Monday, September 19, 2016

৩,০০০ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন, ফেল থেকে পাস ৮১০ জন by নূর মোহাম্মদ

কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে ১০টি শিক্ষাবোর্ডের তিন লাখ ৩৩ হাজার ৩২২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করে। গত মাসে এইচএসসি ও সমমানের প্রকাশিত প্রাপ্ত ফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এ আবেদন করেছিল তারা। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। গত শনিবার রাতে ১০টি শিক্ষাবোর্ডের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, শুধু ঢাকা বোর্ডে ১০০৯ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। আর সব বোর্ড মিলিয়ে ২৯৭৮ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এরমধ্যে আগে ফেল করেছিল কিন্তু পুনঃনিরীক্ষণ করে যেমন পাস করে তেমননি নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে এরকম সংখ্যাও আছে। শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট ছাড়াও টেলিটক মোবাইলফোন থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।  ১০টি শিক্ষাবোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ২৯৭৮ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফলে ফেল ছিল কিন্তু পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে নতুন করে পাস করেছে ৮১০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১৪ জন। জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছিল আট লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন এবং জিপিএ ৫ পায় ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। তাদের মধ্যে তিন লাখ ৩৩ হাজার ৩২২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডে এক লাখ ৪০ হাজার, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৫ হাজার, রাজশাহী বোর্ডে ৪০ হাজার, কুমিল্লা বোর্ডে ৩২ হাজার, যশোর বোর্ডে ৩১ হাজার, সিলেট বোর্ডে ১৭ হাজার, বরিশাল বোর্ডে সাড়ে ১৯ হাজার, দিনাজপুর বোর্ডে সাড়ে ২৭ হাজার, মাদরাসা বোর্ডে ১২ হাজারের মতো উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে শিক্ষার্থীরা।
১০টি বোর্ডের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুনঃনিরীক্ষণে প্রত্যেকের ফলই আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৯ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১৫ জন এবং ফেল করা থেকে পাস করেছে ২০৪ জন পরীক্ষার্থী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৩২৮ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৯ জন। এ ছাড়া ফেল করা থেকে পাস করেছে ৮৬ জন। যশোর বোর্ডে ফল পরিবর্তন হয়েছে ১৪৩ জনের। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪১ জন। আর ফেল করা ৩৯ জন পাস করেছে। বরিশাল বোর্ডে ৭৮ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২জন এবং ফেল করা থেকে পাস করেছে ৩০ জন। মাদরাসা বোর্ডে ফল পরিবর্তন হয়েছে ১০৫ জনের। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮ জন এবং ফেল থেকে পাস করেছে ৩৯ জন পরীক্ষার্থী। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ৩৬৫ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছে ৫২ জন, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৭৬ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে এরমধ্যে নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছে ১৩১ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন। বাকীরা বিভিন্ন গ্রেডে পরিবর্তন হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে মোট ৪৫৭ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এরমধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ২৭ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২২ জন। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে মোট ২৪৬ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে এরমধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন, পাস করেছে ৭০ জন, সিলেট শিক্ষাবোর্ডে মোট ৭১ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে এর মধ্যে নতুন করে পাস করেছে ২৩ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল পাওয়া গেছে বৃত্ত ভরাটে। দেখা গেছে, একজন ৮৫ পেয়েছে, সেখানে উল্টো ৫৮ বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে। আবার একজন ১৩টি প্রশ্নের উত্তর দিলেও একটির উত্তরের নম্বর মোট নম্বরের সঙ্গে যোগ হয়নি। বোর্ড সূত্র জানায়, যেসব পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নে ভুল হয়েছে, তাদের এক বছর খাতা মূল্যায়ন, প্রশ্নপত্র করা, মডারেশনসহ শিক্ষা বোর্ডের আর্থিক সুবিধার সব কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। কোনো পরীক্ষক যদি দ্বিতীয়বার ভুল করেন, তাহলে পাঁচ বছর তাকে বোর্ডের আর্থিক সুবিধার কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, এবার থেকে নম্বরপত্র দেয়ায় শিক্ষার্থীরা দেখতে পাচ্ছে তার জিপিএ কত এবং প্রাপ্ত নম্বর কত। এমনও আছে ৭৯ পেয়েছে, তার গ্রেড কিন্তু ‘এ’। আগে সে জানত না কত নম্বর পেয়ে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। এবার জানতে পারায় সে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছে। ফলে এবার শিক্ষার্থীরা অন্যান্যবারের চেয়ে আবেদন বেশি করেছে।

No comments:

Post a Comment