন্টও পাবেন। তবে আর যাই খান না কেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিখ্যাত স্বাদে ভরা ছানামুখী খেতে কিন্তু ভুল যেন না হয়। পুরনো জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কে আরো বেশি তথ্য জানতে ক্লিক করুন বিশ্বসেরা গুগল ইঞ্জিন সার্চে।

No comments:
Post a Comment