ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কবল থেকে তাদের
দখলকৃত সর্বশেষ ঘাঁটি মসুল নগরী পুনর্দখলে ইরাকি বাহিনী অভিযান শুরু করেছে।
সোমবার ভোরে সুন্নি অধ্যুষিত এ নগরীর আইএস অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ
শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ অভিযানে কুর্দি পেশমার্গা, ইরাক সরকার ও তাদের
মিত্র বাহিনী অংশ নিয়েছে। সরকারি বাহিনীর ট্যাংকগুলো নগরীর অভিমুখে অগ্রসর
হচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানকার ৭টি গ্রামের দখল নেয়ার দাবি করেছে ইরাকি কুর্দি
পেশমার্গা বাহিনী। মসুলে সাম্প্রতিক আক্রমণ অন্তত ১ লাখ ইরাকিকে সিরিয়া ও
তুরস্ক ছেড়ে পালাতে বাধ্য করতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক
সংস্থা ইউএনএইচসিআর। চেয়েছেন ৬১ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা। তবে এ
ব্যাপারে নিজেদের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। খবর
বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের। সোমবার ভোরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার
আল-আবাদি টেলিভিশনের এক ভাষণে এ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।
ভাষণে আবাদি বলেন,
বিজয়ের ঘণ্টা আমাদের সন্নিকটে। দায়েসের (আইএস) সন্ত্রাস ও অত্যাচার থেকে
আপনাদের মুক্ত করার জন্য আজ আমি একটি বীরোচিত অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় স্বাধীনতা উদযাপন এবং আইএসের দাসত্ব
থেকে আপনাদের মুক্ত করার উৎসবে আমরা মসুলে মিলিত হব। তিনি আরও বলেন, আমরা
একসঙ্গে আইএসকে পরাজিত করব। ফলে মসুলে আবার সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বাস
করতে পারে। আমাদের প্রিয় নগরী মসুলের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আমরা তাদের পরাজিত
করব। শুধু সরকারি বাহিনীর সদস্যরা সুন্নি প্রধান মসুলে ঢুকবে বলে তিনি
অঙ্গীকার করেন। টেলিভিশনে এ ভাষণ দেয়ার সময় ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ
কমান্ডাররা আবাদির পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল
২০১৪ সাল থেকে আইএসের নিয়ন্ত্রণে আছে। ওই বছরই আইএসের নেতা আবু বকর আল
বাগদাদি মসুলের প্রধান মসজিদ থেকেই ইরাক ও প্রতিবেশী সিরিয়ায় আইএসের দখলকৃত
এলাকায় ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একজন কুর্দি জেনারেল বলেন,
‘আমি যদি আজ মরেও যাই, তবে সন্তুষ্ট চিত্তে মারা যাব। কারণ আমি আমার
মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছি।’ কর্মকর্তারা বলেন, ইরাকি বাহিনী যদি এই
নগরীটি আইএসের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করতে পারে তবে তা হবে জিহাদি সংগঠনটির
জন্য একটি বড় ধরনের পরাজয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপরই আল-জাজিরা
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে মসুলের ওপর বোমাবর্ষণের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
পাশাপাশি রকেট ছোড়ার,
ট্রেসার বুলেটের বিস্ফোরণের দৃশ্য এবং ব্যাপক
গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। কুর্দি বাহিনী বলছে, ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি
গ্রামের দখলে নিয়ে ফেলেছে। ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরবর্তী
কায়ারা বিমানঘাঁটি থেকে অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। ইরাকের
উত্তরাঞ্চলীয় নাইনেভা প্রদেশের রাজধানী মসুল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্র সৃষ্টির
জন্য গত আগস্টে নগরী থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কৌশলগত কায়ারা শহর
নিয়ন্ত্রণে নেয় সরকারি বাহিনী। বিশ্লেষকরা বলছে, অভিযানটি খুবই জটিল। এটি
শেষ হতে আনুমানিক কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে
অন্যতম বড় এ অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি কুর্দিদের ৪ হাজার পেশমার্গা বেসামরিক বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়
সুন্নি নৃগোষ্ঠীর যোদ্ধারাও রয়েছেন। এ অভিযানে বিমান হামলায় সহায়তা দিচ্ছে
মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। পেন্টাগনে হিসাবে, মসুল নিজেদের দখলে রাখার এ
যুদ্ধে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার আইএস জঙ্গি লড়ছে। এদিকে, জাতিসংঘ মসুলে
বসবাসরত বেসামরিক লোকের নিরাপত্তার ব্যাপারে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।

No comments:
Post a Comment