মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঐতিহাসিক
তর্কের মহারণে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিরারি
ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার রাতের
(বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) দেড় ঘণ্টাব্যাপী বিতর্কের পর তাদের
পারফরমেন্স নিয়ে মতামত জানিয়েছে আমেরিকার ঘাঘু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সিএনএনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, হিলারিকে যোগ্য মনে করলেও তার পারফরমেন্স
নিয়ে খুশি নন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে ট্রাম্পের ব্যাপারে তাদের অবস্থান
রীতিমতো ধেঁাঁয়াশা। বর্ষীয়ান মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষক ডেভিড রিচমন্ড
জার্জেন মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন।
চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন এই বিশ্লেষক। রিচার্ড
নিক্সন, জেরাল্ড ফোর্ড, রোনাল্ড রিগ্যান ও বিল ক্লিনটনের রাজনৈতিক
বিশ্লেষক হিসেবে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনকারী এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ট্রাম্পের
অযাচিত তথ্য পরিবেশনের একটা লম্বা তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছেন হিলারি।
এছাড়া ট্রাম্পকে বিতর্কের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হয়নি বলেও জানান তিনি।
জার্জেন মনে করেন, নতুন কিছুই বলতে পারেননি ট্রাম্প। বিপরীতে ভোটারদের
আবেগকে নিজের দিকে টেনে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন হিলারি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির পক্ষে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন জীবনী লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক সারাহ এলিজাবেথ কাপ। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে একেবারে বোকা বানিয়ে দিয়েছেন হিলারি। তবে এ চমকে তিনি দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করতে পারবেন কি না তা অনিশ্চিত। কারণ অপ্রস্তুত ট্রাম্পের দুর্বলতার অধিকাংশ সুযোগই কাজে লাগাতে পারেননি এ নারী প্রার্থী। ট্রাম্পের ইতিবাচক দিক হিসেবে তিনি আরও বলেন, তুলনামূলকভাবে পরিমিতবোধের পরিচয় দিয়েছেন ট্রাম্প। হিলারির চরিত্র বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করেননি তিনি। শুধু রাজনৈতিক ইস্যুতেই হিলারির চেয়ে ভালো আক্রমণ শানিয়েছেন এ রিপাবলিকান প্রার্থী। তবে ট্রাম্পের ব্যাপারে ঠিক বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক টকশো সঞ্চালক ও বিশ্লেষক অ্যারল লুইস। তিনি বলেন, ধনকুবের ট্রাম্পের ব্যবসায়িক রেকর্ড সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে তাকে পুরোপুরি দমিয়ে দিয়েছেন হিলারি। ব্যাংক কর্তৃক ট্রাম্পের দেউলিয়া ঘোষণা, কর প্রদানের হিসাব প্রকাশ না করা, সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং নিজ কর্মচারীদের প্রতি রুঢ় আচরণের তথ্য প্রকাশ করে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে সফল হয়েছেন এ সাবেক ফার্স্টলেডি। ‘একজন আর্কিটেক্টকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নিয়েছেন কিন্তু কম অর্থ শোধ করেছেন ট্রাম্প’- এ অভিযোগ উপস্থাপনের পাশাপাশি সেই আর্কিটেক্টকে বিতর্কের দর্শক সারিতে উপস্থিত করার মধ্যেও হিলারির নিপুণ প্রস্তুতি খুঁজে পেয়েছেন তিনি। লুইস মনে করেন, আগামী বিতর্কে এ ঘটনার উত্তর দিতে হবে ট্রাম্পকে। ট্রাম্পের জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি হতে পারে এটি।
এদিকে ইতিহাসের দোহাই দিয়ে ট্রাম্পকে রীতিমতো খারিজ করে দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক তারা সেটমায়ের। সেটমায়ের মনে করেন, একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্প সারা জীবন ‘জমি’ ‘জমি’ করেছেন। আর একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে শুধুই মেজাজ দেখিয়েছেন। সাবেক রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কাইনির দুর্বলতার প্রতি দয়া দেখাননি ইতিহাস, ছাড় পাননি সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ডাব্লিউ বুশ এবং পরে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আল গোর। ইতিহাস ট্রাম্পের প্রতিও কোনো দয়া দেখাবে না বলেই মনে করেন তিনি। হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কে কে জয়ী হন, কার পারফরম্যান্স কেমন হয় তা দেখার ও জানার আগ্রহ ছিল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের। ৯০ মিনিটের বিতর্ক শেষে আল জাজিরার কাছে এর বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিতর্কের পর হিলারি আরও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। হিলারির স্বামী বিল ক্লিনটনের বক্তৃতালেখক পল অর্জুলাক বলেন, ‘সংক্ষেপে উত্তর হল তিনি তার ঘড়ি পরিষ্কার করেছেন। কোনো ক্ষেত্রেই ট্রাম্প তার (হিলারির) কাছ থেকে গেম কেড়ে নিতে পারেননি। প্রথম বাক্যবিনিময় থেকেই হিলারি তাকে টোপ গিলিয়েছেন।’ শরীরী ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের নীতি উপদেষ্টা ক্রিস উলরিচও প্রায় একই মত দেন। তার মতে, ‘হিলারি আজ রাতে খেলতে এসেছিলেন। তিনি প্রথম শ্রেণীর গেম খেলেছেন। তিনি ছিলেন পরিশীলিত।’ হিলারির শরীরী ভাষা তাকে এতে ব্যাপক সহায়তা করেছে বলে মত উলরিচের। ট্রাম্প যেভাবে তার হাত নাড়াচাড়া করেছেন তা কর্তৃত্বব্যঞ্জক। অন্যদিকে আক্রমণের মুখেও হিলারি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল যা তার আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির পক্ষে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন জীবনী লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক সারাহ এলিজাবেথ কাপ। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে একেবারে বোকা বানিয়ে দিয়েছেন হিলারি। তবে এ চমকে তিনি দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করতে পারবেন কি না তা অনিশ্চিত। কারণ অপ্রস্তুত ট্রাম্পের দুর্বলতার অধিকাংশ সুযোগই কাজে লাগাতে পারেননি এ নারী প্রার্থী। ট্রাম্পের ইতিবাচক দিক হিসেবে তিনি আরও বলেন, তুলনামূলকভাবে পরিমিতবোধের পরিচয় দিয়েছেন ট্রাম্প। হিলারির চরিত্র বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করেননি তিনি। শুধু রাজনৈতিক ইস্যুতেই হিলারির চেয়ে ভালো আক্রমণ শানিয়েছেন এ রিপাবলিকান প্রার্থী। তবে ট্রাম্পের ব্যাপারে ঠিক বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক টকশো সঞ্চালক ও বিশ্লেষক অ্যারল লুইস। তিনি বলেন, ধনকুবের ট্রাম্পের ব্যবসায়িক রেকর্ড সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে তাকে পুরোপুরি দমিয়ে দিয়েছেন হিলারি। ব্যাংক কর্তৃক ট্রাম্পের দেউলিয়া ঘোষণা, কর প্রদানের হিসাব প্রকাশ না করা, সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং নিজ কর্মচারীদের প্রতি রুঢ় আচরণের তথ্য প্রকাশ করে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে সফল হয়েছেন এ সাবেক ফার্স্টলেডি। ‘একজন আর্কিটেক্টকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নিয়েছেন কিন্তু কম অর্থ শোধ করেছেন ট্রাম্প’- এ অভিযোগ উপস্থাপনের পাশাপাশি সেই আর্কিটেক্টকে বিতর্কের দর্শক সারিতে উপস্থিত করার মধ্যেও হিলারির নিপুণ প্রস্তুতি খুঁজে পেয়েছেন তিনি। লুইস মনে করেন, আগামী বিতর্কে এ ঘটনার উত্তর দিতে হবে ট্রাম্পকে। ট্রাম্পের জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি হতে পারে এটি।
