রোহিঙ্গা
মুসলিম ইস্যুতে নেত্রী অং সান সুচি গঠিত প্যানেলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
করেছেন মিয়ানমারের কয়েক শত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও স্থানীয়রা। নির্বাচিত হওয়ার পর
গণতান্ত্রিক সংস্কারে গৃহীত উদ্যোগের অধীনে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের
মধ্যকার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিশন গঠন করেছেন
সুচি। এর নেতৃত্বে রয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। সেই কমিশন
রাখাইন রাজ্যে সরেজমিনে দু’দিন পরিদর্শন করছেন মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করতে। এরই এক পর্যায়ে আজ মঙ্গলবার তারা তীব্র বিক্ষোভের মুখে
পড়েন। কফি আনান যখন বিমানবন্দরে অবতরণ করে শহরের দিকে যান তখন তার গাড়িবহর
ঘিরে ধরে বৌদ্ধরা নিন্দাসুচক স্লোগান দেন। তিনি তার ভিতর দিয়েই সোজা চলে
যান শহরে। সেখানে একটি সরকারি ভবনে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের একটি বৈঠকে বক্তব্য
রাখেন। কিন্তু তখনও ওই ভবনের বাইরে নিন্দাসুচক স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ
করছিলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও স্থানীয়রা। তারা এ কমিশনের প্যানেলকে ‘বিদেশীদের
হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে
বলা হয়, গত বছর জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পায় অং সান সুচির ন্যাশনাল লিগ
ফর ডেমোক্রেসি। তারপর সুটি মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু
বৌদ্ধদের মঙ্গলবারের বিক্ষোভ সেই উদ্দেশ্য সফল হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি
করেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক শত
স্থানীয় মানুষ ও বৌদ্ধ ভিক্ষু ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় সেখানে মোতায়েন
থাকা কয়েক ডজন পুলিশ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। কফি আনানের বিমান যখন ভূমি
অবতরণ করে তখন তার প্যানেলের নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে উপস্থিত
বৌদ্ধরা। সেকান থেকে তিনি চলে যান শহরে। বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমরা
আপনাদের ধারণা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে চাই। বার বার এখানে যে বাধা,
আতঙ্ক ও সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে আমরা সে বিষয়ে অবগত। তা সত্ত্বেও ওই কমিশনে কোন
বিদেশী থাকবে কিনা তা নিয়ে মঙ্গলবার মিয়ানমার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে
আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিদেশীদের বাদ রাখার সুযোগ কম বলে মনে করছেন
বিশ্লেষকরা। বিক্ষোভকারীদের একজন ৫২ বছর বয়সী সূতার কাইয় জিন ওয়াই। তিনি
বলেছেন, এই কমিশনে কোন বিদেশী জড়িত থাকুক এমনটা দেখতে চাই না। আমি চাই এ
কমিশনে শুধু রাখাইন সদস্যরা জড়িত হোন। তার মতে, যে কমিশন গঠন করা হয়েছে
তাতে রয়েছেন দু’জন রাখাইন। কিন্তু এরা রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন না। সুচি
যে কমিশন গঠন করেছেন তাতে রয়েছেন মিয়ানমারের ৬ নাগরিক ও বিদেশী তিন জন।
তারা প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে দু’দিন ধরে সাক্ষাত করবেন।
বুধবার তাদের যাওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রহীন মুসলিমদের শিবিরগুলোতে। এসব
শিবিরে মুসলিমরা বসবাস করছেন গাদাগাদি করে। নাজুক অবস্থায়। এখানে সফর শেষ
করে কমিশন আগামী দু’এক মাসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে বলে আশা করা
হচ্ছে। ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় রাখাইন
বৌদ্ধরা। তাতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয় অনেক
বসতি। এখনও বাস্তুচ্যুত প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার মানুষ। এর বেশির ভাগই
রোহিঙ্গা মুসিলম। তারা মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। তাদের মৌলিক
চাহিদাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। অস্বীকার করা হয়েছে তাদের নাগরিকত্ব।
তাদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বোটে করে সাগরপথে পালিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে সুচি
জিতলেও সামরিক জান্তা প্রণীত সংবিধানের অধীনে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে
পারেন নি। তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন স্টেট কাউন্সেল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। গত
মাসে তিনি বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে গঠন করেছেন ৯
সদস্যের ওই কমিশন। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে সুচির।
সেখানে তিনি তার দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ আরও শিথিল করার আহ্বান জানাতে
পারেন। কিন্তু এটাও সত্য যে, রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নয়নে তার প্রচেষ্টা
কতটুকু এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে তাকে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment