গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ১০০ দিন
পূর্ণ হওয়ার আগে গতকাল এক দিনেই পুলিশ ও র্যাবের তিনটি অভিযানে নিহত
হয়েছেন সন্দেহভাজন ১১ জঙ্গি। এ নিয়ে গত তিন মাসে সাতটি অভিযানে নিহত হলেন
নব্য জেএমবির ২৫ জঙ্গি। এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়ায় র্যাবের
আরেকটি অভিযানের সময় পাঁচতলা বাড়ি থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
র্যাবের দাবি, আবদুর রহমান ওরফে নাজমুল হক নামের এই ব্যক্তি জঙ্গিদের অর্থ
জোগানদাতা। গতকাল শনিবার গাজীপুরে দুটি পৃথক অভিযানে নয়জন এবং টাঙ্গাইলে
একটি অভিযানে দুজন নিহত হন। এই ১১ জনের মধ্যে কেবল তিনজনের নাম জানাতে
পেরেছে র্যাব-পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিএমপি
নিউজে বলা হয়, পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গিদের একজন ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ
ওরফে প্রভাত। তিনি নব্য জেএমবির ঢাকা বিভাগের ‘অপারেশন কমান্ডার’ ছিলেন।
ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন,
তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর এই আকাশ সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
অন্যদিকে র্যাব জানায়, গাজীপুরে তাদের অভিযানে নিহত দুজনের নাম হলো মো. রাশেদ মিয়া ও তৌহিদুল ইসলাম। এর মধ্যে তৌহিদ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ছাত্র এবং রাশেদ এবার এসএসসি পাস করেছে। র্যাব বলছে, তারা এই নাম বাড়ির মালিকের কাছ থেকে পেয়েছে। এটা প্রকৃত নাম কি না, সে বিষয় তারা নিশ্চিত নয়। এর আগে গত তিন মাসে রাজধানীতে তিনটি ও নারায়ণগঞ্জে একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নব্য জেএমবির কথিত সামরিক শাখার প্রধান তামিম চৌধুরীসহ নিহত হয়েছিলেন ১৪ জন। র্যাব ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল আটটায় প্রথম অভিযান শুরু করে র্যাব। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার হাঁড়িনালে একটি বাড়িতে এই অভিযানে নিহত হন দুজন। দুপুর ১২টার দিকে দেড় কিলোমিটার দূরে নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট। অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। সেখানে দুজন নিহত হন। গত রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত দুজনের পরিচয় মেলেনি। তবে তাঁরাও জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাব-পুলিশ জানায়, এই তিনটি অভিযানে সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি একে-২২ রাইফেলসহ পিস্তল ও রিভলবার ছয়টি। এ ছাড়া কয়েকটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
পাতারটেক অভিযান: নিহত ৭
পুুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল নয়টা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় পাতারটেক এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি ঘিরে রাখে। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট সেখানে অভিযান শুরু করে। অভিযানের নাম ‘অপারেশন স্পেট-এইট’। এটা চলে বিকেল তিনটা পর্যন্ত। অভিযান সম্পর্কে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা গোপন সূত্রে খবর পান যে ওই বাড়িতে নব্য জেএমবির নেতা আকাশ ও তাঁর সহযোগীরা অবস্থান নিয়েছেন। এরপর জেলা পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে। পরে ঢাকা থেকে সোয়াট টিম আসে এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। অভিযানের সময় আশপাশের এলাকার শত শত লোক সেখানে ভিড় জমায়। অভিযানের আগে ওই দোতলা ভবনে থাকা জঙ্গিদের বারবার আত্মসমর্পণের জন্য হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছারোয়ার হোসেন। পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ভেতর থেকে জঙ্গিরা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সাত জঙ্গির সবাই নিহত হন। নিহত জঙ্গিদের প্রকৃত পরিচয় জানার জন্য তাঁদের আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল, কিছু চাপাতি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ভারপ্রাপ্ত আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
