Wednesday, September 28, 2016

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাংলাদেশী খুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবারও দুর্বৃত্তের গুলিতে এক বাংলাদেশী খুন হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস সিটির নর্থ হলিউডে গত রোববার ভোররাতে আবুল কালাম রহীম নামে ৫৫ বছর বয়সী এই বাংলাদেশী ডাকাতিতে বাধা দেয়ার কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা যায়, তিনি একটি লিকার স্টোরে কাজ করতেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গত দেড় মাসে চার বাংলাদেশী খুন হলেন। ফলে স্বভাবতই সে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী এবং তাদের স্বজনরা নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এর আগে তিনজনই হত্যার শিকার হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটিতে। অবশ্য বিশ্বের বৃহত্তম কসমোপলিটন ও বাণিজ্যিক নগরী নিউইয়র্ক সিটিতে অপরাধ বরাবরই বেশি। গত ১৩ আগস্ট এ নগরীতে হত্যা করা হয় বাংলাদেশী এক ইমাম ও তার সঙ্গীকে। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিদেশে যে কোনো বাংলাদেশীর অপমৃত্যুর সংবাদ স্বভাবতই আমাদের মনে উৎকণ্ঠা ও বেদনার উদ্রেক ঘটায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনো দেশে বিদেশীসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব ওই দেশের প্রশাসনের।
যুক্তরাষ্ট্রও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশটি সারা বিশ্বের মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে সোচ্চার। অথচ দেশটির অভ্যন্তরে নিরাপত্তার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে অহরহ, যার শিকার হচ্ছেন বিদেশীরাও। এ জন্য দেশটির আগ্নেয়াস্ত্রবিষয়ক আইন অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র অত্যন্ত সহজলভ্য। অনেক অঙ্গরাজ্যে লাইসেন্স ছাড়াই অস্ত্র মেলে। এ কারণে প্রায়ই সেখানে বন্দুকধারীদের দ্বারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। গতকালের সংবাদপত্রেই দেশটির টেক্সাসের হিউস্টনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নয় ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রবিষয়ক আইন সংশোধনের দাবিও রয়েছে সমাজে এবং তা নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক এ দেশটিতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই মানুষ আশা করে। যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয় অভিবাসীদের দেশ। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ সে দেশে গিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন; সে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির প্রশাসন অধিকতর সক্রিয় হবে, এটাই প্রত্যাশা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা কাম্য নয়।

No comments:

Post a Comment