Wednesday, September 28, 2016

‘কঠিন অংশটা চলে গেছে’

মাশরাফি বিন মুর্তজা। কাল মিরপুরে
সংবাদ সম্মেলনে। প্রথম আলো
বাজে ফিল্ডিং, থিতু হয়েও ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস খেলতে না পারা, অতঃপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয়। কাল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশ জুড়েই থাকল সিরিজের প্রথম ম্যাচ। যেটিতে জিতলেই সিরিজ জেতা হয়ে যাবে, সেই দ্বিতীয় ম্যাচটাও উঁকি দিল মাঝেমধ্যে। কাল দুপুরে মিরপুরে বাংলাদেশ অধিনায়কের ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের নির্বাচিত অংশ—
সিরিজ জয়ের ম্যাচ
মাশরাফি বিন মুর্তজা: দ্বিতীয় (আজ) ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ম্যাচটা জিতলে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলা
কতটা চাপ
মাশরাফি: দেখবেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড যখন আমাদের সঙ্গে খেলে, তখন ওদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। এটা খুবই স্বাভাবিক। শেষ ম্যাচে যেটা ভালো লেগেছে, ম্যাচটা ৯০ ভাগ ওদের কাছেই ছিল, সেখান থেকে ফিরে এসে ম্যাচ জেতাটা আমাদের লড়াকু চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছে। এটা ধরে রাখতে পারলে বড় ম্যাচেও আমরা ভালো করতে পারব।
কঠিন পর্ব চলে গেছে কি না
মাশরাফি: খেলার মধ্যে থাকলেও প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচ খেলে ফেললে অনেক হালকা হওয়া যায়। আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে বড় কিছু না হলেও কঠিন অংশটা চলে গেছে। আশা করি, দ্বিতীয় ম্যাচে মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকব।
ব্যাটসম্যানদের কাছে বড় ইনিংসের আশা
মাশরাফি: অবশ্যই আশা করি। অনেক দিন পর সবাই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে। তামিম-রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) বুঝতে পারছে, দুজনেরই সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল। সাকিবের ‘বড়’ ফিফটি করার সুযোগ ছিল। ওয়ানডেতে ২৮০ কিংবা ৩০০ রান তাড়া করা এখন আর কোনো ব্যাপার নয়। (দ্বিতীয় ম্যাচে) যদি আরও বড় রান করার সুযোগ থাকে, উইকেটও সহায়তা করে, তাহলে আমাদের ৩০০ করতে হবে।
প্রথম ম্যাচে ‘প্রিয়’ স্লগ সুইপে মুশফিকের আউট
মাশরাফি: ওরশক্তির জায়গা হচ্ছে এই শট। স্লগ সুইপে সে অনেক রান করে। এটা যদি বন্ধ করে দেয়, তাহলে রানের জায়গাও কমে যাবে। কোচ আর মুশফিক খুব ভালো জানে, তাদের কী পরিকল্পনা। এমনিতে ও নিজের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করে। সতীর্থ হিসেবে তার প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। আশা করি, মাঠে সে যেটা করবে, যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের পক্ষেই আসবে।
প্রথম ম্যাচে বাজে ফিল্ডিং
মাশরাফি: ফিল্ডিং নিয়ে অজুহাত দেওয়া কঠিন। এর জন্য খেলার মধ্যে থাকতে হবে, এমন নয়। ভেতর থেকে চাইলেই যে কেউ ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে পারে। সামনের ম্যাচে এটা ঠিক করার চেষ্টা করব। আগের ম্যাচে খারাপ ফিল্ডিংয়ের কারণ হতে পারে, শরীরী ভাষাটা ঠিক ছিল না। একটু কষ্ট হচ্ছিল। এটা অনেক সময় হয়। পরের ম্যাচে আশা করছি, আরও ভালো করব।
নিজের বোলিং সম্পর্কে
মাশরাফি: আমি সব সময় চেষ্টা করি, যত ন্যাড়া উইকেটই হোক, একটা জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে যেতে। আধুনিক ক্রিকেটে এক জায়গায় বোলিং করলেও ব্যাটসম্যানরা চড়াও হবে। তবুও মনে করি, ধারাবাহিকভাবে যদি জায়গায় বল করে যেতে পারেন, সাফল্য পাবেন। আমার মনোযোগ সব সময় এটাতেই থাকে। আর ভাগ্যের ছোঁয়ারও দরকার আছে। সেদিন ওদের ওভারপিছু ছয় রান করে লাগত। ৩০ ওভারের পর আমি আর সাকিব বোলিংয়ে আসি। ভাগ্য ভালো, আমরা সেটি ওভারপ্রতি সাত রানে নিয়ে যেতে পেরেছি।
নিজের আয়নায় অধিনায়কত্ব
মাশরাফি: আমার কাজ বোলিং ও সিদ্ধান্তগুলো স্বাভাবিকভাবে নেওয়া। এই দুটিতেই আমার মনোযোগ থাকে। আলাদা আলাদা করে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করি। এটা আসলে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এক-দুই বছর অধিনায়কত্ব করছি। আগের চেয়ে এখন কিছুটা নির্ভার থাকতে পারি।

No comments:

Post a Comment