![]() |
| ইস্তেরাহায় খাবার খাওয়ার দৃশ্য |
তরুণেরা
কোনো বাঁধাধরা নিয়মকানুন মানতে চায় না। তারা চায় কিছুটা স্বাধীনতা।
সমবয়সীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া ও গল্প করা এ সবই তাদের পছন্দ। সৌদি তরুণদের
মধ্যে সমবয়সী যারা, তারা একত্রে সপ্তাহে বা মাসে নিয়মিত মিলিত হন। এটা কারও
নির্দিষ্ট কোনো বাসায় নয়। পরিবারের বাইরে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডার জায়গা।
আরবিতে বলে ইস্তেরাহা। তেমনি একটি ইস্তেরাহার খোঁজ মিলল মক্কার সারায়া
এলাকায়। বিশাল দুটি রুম। বাথরুম ও রান্না ঘর সবই আছে। ১৫ জন বন্ধু, যারা
একসঙ্গে স্কুলে (মাদ্রাসায়) প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন।
পরবর্তীতে সবাই কোনো না কোনো পেশায় জড়িত। সপ্তাহে ছুটির দিন বা বিশেষ
কোনো উপলক্ষে তারা একত্র হন। ওয়াটস আপে তাঁদের একটি গ্রুপ আছে। সবার সঙ্গে
সবার যোগাযোগ রয়েছে। সবারই গাড়ি আছে। ২৪ থেকে ৩০ বছর বয়সী এই গ্রুপে কমবেশি
সবাই বিবাহিত। কিন্তু এখানে কেউ স্ত্রী নিয়ে আসেন না।
এই
দলের সবাই সৌদি নাগরিক হলেও একজন বাংলাদেশি ইয়াসির সিরাজ আছেন। ইয়াসিরের
বন্ধু আবদুল্লাহ, সালেহ, সুলতান ও খালিদ। তাঁদের সূত্র ধরেই ইয়াসিরের ওখানে
যাওয়া। এই ফ্ল্যাটের চাবি একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা থাকে। যখন-তখন যে
কেউ চাইলে যেতে পারে। কোনো উপলক্ষ থাকলে; যেমন অলিম্পিক, ইংলিশ প্রিমিয়ার
লিগ, ইউরো কাপ বিশেষ করে ফুটবল খেলা হলে সবাই মিলে সেখানে ৫০ ইঞ্চি টিভির
বড় পর্দায় খেলা দেখেন। কখনো তারা ইংরেজি সাবটাইটেল মুভি দেখেন বা কোনো
গেমস খেলেন। কখনো শিশায় (এক ধরনের হুক্কা) দুই-তিনটা টান দেন বা ধূমপান
করেন। রমজান মাসে ইফতারির পর ভলিবল খেলেছেন সবাই। প্রতি মাসে প্রত্যেককে
৩০০ রিয়াল চাঁদা দিতে হয়। এর মধ্যে ২২০০ রিয়াল বাড়িভাড়া বাবদ ব্যয় হয়। বাকি
অর্থ খাবারদাবার বা অন্য জিনিসপত্র কেনা হয়। সবাই আসার সময় কিছু না কিছু
খাবার দাবার নিয়ে ঢোকেন। সঙ্গে অতিথি থাকলে তাঁকেও খাতির করা হয়। খালিদ
জানালেন, মক্কায় এ ধরনের ইস্তেরাহা কম, কিন্তু জেদ্দায় বেশি।
![]() |
| ইস্তেরাহায় টিভি দেখার দৃশ্য |
কেউ
কেউ জেদ্দার ইস্তেরাহাতে যান। জানা গেল, মোবাইল, পড়াশোনা ও পেশাসহ নানান
বিষয়ে তাঁদের গল্প আড্ডা হয়। নারী প্রসঙ্গ আলাপ আলোচনায় উঠে এলেও বাস্তবে
এই সব ইস্তেরাহায় নারী প্রবেশ করতে পারেন না। কারণ মোতওয়ারা (সৌদি আলেম)
নজরদারি করেন। সুলতান জানালেন, নারীদের সঙ্গে বাইরে মেলামেশার সুযোগ খুব
সীমিত। নানান বাহানায় শপিংমল বা সমুদ্র পাড়ে নির্জন জায়গায় দেখা-সাক্ষাৎ
করা যায়। তাতেও কড়াকড়ি। একমাত্র মেডিকেলের নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে
(কো এডুকেশন) পড়ার সুযোগ পান। বাকি সব জায়গায় নারী-পুরুষ আলাদা। তাই অনেকে
ইউরোপ আমেরিকায় পড়াশোনা করেন। সালেহ বললেন, আমাদের আড্ডায় প্রায়ই বারবিকিউ
পার্টি হয়। সৌদির ঐতিহ্যবাহী খাবার মান্দি ও খেবসা ইত্যাদি খাবার নিজেরাই
রান্না করে খাই। তখন খুব মজা হয়। বাসায় যারা রান্না করে না তারাও রান্না
করার সাহস দেখান। রান্না খারাপ হলেও আমরা উৎসাহ দিই। এখন বলা যায় সবাই
রাঁধতে পারেন। কখনো কখনো আমরা সবাই দলবেঁধে বড়শি দিয়ে মাছও ধরতে যাই।


No comments:
Post a Comment