ডাকনাম বা সংক্ষিপ্ত নাম রিতা। পুরো নাম
মার্গারিটা মামুন। তার আরো নাম আছে। আছে বিশাল পরিচিতি। তিনি এখন ‘দ্য
বেঙ্গল টাইগ্রেস’ বা বাংলার বাঘিনী। বিশ্বে এ বিশাল খেতাব তিনি পেয়েছেন গত
২০ আগস্ট ২০১৬ (শনিবার) রিওডি জেনিরোতে অলিম্পিকে। কারণ মার্গারিটা রিদমিক
জিমন্যাস্টিকসে আরেক বাঘিনী তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন রাশিয়ার ইয়ানা
কুদরাভতসেভাকে হারিয়ে এই ইভেন্টে সোনা জিতেন। এ খেলায় মার্গারিটা যেভাবে
অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী বা নৈপুণ্য দেখালেন, তাতে অবাক হয়েছে পৃথিবীর মানুষ। তা
দেখে বা উপভোগ করে অবাক হওয়ারই কথা। মেয়েটি নেচে চলেছেন সুরের মূর্ছনায়।
অসামান্য নৈপুণ্য দেখান হুপ বা ধাতব বলয়, বল ক্লাব বা ধাতব দণ্ড ও লাল ফিতা
হাতে নিয়ে। সবার নজর ছিল বড় পর্দায় অল অ্যারাউন্ড রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের
দিকে। হিটে বা প্রাথমিক বাছাইয়েই প্রথম হন তিনি। তার মানে ফাইনালে খেলার
সুযোগ উন্মুক্ত হওয়া। হিটে যে নৈপুণ্য দেখালেন তাতেই মুগ্ধ হন
জিমন্যাস্টিকস-পিপাসুরা। তার স্কোর ৭৬.৪৮৩। প্রায় ২০ বছর বয়সী মার্গারিটার
বিশ্বমঞ্চে খেলার যেমন বহু অভিজ্ঞতা রয়েছে, তেমনি প্রথমও হয়েছেন অনেক
খেলায়। তিনি খেলেছেন সামার ইউনিভারসায়েড, গ্র্যান্ড প্রিক্স ফাইনাল,
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপস, ইউরোপিয়ান গেমস, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপস,
অলিম্পিক গেমস ইত্যাদি। এতে প্রথম হয়েছেন প্রায় ২৮টিতে। দ্বিতীয় হয়েছেন
১৩টিতে আর তৃতীয় একটিতে। এবার একটি স্বর্ণ পেলেও গ্রান্ড প্রিক্স ফাইনালে
সর্বোচ্চ ১১টিতে প্রথম হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। ওই সব খেলার
ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখেও অবাক হয় বিশ্বের মানুষ, বিশেষ করে খেলাপ্রেমীরা।
মার্গারিটার জন্ম ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর রাশিয়ার মস্কোয়। আর থাকেন মস্কোয়ই। জাতীয় দলে খেলছেন ২০০৪ সাল থেকে। তার খেলার স্তর বা লেভেল সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল এলিট। আর ক্লাবের নাম গাজপ্রম। প্রধান কোচের নাম ইরিনা ভাইনার। আর সহকারী কোচ বা প্রশিক্ষক আমিনা জারিপোভা। মার্গারিটাকে বাংলার বাঘিনী নাম দেয় স্থানীয় গণমাধ্যম। অবশ্য এর আগে ‘রিতা হচ্ছে বাংলার বাঘিনী’, এমন মন্তব্য করেছেন কোচ ইরিনা ভাইনার। তা প্রকাশ পায় রুশ ম্যাগাজিন সোভোস্পোর্টে ২০১৩ সালে। মার্গারিটা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। তার বাবা (আবদুল্লাহ আল মামুন) রাজশাহীর বাসিন্দা। একজন মেরিন প্রকৌশলী। শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে (সোভিয়েত যুগে) পড়ালেখার জন্য যান রাশিয়ায়। সেখানেই তিনি বিয়ে করেন রাশিয়ান তরুণী আনারকে। আর তাদেরই আদরের প্রথম সন্তান মার্গারিটা মামুন। এসব কারণেই মার্গারিটাকে বাঘিনীর সাথে বাংলা যোগ করে বাংলার বাঘিনী বলা হচ্ছে। মার্গারিটাকে মা পাঠান (ছেলেবেলায়) বিতর্কের পাশাপাশি ফিগার স্কেটিংয়ের ক্লাসে। কারণ মা ছিলেন জিমন্যাস্ট। তিনি মনে করতেন মেয়েকেও তার মতো হতে হবে। সেই স্বপ্ন বা সাধ পূরণ হলো মায়ের। মার্গারিটা জিমন্যাস্টিক প্র্যাকটিস করছেন সাত বছর বয়স থেকে। জুনিয়র লেভেলে প্রতিযোগিতায়ও জিতেছেন। জানা গেছে, বাংলাদেশেও এমন পর্যায়ে কিছু প্রতিযোগিতায়ও খেলেছেন। তবে তার বেশি ভালো লাগতে থাকে রাশিয়ায় খেলতে। কেননা সেখানে তার জন্ম। হয়তো সে কারণেই মার্গারিটার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছে জোরালো হয়নি। মার্গারিটা বলেন, আমি রুশ, জন্মেছি রাশিয়ায়। লাল-সবুজের তুলনায় লাল-নীল-সাদা আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। মার্গারিটা বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেন জুনিয়র লেভেলে। অতঃপর রুশ জাতীয় দলের হয়ে মন্ট্রিয়লে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন (প্রথমবারের মতো) ২০১১ সালে। জিতে নেন অল অ্যারাউন্ডে ব্রোঞ্জ, আর বলে স্বর্ণ।
মার্গারিটার জন্ম ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর রাশিয়ার মস্কোয়। আর থাকেন মস্কোয়ই। জাতীয় দলে খেলছেন ২০০৪ সাল থেকে। তার খেলার স্তর বা লেভেল সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল এলিট। আর ক্লাবের নাম গাজপ্রম। প্রধান কোচের নাম ইরিনা ভাইনার। আর সহকারী কোচ বা প্রশিক্ষক আমিনা জারিপোভা। মার্গারিটাকে বাংলার বাঘিনী নাম দেয় স্থানীয় গণমাধ্যম। অবশ্য এর আগে ‘রিতা হচ্ছে বাংলার বাঘিনী’, এমন মন্তব্য করেছেন কোচ ইরিনা ভাইনার। তা প্রকাশ পায় রুশ ম্যাগাজিন সোভোস্পোর্টে ২০১৩ সালে। মার্গারিটা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। তার বাবা (আবদুল্লাহ আল মামুন) রাজশাহীর বাসিন্দা। একজন মেরিন প্রকৌশলী। শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে (সোভিয়েত যুগে) পড়ালেখার জন্য যান রাশিয়ায়। সেখানেই তিনি বিয়ে করেন রাশিয়ান তরুণী আনারকে। আর তাদেরই আদরের প্রথম সন্তান মার্গারিটা মামুন। এসব কারণেই মার্গারিটাকে বাঘিনীর সাথে বাংলা যোগ করে বাংলার বাঘিনী বলা হচ্ছে। মার্গারিটাকে মা পাঠান (ছেলেবেলায়) বিতর্কের পাশাপাশি ফিগার স্কেটিংয়ের ক্লাসে। কারণ মা ছিলেন জিমন্যাস্ট। তিনি মনে করতেন মেয়েকেও তার মতো হতে হবে। সেই স্বপ্ন বা সাধ পূরণ হলো মায়ের। মার্গারিটা জিমন্যাস্টিক প্র্যাকটিস করছেন সাত বছর বয়স থেকে। জুনিয়র লেভেলে প্রতিযোগিতায়ও জিতেছেন। জানা গেছে, বাংলাদেশেও এমন পর্যায়ে কিছু প্রতিযোগিতায়ও খেলেছেন। তবে তার বেশি ভালো লাগতে থাকে রাশিয়ায় খেলতে। কেননা সেখানে তার জন্ম। হয়তো সে কারণেই মার্গারিটার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছে জোরালো হয়নি। মার্গারিটা বলেন, আমি রুশ, জন্মেছি রাশিয়ায়। লাল-সবুজের তুলনায় লাল-নীল-সাদা আমার কাছে বেশি ভালো লাগে। মার্গারিটা বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেন জুনিয়র লেভেলে। অতঃপর রুশ জাতীয় দলের হয়ে মন্ট্রিয়লে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন (প্রথমবারের মতো) ২০১১ সালে। জিতে নেন অল অ্যারাউন্ডে ব্রোঞ্জ, আর বলে স্বর্ণ।
তা
দেখেই তিনি নজরে পড়ে যান ক্রীড়াবিদদের। রুশ জিমন্যাস্টিক কোচরা মনে করেন,
তার মাঝে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ভবিষ্যৎ সাফল্যের ব্যাপক সম্ভাবনা। তার মাঝে
বেশ পরিণতবোধ লক্ষ করা যায় শিশুকালেই। কোচ ইরিনা বলেন, এত বেশি পুরস্কার
মার্গারিটা পেয়েছেন, সেগুলো সাজাতে পুরো একটি বাড়ি দরকার। এবার বোঝেন, এতে
তার কৃতিত্ব কেমন। রিদমিক জিমন্যাস্টিকের মানে হচ্ছে, শরীরকে বিভিন্ন
কায়দায় কসরত প্রদর্শন করা হয় গানের সুরে নাচের কায়দায়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ
এমন অবাকভাবে প্রদর্শন করা হয়, যা জাদুর মতোই মনে হয়। বলার অপেক্ষা থাকে
না যে, তার পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে প্রথম জিমন্যাস্ট হিসেবে অল অ্যারাউন্ডে
৭৭-এর অধিক পয়েন্ট পাওয়ারও। সর্বশেষ লড়াইয়ে তার কাছে হেরে যান বাকি ৯
প্রতিযোগী। মার্গারিটা বলেন, ইয়ানাকে টপকে আমি স্বর্ণ পাবো বলে ভাবিনি। এর
পেছনে কী যে আছে! অনেকে বলেছেন, মার্গারিটা কেমন খেলেছেন তা হয়তো তিনি
বুঝতে পারছেন না। তা বুঝতে পেরেছেন কোচ ও খেলোয়াড়েরা। মার্গারিটার জন্ম
বাংলাদেশে না হলেও এ দেশের প্রতি তার যে টান বা ভালোবাসা আছে, তা বোঝা যায়
তার কথায়ই। তিনি বলেন, আমার অনেক ভালো লাগে কথাটি ভাবলে। তা হলো, বাংলাদেশে
আমার (রিতার) অনেক ভক্ত আছে। আমি কিছু কিছু বাংলা বলতে পারি। তবে মাঝে
মধ্যে কিছুটা ভুলে যাই চর্চা না থাকায়। তার এ কৃতিত্ব বাংলাদেশেরও গর্ব।
রিতা বলেন, আমার বাবার গ্রাম কাশিপুর। গ্রামের মানুষ আমার জন্য প্রাণভরে
দোয়া করেছে। আর সেই জন্যই আমি সবাইকে হাসাতে পেরেছি স্বর্ণ জিতে। রাজশাহীর
দুর্গাপুর উপজেলার অদূরে কাশিপুর গ্রাম। বাবার দেশ হিসেবে মার্গারিটার
হৃদয়ে লাল-সবুজের অস্তিত্ব কমবেশি রয়েছে বলেই মনে হয়। তিনি বাংলাদেশের
মানুষকে ভালোবাসেন। তার কোচরা বলেছেন, এখন রিতার (মার্গারিটা) যে বয়স, তাতে
ভবিষ্যতে আরো অবাক করা পারফরম্যান্স করতে পারবে সে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
No comments:
Post a Comment