অন্যদিকে র্যাব জানায়, গাজীপুরে তাদের অভিযানে নিহত দুজনের নাম হলো মো. রাশেদ মিয়া ও তৌহিদুল ইসলাম। এর মধ্যে তৌহিদ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ছাত্র এবং রাশেদ এবার এসএসসি পাস করেছে। র্যাব বলছে, তারা এই নাম বাড়ির মালিকের কাছ থেকে পেয়েছে। এটা প্রকৃত নাম কি না, সে বিষয় তারা নিশ্চিত নয়। এর আগে গত তিন মাসে রাজধানীতে তিনটি ও নারায়ণগঞ্জে একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নব্য জেএমবির কথিত সামরিক শাখার প্রধান তামিম চৌধুরীসহ নিহত হয়েছিলেন ১৪ জন। র্যাব ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল আটটায় প্রথম অভিযান শুরু করে র্যাব। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার হাঁড়িনালে একটি বাড়িতে এই অভিযানে নিহত হন দুজন। দুপুর ১২টার দিকে দেড় কিলোমিটার দূরে নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট। অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। সেখানে দুজন নিহত হন। গত রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত দুজনের পরিচয় মেলেনি। তবে তাঁরাও জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাব-পুলিশ জানায়, এই তিনটি অভিযানে সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি একে-২২ রাইফেলসহ পিস্তল ও রিভলবার ছয়টি। এ ছাড়া কয়েকটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
পাতারটেক অভিযান: নিহত ৭
পুুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল নয়টা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় পাতারটেক এলাকায় একটি দোতলা বাড়ি ঘিরে রাখে। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট সেখানে অভিযান শুরু করে। অভিযানের নাম ‘অপারেশন স্পেট-এইট’। এটা চলে বিকেল তিনটা পর্যন্ত। অভিযান সম্পর্কে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা গোপন সূত্রে খবর পান যে ওই বাড়িতে নব্য জেএমবির নেতা আকাশ ও তাঁর সহযোগীরা অবস্থান নিয়েছেন। এরপর জেলা পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে। পরে ঢাকা থেকে সোয়াট টিম আসে এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। অভিযানের সময় আশপাশের এলাকার শত শত লোক সেখানে ভিড় জমায়। অভিযানের আগে ওই দোতলা ভবনে থাকা জঙ্গিদের বারবার আত্মসমর্পণের জন্য হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছারোয়ার হোসেন। পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ভেতর থেকে জঙ্গিরা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সাত জঙ্গির সবাই নিহত হন। নিহত জঙ্গিদের প্রকৃত পরিচয় জানার জন্য তাঁদের আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল, কিছু চাপাতি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ভারপ্রাপ্ত আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
এ সময়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গি দমনে পুলিশ যেভাবে একের পর এক
সফলতা দেখাচ্ছে, তা প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, অভিযানের সময় কাউন্টার
টেররিজম ইউনিটের একজন সদস্য আহত হন। তাঁর হাতে গুলি লেগেছে। তাঁকে প্রাথমিক
চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়,
বাড়িটিতে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি সন্দেহভাজন জঙ্গিরা ভাড়া নিয়েছিলেন।
অন্যগুলোতে তিনটি পরিবার থাকে। বাড়িটির লাগোয়া আর কোনো বাড়ি নেই। বাড়ির
নিচতলায় থাকেন আসমা বেগম। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, সকাল
নয়টার দিকে সাদাপোশাকে সাত-আটজন লোক একটি অটোরিকশায় করে ওই বাড়িতে যান।
তাঁরা যখন ওপরে উঠছিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন তাঁরা কারা। জবাবে তাঁরা
বলেন, ওপরে তাঁদের লোক আছে। কিছুক্ষণ পরই ওই ব্যক্তিরা নেমে এসে সবাইকে
বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে পুলিশ অভিযান শুরু করে। আসমা বেগম বলেন,
যে ফ্ল্যাটে অভিযান হয়েছে, সেখানে নতুন ভাড়াটেরা আসেন দুই মাস আগে। তাঁদের
দু-একজনকে মাঝেমধ্যে সন্ধ্যার দিকে বের হতে দেখেছেন। বাড়িটির পাশের
চা-বিক্রেতা মফিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বাড়িটি সরোয়ার সরকার নামের এক
ব্যক্তির। তিনি বিদেশে থাকেন। তাঁর ভাই ওসমান গনি বাড়িটি দেখাশোনা করতেন।
পুলিশ গতকাল ওসমান গনিকে ধরে নিয়ে গেছে।
হাঁড়িনাল অভিযান: নিহত ২
গাজীপুর জেলা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হাঁড়িনাল বাজার। সেখান থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে গেলে হাঁড়িনাল পশ্চিমপাড়ার লেবুবাগান। সেখানে আতাউর রহমানের বাড়িতে গতকাল সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালায় র্যাব। অভিযান শেষে র্যাবের মিডিয়া ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, কিছুদিন আগে র্যাবের হাতে জেএমবি করে এমন দুটি দম্পতি ধরা পড়েন। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় যে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি জঙ্গি গ্রুপ সক্রিয় আছে। তারা যেকোনো জায়গায় নাশকতা চালাতে সক্ষম, তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, পরে গোপন সূত্রে খবর পান যে এই বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকালে অভিযান চালানো হয়। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটার দিকে র্যাব-১-এর ২০ জন সদস্য বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলেন। পরে র্যাবের সদস্য বাড়ানো হয়। তিনি বলেন, অভিযান চালাতে গেলে ঘরের ভেতর থেকে দুই জঙ্গি ১০-১৫টি গুলি ছোড়েন। র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ভেতরে দুজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেখান থেকে পরে একটি একে-২২ রাইফেল, রাইফেলের তিনটি ম্যাগাজিন, একটি নাইন এমএম পিস্তল ও পিস্তলের দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলেন, যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, সেটির নির্মাণকাজ শেষ হয় এক মাস আগে।
হাঁড়িনাল অভিযান: নিহত ২
গাজীপুর জেলা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হাঁড়িনাল বাজার। সেখান থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে গেলে হাঁড়িনাল পশ্চিমপাড়ার লেবুবাগান। সেখানে আতাউর রহমানের বাড়িতে গতকাল সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালায় র্যাব। অভিযান শেষে র্যাবের মিডিয়া ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, কিছুদিন আগে র্যাবের হাতে জেএমবি করে এমন দুটি দম্পতি ধরা পড়েন। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় যে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি জঙ্গি গ্রুপ সক্রিয় আছে। তারা যেকোনো জায়গায় নাশকতা চালাতে সক্ষম, তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, পরে গোপন সূত্রে খবর পান যে এই বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকালে অভিযান চালানো হয়। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটার দিকে র্যাব-১-এর ২০ জন সদস্য বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলেন। পরে র্যাবের সদস্য বাড়ানো হয়। তিনি বলেন, অভিযান চালাতে গেলে ঘরের ভেতর থেকে দুই জঙ্গি ১০-১৫টি গুলি ছোড়েন। র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ভেতরে দুজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেখান থেকে পরে একটি একে-২২ রাইফেল, রাইফেলের তিনটি ম্যাগাজিন, একটি নাইন এমএম পিস্তল ও পিস্তলের দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলেন, যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, সেটির নির্মাণকাজ শেষ হয় এক মাস আগে।
এরপর একতলা
বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযান শেষে র্যাবের সঙ্গে বাড়িতে ঢুকেছিলেন
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. মোফাজ্জল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গিদের
ঘরটিতে দুটি কক্ষ। কোনো কক্ষেই খাট নেই। একটি কক্ষের ফ্লোরে একটি বিছানা
এবং অন্য কক্ষে দুটি বিছানা রয়েছে। একটি বড় অস্ত্র পাওয়া যায় মারা যাওয়া
একজনের হাতে এবং নিহত আরেকজনের কাছ থেকে তিন-চার ইঞ্চি দূরে পড়ে ছিল ছোট
একটি অস্ত্র। ঘরের মধ্যে তিনি একটি চাপাতি ও চারটি ল্যাপটপ দেখেছেন।
জঙ্গিদের ফ্ল্যাটের উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে থাকেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের
ক্লিনার মির্জা আজম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘরটিতে যেদিন দুই যুবক
উঠেছিলেন, সেদিনই তিনি তাঁদের দেখেছিলেন। তাঁদের দুজনের পিঠে দুটি ব্যাগ
ছিল। এরপর আর কখনো তাঁদের দেখেননি। বাড়িটির আশপাশের অন্তত ১০ জনের সঙ্গে
কথা হয়েছে প্রথম আলোর। তাঁরা কেউই গুলির শব্দ পাননি বলে জানান।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির একজন বলেন, শনিবার ভোরে তিনি ফজরের নামাজ পড়তে উঠে
সেখানে র্যাব সদস্যদের দেখেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ির মালিক আতাউর রহমানের
সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, ‘আমি র্যাবের কার্যালয়ে
আছি। ওই ফ্ল্যাটে যারা ভাড়ায় উঠেছিল, তাদের সব প্রয়োজনীয় কাগজ তারা
দিয়েছিল। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আবার
ফোন দিলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঢাকার মহাখালীতে আতাউর রহমানের একটি
স্টেশনারি দোকান রয়েছে।
টাঙ্গাইলে অভিযান: নিহত ২
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় র্যাব টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ভেতরে থাকা জঙ্গিরা র্যাবের ওপর গুলি চালান। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নিহত হন। এ সময় র্যাবের দুই সদস্য আহত হন। পরে বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালিয়ে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ১২টি গুলি, ১০টি চাপাতি, দুটি ছুরি, দুটি মোবাইল ফোনসেট, দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় বলে র্যাবের কর্মকর্তারা জানান। নিহত দুজন হলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের আতিকুর রহমান ও একই উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের সাগর হোসেন। র্যাব-১২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন ফারুকী গতকাল রাত নয়টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এই দুজনের পরিচয় জানান। বাড়িটির মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আজাহার আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুই যুবক তাঁর তিনতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন।
টাঙ্গাইলে অভিযান: নিহত ২
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় র্যাব টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ভেতরে থাকা জঙ্গিরা র্যাবের ওপর গুলি চালান। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নিহত হন। এ সময় র্যাবের দুই সদস্য আহত হন। পরে বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালিয়ে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ১২টি গুলি, ১০টি চাপাতি, দুটি ছুরি, দুটি মোবাইল ফোনসেট, দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় বলে র্যাবের কর্মকর্তারা জানান। নিহত দুজন হলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের আতিকুর রহমান ও একই উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের সাগর হোসেন। র্যাব-১২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন ফারুকী গতকাল রাত নয়টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এই দুজনের পরিচয় জানান। বাড়িটির মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আজাহার আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুই যুবক তাঁর তিনতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন।
তাঁরা নিজেদের ছাত্র পরিচয় দিয়েছিলেন। ভাড়া নেওয়ার সময়
তাঁদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি চাওয়া হলে তাঁরা পরে দেবেন বলেছিলেন।
ভাড়া দেওয়ার পরদিন তিনি তাবলিগ জামাতে চলে যান, ফেরেন গত শুক্রবার। গতকাল
বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাগমারা মির্জা মাঠের উত্তর
পাশে তিনতলা বাড়িটি র্যাবের সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন। চারপাশে শত শত উৎসুক
মানুষ। বাড়ির দোতলার ভাড়াটে বিদ্যুৎ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, নিচতলার নতুন
ভাড়াটেদের কখনো দেখেননি তিনি। পাশের বাড়ির আবদুর রশিদ বলেন, গতকাল সকালে
গুলির শব্দ শুনতে পান, পরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন র্যাব সদস্যরা বের হয়ে
আসছেন। বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন
র্যাব-১২-এর অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন খান। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে
দুর্গাপূজা ও আশুরার অনুষ্ঠানে হামলা করে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানোর
পরিকল্পনা করছিলেন এই জঙ্গিরা।

No comments:
Post a Comment