Wednesday, September 21, 2016

পুতিন–সমর্থিত দলের জয়ে জালিয়াতির অভিযোগ

রাশিয়ার বাশকোরতোস্তানের নিয়াজেবো গ্রামে
সোমবার ভোট চলাকালে এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে
ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায়। রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন, সেই ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩৪৩টিতেই জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে। তবে এ নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায় সরকারপন্থী ইউনাইটেড রাশিয়া ২২৫টি আসনে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দল-তালিকা অনুযায়ী দেশব্যাপী এসব আসন বাছাই করা হয়। এরপর রয়েছে সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটি দল যথাক্রমে কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও জাস্ট রাশিয়া পার্টি। এই তিনটি দলও পুতিনের সমর্থক। তবে ভোট জালিয়াতির বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। জাল ভোট দেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্রও প্রকাশিত হয়েছে। এসবের একটিতে দেখা যায়, একজন কর্মকর্তা ব্যালটের স্তূপ নিয়ে সেগুলো বাক্সে ভরছেন। তাঁর পাশে পাহারার কাজে রয়েছেন আরেকজন। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলো ভোটের দিন জালিয়াতির বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছে। পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান গোলোস এ কথা জানিয়েছে। গোলোসের সহকারী প্রধান রোমান উডোট বিবিসিকে বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা আদালতের মাধ্যমে লড়াইয়ের কোনো সুযোগ আমাদের নেই। 
তবে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি।’ উদারপন্থী বিরোধী দলগুলো দল-তালিকায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটও পায়নি। এই নির্বাচনের ফলাফল মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়। প্রেসিডেন্ট পুতিন সারা দেশে নিজের ক্ষমতার রাশ আরও দৃঢ় করতে চলেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী পদে ইতিমধ্যে ১৭ বছর পার করেছেন। রাশিয়ায় ২০১১ সালের নির্বাচনেও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। এর বিরুদ্ধে তখন মস্কোর রাস্তায় পুতিনবিরোধী বিক্ষোভও হয়। সে কারণেই এবারের নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা ছিল কর্তৃপক্ষের। সুপরিচিত একজন মানবাধিকারকর্মী এলা পামফিলোভা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের উপপ্রধান পদে নিয়োগ পান। তিনি এই পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সম্পূর্ণ বৈধ ঘোষণা করেছেন।

No comments:

Post a Comment