Friday, September 2, 2016

কূটনীতিকদের সুরক্ষায় আর্মার্ড ভেহিক্যাল

বিদেশী মিশনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে আর্মার্ড ভেহিক্যাল এনে তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ অনুমতি পেয়ে মার্কিন দূতাবাস এরই মধ্যে একটি আর্মার্ড ভেহিক্যাল এনেছে। আর জাপানি দূতাবাস তাদের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় আর্মার্ড ভেহিক্যাল আনার চিন্তা-ভাবনা করছে।
তবে বিদেশী দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নিরাপত্তায় বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের অস্ত্র দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে বিদেশী মিশনগুলো চাইলে তাদের দফতর ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র আনসার বাহিনী ভাড়া করতে পারবে। এছাড়া কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টহল বৃদ্ধি, চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং তল্লাশি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিদেশী কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। তবে বিষয়টির ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘বিদেশী কূটনীতিকরা তাদের চলাচলের জন্য আর্মার্ড ভেহিক্যাল ব্যবহার করতে পারবেন। এটা যুদ্ধে যে রকম আর্মার্ড ভেহিক্যাল ব্যবহার হয়, সে রকম সাঁজোয়া যান নয়। এটা আসলে বুলেট প্রুফ গাড়ির উন্নত সংস্করণ।’
পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, ‘বিদেশী দূতাবাসের যে কোনো গাড়ি আমদানি করতেই সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। ফলে আর্মার্ড ভেহিক্যাল আনলেও আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশী মিশনগুলো নিরাপত্তার জন্য সরকারের কাছে আনসার চাইতে পারবে। একথা আমরা মিশনগুলোকে জানিয়ে দিয়েছি। কোনো দূতাবাসই এখনও আনসার চায়নি। তবে তারা শিগগিরই আমাদের কাছে আনসার চাইবে বলে জানিয়েছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেছেন, ‘বিদেশী কূটনীতিক ও তাদের মিশনের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর। সরকার এ দায়িত্ব বিদেশী মিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে ছেড়ে দিতে পারে না। এ কারণেই বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের অস্ত্র দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে।’
সম্প্রতি বিদেশী কূটনীতিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের একটি বৈঠকে বিদেশীদের দেয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের অস্ত্র দেয়ার বিধান নেই। সরকার অবশ্য কূটনৈতিক নিরাপত্তায় আইন ও বিধির সংস্কারের কথাও চিন্তা করেছিল। কিন্তু বিদেশী কূটনীতিকদের ভিয়েনা কনভেনশন মোতাবেক দায়মুক্তির সুযোগ থাকায় বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী গুলিবর্ষণ করে কাউকে হত্যা করলে তার জন্য দায়মুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বলে আশংকা করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের অস্ত্র দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করা হয়।’ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বিদেশী কূটনীতিক ও তাদের মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে প্রস্তাবনা পেশ করার জন্যও বিদেশীদের বলা হয়। বিদেশীরা বিভিন্ন রকমের প্রস্তাব দিয়েছে। বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র দেয়ার জন্য সবচেয়ে আলোচিত একটি প্রস্তাব ছিল। জি-ফোর নামের একটি বেসরকারি কোম্পানিকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। এই কোম্পানির নিরাপত্তা রক্ষীদের অস্ত্র দেয়ার অনুমতি চায় মার্কিন দূতাবাস। এছাড়াও, কূটনীতিক ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তায় আর্মার্ড ভেহিক্যাল, গুলশানের লেক দিয়ে ফেরি পারাপার বন্ধ করা, গুলশান লেকে টহল চালুসহ নানা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সের বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছে। প্রসঙ্গত, কূটনীতিকদের নিরাপত্তার বিষয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ সফর করেছেন। তারা সার্বিক নিরাপত্তা পর্যালোচনা করেন।
ইইউ বিশেষজ্ঞ কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিদেশী মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

No comments:

Post a Comment