Sunday, October 16, 2016

গৌরনদীতে সামাজিক বনায়নের সহস্রাধিক গাছ লুট

সড়কের গাছ কেটে নিয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
বিল্লগ্রাম থেকে গত বৃহস্পতিবার তোলা ছবি। প্রথম আলো
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি সড়ক থেকে সহস্রাধিক ছোট-বড় গাছ কেটে নিয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক বনায়নের এসব বৃক্ষনিধন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন কিছুই জানে না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে গৌরনদীর মাহিলাড়া ইউনিয়নের বিল্লগ্রাম হাটের কাছের সেতু থেকে জঙ্গলপট্টি মাদ্রাসা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে এ সামাজিক বনায়ন করা হয়। এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন সেক্টর প্রকল্পের অধীনে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি এ বনায়নে যুক্ত ছিল। এর আওতায় সমিতি সড়কের দুই পাশে রেইনট্রি, মেহগনি, কড়ই, শিশু ও রাজ কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগায়। সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সমিতির ৪০৫ জন সদস্য রয়েছেন, যাঁরা এই সামাজিক বনায়নের বড় অংশের মালিক। কিন্তু উপজেলার বিল্লগ্রাম গ্রামের প্রভাবশালী গোপী রায়, জীবন পাল, প্রেমা পাল, সুকণ্ঠ পাল, সুশীল পাল, বড় জীবন পাল, রশিদ খান ও সুজন নন্দীসহ ৩০-৩৫ জন সম্প্রতি ছোট-বড় সহস্রাধিক গাছ বিক্রি করে দেন। স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মো. হাসান, মো. সুলতান, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. তৈয়ব আলী ও মো. দুলালসহ ১০-১২ জন ব্যবসায়ী গাছগুলো কিনে ৭ থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নেন। মেহেদী হাসান ও কহিনুর বেগমসহ স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা বলেন, সাত দিন ধরে নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে। এরপর বিল্লগ্রাম ধামুরা খালে ট্রলার ভিড়িয়ে গাছগুলো অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিল্লগ্রাম হাট ব্রিজ থেকে দক্ষিণে জঙ্গলপট্টি মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছের গোড়া পড়ে আছে। এক কিলোমিটার সড়কে গোড়া গুনে দেখা যায়, ছোট-বড় ৩৫০টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছ বিক্রেতা বিল্লগ্রাম গ্রামের রশিদ খানসহ কয়েকজন গাছগুলো নিজেদের দাবি করেন। রশিদ বলেন, ‘সরকারি গাছ বিক্রি করি নাই। আমি নিজের জমিতে থাকা গাছ বিক্রি করেছি।’ সুকণ্ঠ পাল বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। যখন দেখেছি সবাই গাছ কেটে নিচ্ছে, তখন আমিও আমার জমির মাথায় থাকা গাছ বিক্রি করেছি।’ গাছ ব্যবসায়ী ও মাহিলাড়া ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সুলতান আহম্মেদ বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ীই সড়কের গাছ কিনেছে। দাম কম হওয়ায় অধিক মুনাফার আশায় আমিও কিছু গাছ কিনেছি।’ আরেক ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন, ‘সড়কের পাশের জমির মালিকেরা নিজেদের গাছ দাবি করে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি প্রায় দুই লাখ টাকায় সাতজনের গাছ কিনেছি।’ গৌরনদী উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মনীন্দ্রনাথ হালদার বলেন, ‘সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কেউই কোনো অভিযোগ দেয়নি।’ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফজল আহম্মেদ বলেন, ‘গাছ কাটলে তা দেখবে পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ কমিটিসহ স্থানীয় প্রশাসন। আমাদের কিছুই করার নেই।’ উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment