Saturday, October 1, 2016

আফগানবধের অপেক্ষা

১৯৮৬ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ৩০ বছরে ম্যাচ খেলেছে ৩১৪টি। এর মধ্যে জয় পেয়েছে ৯৯টি ম্যাচে। হেরেছে ২১১ ম্যাচে। বাকি ৪টি ম্যাচে ফলাফল আসেনি। অভিষেক ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টাইগাররা হেরেছিল ৭ উইকেটে। এর পর দীর্ঘদিন টানা হারতেই হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১২টি বছর। ১৯৯৮ সালে নিজেদের ১৯তম ম্যাচে ভারতের হায়দ্রাবাদে কেনিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে জয়ের সূচনা হয়।  এরপর হঠাৎ হঠাৎ জয় পেলেও ২০০৯ সালের পর অনেকটাই বদলে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেট। বড় দলগুলোর সাথে নিয়মিত জয়লাভ শুরু করে টাইগাররা। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। আফ্রিকান এ দেশটির বিরুদ্ধে ৬৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৩৯ টিতে। হেরেছে ২৮ টিতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ২৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৮টিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮ বারের দেখায় জয় ৭টিতে। পরাজয় ১৯টি ম্যাচে। দুইটি ম্যাচের ফলাফল আসেনি।
ভারতের বিপক্ষে ৩২টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৫টি ম্যাচে। হরেছে ২৬ টিতে। একটি ম্যাচের ফলাফল আসেনি।  শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৮টি একদিনের ম্যাচ খেলে ৪টি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছে ৩৩টি ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছে ৩৫টি ম্যাচ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর দেশটির বিপক্ষে পরবর্তী জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১৬ বছর। পরে গত বছর দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে তিন ম্যাচ সিরিজে হোয়াইওয়াশ করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ৪টি অন্যদিকে পরাজয় ৩১টি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭টি একদিনের ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় তিন ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে একমাত্র জয় পায় টাইগাররা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩ জয়ের বিপরীতে হার ১৩ টিতে। কেনিয়ার সাথে ১৪ বারের দেখায় বাংলাদেশের জয় ৮টি। অন্যদিকে পরাজয় ৬ ম্যাচে। এছাড়া স্কটল্যান্ড (৪), বারমুডা (২),  হংকং (১) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (১) বিপক্ষে সব ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত আফগানিস্তানিস্তানের সঙ্গে চারবারের দেখায় বাংলাদেশ দু্ইবার জিতেছে হেরেছে দু্ইবার। তাছাড়া কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১টি করে ম্যাচ হারার স্মৃতি রয়েছে টাইগারদের।
২০০৯ সালে ১৯টি ম্যাচের মধ্যে টাইগাররা জিতেছিলো ১৪টি ম্যাচ। ২০১০ সালে ২৬টি একদিনের ম্যাচ খেলে ১৯ পরাজয়ের বিপরীতে জয় আসে ৯ টিতে। ২০১১ সালে ২০ ম্যাচের মধ্যে জয় ৬ টিতে ও পরাজয় ১৪ টিতে। ২০১২ সালে এশিয়া বাংলাদেশ ৯ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৫ টিতে, পরাজয় বাকি চারটি ম্যাচে। ওই বছর এশিয়াকাপের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে ৯ টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় টাইগাররা। ওই বছর ৫ জয়ের বিপরীতে পরাজয় আসে ৩ টিতে। একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। ২০১৪ সালে টানা ১৩ ম্যাচ হারার পর বদল হয় অধিনায়কের। অধিনায়ক মাশরাফির নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বছরের শেষ একদিনের সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ। মাশরাফির অধিনায়কত্বে গত বছর ১৮ টি একদিনের ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৫ পরাজয়ের বিপরীতে জয় আসে ১৩ টি ম্যাচে। ওই বছর পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় হয়। ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজ দিয়েই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় টাইগাদের। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে আফগানরা। তাই আজকের ম্যাচটি পরিণত হয়েছে অলিখিত ফাইনালে। আজ যে দলটি জয়লাভ করবে সেই দলটিই সিরিজ জিতবে। তবে আজ বাংলাদেশ জিতলে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি হয়ে যাবে শততম জয়ের উৎসবও।

No comments:

Post a Comment