এদিকে ইতিহাসের দোহাই দিয়ে ট্রাম্পকে রীতিমতো খারিজ করে দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক তারা সেটমায়ের। সেটমায়ের মনে করেন, একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্প সারা জীবন ‘জমি’ ‘জমি’ করেছেন। আর একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে শুধুই মেজাজ দেখিয়েছেন। সাবেক রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কাইনির দুর্বলতার প্রতি দয়া দেখাননি ইতিহাস, ছাড় পাননি সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ডাব্লিউ বুশ এবং পরে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আল গোর। ইতিহাস ট্রাম্পের প্রতিও কোনো দয়া দেখাবে না বলেই মনে করেন তিনি। হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কে কে জয়ী হন, কার পারফরম্যান্স কেমন হয় তা দেখার ও জানার আগ্রহ ছিল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের। ৯০ মিনিটের বিতর্ক শেষে আল জাজিরার কাছে এর বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিতর্কের পর হিলারি আরও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। হিলারির স্বামী বিল ক্লিনটনের বক্তৃতালেখক পল অর্জুলাক বলেন, ‘সংক্ষেপে উত্তর হল তিনি তার ঘড়ি পরিষ্কার করেছেন। কোনো ক্ষেত্রেই ট্রাম্প তার (হিলারির) কাছ থেকে গেম কেড়ে নিতে পারেননি। প্রথম বাক্যবিনিময় থেকেই হিলারি তাকে টোপ গিলিয়েছেন।’ শরীরী ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের নীতি উপদেষ্টা ক্রিস উলরিচও প্রায় একই মত দেন। তার মতে, ‘হিলারি আজ রাতে খেলতে এসেছিলেন। তিনি প্রথম শ্রেণীর গেম খেলেছেন। তিনি ছিলেন পরিশীলিত।’ হিলারির শরীরী ভাষা তাকে এতে ব্যাপক সহায়তা করেছে বলে মত উলরিচের। ট্রাম্প যেভাবে তার হাত নাড়াচাড়া করেছেন তা কর্তৃত্বব্যঞ্জক। অন্যদিকে আক্রমণের মুখেও হিলারি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল যা তার আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
হিলারির
ভাষাও ছিল মার্জিত। উলরিচের মত- হিলারি বেশ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন। তিনি
জানতেন ভিন্ন রকমের ট্রাম্পকে কীভাবে সামলাতে হবে। লন্ডনভিত্তিক খ্যাতনামা
বক্তৃতালেখক সিমন ল্যানকাস্টার বলেন, ট্রাম্প সব সময়ই ভালো বক্তা। তিনি
দেশ থেকে ব্যবসা চলে যাচ্ছে বলে অতিরঞ্জিত ও আবেগময়ী কথা বলেন। বলেছেন,
আমাদের চাকরি চুরি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে অভিবাসীদের ঢল নামছে, ইসলামিক
স্টেটের নরক থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে ইত্যাদি। তবে বিতর্কের সময় তিনি
হোঁচট খেয়েছেন। অর্জুলাক বলেন, মনে হয়েছে ট্রাম্প অতিমাত্রায় মদপান করে
যুক্তিতে জিততে চেয়েছেন। ট্রাম্প যেভাবে হিলারির যুক্তি প্রদর্শনকালে
হস্তক্ষেপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা তাকে নেতিবাচক হিসেকে দেখছেন। পুরোটা সময় তিনি
হিলারির বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তার মুখের ওপর কথা বলতে চেয়েছেন।
এতে স্পষ্ট যে নারীদের ব্যাপারে তার শ্রদ্ধার ঘাটতি রয়েছে। উলরিচ বলছেন,
হিলারিকে বারবার থামিয়ে দেয়াটা ট্রাম্পের উৎকণ্ঠার প্রকাশ। ট্রাম্পের কণ্ঠ
ছিল ক্ষীণ, তাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে এবং তিনি পানি পান করেছেন।
এমনকি হিলারি ট্রাম্পের কর ফাঁকির প্রসঙ্গ তুললে ট্রাম্প বলে বসেন যে এটা
আমাকে স্মার্ট (চতুর) বানিয়েছে। অর্জুলাক বলেন, এটা শুধু এই বিতর্কে
ট্রাম্পের বড় ভুল নয় বরং প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে
উত্তর। ল্যানকাস্টার মনে করেন, বেশিরভাগ লোক যেমনটা আশা করেছিলেন হিলারি
তার চেয়ে কিছুটা ভালো করেছেন আর ট্রাম্প আরও কিছুটা খারাপ করেছেন। তার মতে,
হিলারি ছিলেন চিন্তাশীল, বুদ্ধিদীপ্ত আর ট্রাম্প ছিলেন আবেগপ্রবণ ও
বিস্ফোরক। ট্রাম্পকে অসহিষ্ণু ও অবিবেচক বলে মনে হয়েছে।

No comments:
Post a Comment