আর্থ্রাইটিস
বা সন্ধি বাত সারিয়ে তুলবে মৌমাছির বিষ দিয়ে তৈরি ইনজেকশন। ইঁদুরের ওপর
চালানো গবেষণার ভিত্তিতে এ আশাবাদ করছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। বর্তমান
বিশ্বে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ সন্ধি বাতে ভুগছেন। আগামী দিনে তাদের জন্য এ
চিকিৎসা পদ্ধতি নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে। আর্থ্রাইটিসে ধ্বংস হতে থাকে দেহের
নরমাস্থি। দেহসন্ধিতেই মূলত থাকে নরমাস্থি। গাড়ির ক্ষেত্র শক-অ্যাবজরবার
যে দায়িত্ব পালন করে দেহে ঠিক একই দায়িত্ব পালন করে নরমাস্থি। নরমাস্থিতে
ক্ষয় ঘটলে বা এটি ধ্বংস হলে রোগীর দেহসন্ধিতে প্রদাহ দেখা দেয়। প্রচণ্ড
ব্যথা সৃষ্টি হয়।
রোগীর হাঁটাচলা সীমিত
হতে থাকে। এবারে মৌমাছির বিষ থেকে নেয়া পেপটাইড দিয়ে ক্ষুদে ন্যানো
পার্টিকেলস বা ন্যানোকণিকা তৈরি করেছেন গবেষকরা। খালি চোখে এগুলোকে দেখা
যাবে না। মেলিটটিন নামের এ পেপটাইডের রয়েছে প্রদাহনাশক শক্তিশালী ক্ষমতা।
এতে দেহের নরমাস্থি ধ্বংস ঠেকানো সম্ভব হবে। মৌমাছির বিষ নিয়ে গবেষণায় এ
সাফল্য অর্জন করেছেন সেইন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব
মেডিসিনের গবেষকরা। মৌমাছির বিষ দিয়ে ইনজেকশন তৈরিতে সহায়তা করেছেন অধ্যাপক
স্যামুয়েল উইকলাইন। অবশ্য এখনও মানবদেহে এ চিকিৎসার কার্যকারিতা পরীক্ষা
করে দেখা হয়নি। তাই এটি বাজারে আসতে আরও অনেকে দেরি হবে তা সহজেই অনুমান
করা যায়। গবেষকরা বলেছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে হাড়ে মারাত্মক
আঘাত পাওয়ার পরই এটি দেয়া হলে সন্ধি বাত হওয়ার আশংকা ঠেকানো যাবে। এছাড়া,
সন্ধি বাতে দীর্ঘদিন ভুগছেন এমন রোগীকে এটি দেয়া হলে তাদেরও প্রচণ্ড
বেদনাদায়ক পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। হুল ফোটানোর পর তীব্র যন্ত্রণা হয়।
মৌমাছির বিষের কারণেই এমনটি হয়। এই মৌমাছির বিষের প্রদাহনাশক ক্ষমতার কথা
অনেককাল ধরেই মানুষ জানে। কিন্তু এ বিষ নিরাপদে সরাসরি মানব শরীরে ঢোকানোর
পথ পাওয়া যাচ্ছিল না।

No comments:
Post a Comment