Thursday, September 22, 2016

জলবসন্ত সেরে গেলেও সতর্ক থাকুন

হঠাৎ ত্বকের এক পাশ বা একটা এলাকাজুড়ে তীব্র ব্যথা বা জ্বালা, তারপর সেখানে দেখা গেল ফুসকুড়ির মতো দানা। এই সমস্যার নাম হারপিস জোস্টার। সমস্যাটা ত্বকে হলেও এর কারণ একধরনের ভাইরাস সংক্রমণ। ছোটবেলায় চিকেন পক্স বা জলবসন্ত হয়ে সেরে যাওয়ার পর এর ভাইরাস অনেক সময় স্নায়ুর গোড়ায় বা মূলে ঘুমন্ত অবস্থায় রয়ে যেতে পারে। বয়সকালে কোনো কারণে দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে গেলে এই জীবাণু আবার জেগে ওঠে এবং আক্রমণ করে। এরই ফলে দেখা দেয় এই রোগ। তবে মনে রাখবেন, এটা কিন্তু জলবসন্ত নয়। হারপিস জোস্টারের বিশেষত্ব হলো, এই ফুসকুড়ি একটি নির্দিষ্টœএলাকাজুড়ে দেখা দেয়। তাই কেবল লক্ষণ দেখেই এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। বয়স বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমায় এমন ওষুধ ব্যবহার (যেমন, কেমোথেরাপি বা স্টেরয়েড)
এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পুরোপুরি সেরে উঠতে দুই থেকে চার সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। তবে ব্যথা ও জ্বালা দীর্ঘদিন রয়ে যেতে পারে। এমনকি পরে আরও তীব্র ও তীক্ষ্ণ ব্যথা নিয়ে হতে পারে পোস্ট হারপেটিক নিউরালজিয়া। হারপিস জোস্টার হলে ত্বকের ফুসকুড়ির যত্ন নিতে হবে। দানা বা ফুসকুড়িকে চুলকাবেন না বা এতে হাত দেবেন না। ঠান্ডা সেঁক দিলে কিছুটা আরাম মেলে। ঠান্ডা সেঁকের পর ক্যালামিন বা এ ধরনের লোশন লাগানো যায়। অনেকে বলে, বেকিং সোডা লাগালেও জ্বালা কমে। পোস্ট হারপেটিক নিউরালজিয়া ৩০ দিন অবধি থাকতে পারে এবং এই ব্যথা অত্যন্ত তীব্র। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়া যায়। হারপিস জোস্টার হওয়ার পেছনে সাধারণত রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে। তাই জটিল কোনো রোগ আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে।
ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন
মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
স্বাস্থ্যবটিকা ® ব্রোন স্মিথ
রক্তচাপের ওপর কোনটির প্রভাব বেশি—চিনি নাকি লবণ?
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকেরা লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাঁরা চিনির কথা বলতে ভুলে যান। ২০১৪ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের জন্য লবণের চেয়ে চিনি অনেক বেশি দায়ী।
‘স্বাস্থ্যবটিকা’র লক্ষ্য রোগনির্ণয় গোছের কিছু নয়
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: হৃদ্রোগীরা কি দুধ খেতে পারবেন?
উত্তর: হৃদ্রোগের জন্য দুধ খেতে কোনো মানা নেই। দুধে যেটুকু চর্বি আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি আছে উপকারী উপাদান, যেমন আমিষ, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ। দুধ খাওয়া বন্ধ না করে বরং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি, বেকিং করা খাবার ও নানা ধরনের ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা উচিত।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

No comments:

Post a Comment