কাশ্মির
নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার
প্রস্তাব দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তার মুখপাত্র স্টিফেন
ডুজাররিক শুক্রবার দিনশেষে উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য্যরে পরিচয় দিতে ও এ
বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি এ
আহ্বান জানানোর কয়েক ঘন্টা পরেই শনিবার ভোরে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের
মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। ভোর ৪টায় তা শুরু হয়ে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলতে
থাকে। বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস
(আইএসপিআর)। স্টিফেন ডুজাররিক বলেছেন, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ বিষয়ে যেকোনো প্রস্তাব বা উত্তেজনা
প্রশমনে আনা পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানাবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল
জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, দু’সপ্তাহ আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের উরি
এলাকায় ভারতীয় একটি সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে নিহত হন ভারতের
১৮ সেনা সদস্য। এ জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারত। কিন্তু পাকিস্তান এ দায়
অস্বীকার করছে। এ নিয়েই দু’দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই
প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন পাকিস্তানি
রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি। এ সময় তিনি পরিস্থিতিতে বান কি মুনের ব্যক্তিগত
হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বান কি মুনের সঙ্গে
ওই বৈঠক শেশে মালিহা লোদি বলেছেন, এটা এ অঞ্চলের জন্য একটি বিপদজনক
মুহূর্ত। আমরা যেহেতু এ সঙ্কট এড়িয়ে যেতে চাই তাই সময় এসেছে তার (মহাসচিব)
হস্তক্ষেপের। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভারত বলেছে, তারা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত
কাশ্মিরের বেশ কয়েক কিলোমিটার ভিতরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে। এর
জবাবে পাকিস্তান বলেছে, এটা কোন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না। এটা ছিল
সীমান্তের দু’পাড়ের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক
বিবৃতিতে বলেছে, মিথ্যা তথ্য প্রতিষ্ঠিত করতে এমন প্রচারণা চালাচ্ছে ভারত।
ওদিকে জাতিসংঘে ভারতীয় মিশন বার্তা সংস্থা এএফপিকে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
তাতে বলা হয়েছে, অবস্থার কোনো অবনতি ঘটানোর ইচ্ছা ভারতের নেই। ‘সন্ত্রাস
বিরোধী হগামলা চালিয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি’। সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে
পরিষ্কারভাবে যে হুমকি আসছিল তার বিরুদ্ধে ছিল এ অভিযান।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment