সম্মিলিত
সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চের সমন্বয়ক,
প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা অজয় রায় আর নেই। তিনি আজ ভোর ৫টায় ধানমণ্ডির নিজ
বাসভবনে মারা যান।
অজয় রায় ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে। বাবা প্রমথনাথ রায় বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন। মা কল্যাণী রায়। ৮৮ বছর বয়সী অজয় রায় মৃত্যুকালে স্ত্রী জয়ন্তী রায়, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে সুইজারল্যান্ডে এবং ছেলে ও ছোট মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
অজয় রায়ের লাশ বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে নিজ ভিটায় তাকে দাফন করা হবে।
অজয় রায় ১৯৩৭ সালে বারানসীতে চতুর্থ শ্রেণিতে স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৪৩ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৫ সালে বারানসী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করে সেখানেই ফার্মেসি বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে বাবা ও মা মারা যাওয়ার কারণে তিনি বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার ছেদ ঘটিয়ে কিশোরগঞ্জে ফিরে আসেন। পরে ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মুন্সীগঞ্জ থেকে বিকম পাস করেন।
অজয় রায় স্কুলের ছাত্র থাকাবস্থায়ই ভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বারানসী স্কুলেই তিনি ছাত্র ফেডারেশনের সংস্পর্শে আসেন এবং কমিউনিস্ট নেতাদের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ২৮ মার্চ ময়মনসিংহে ইপিআর ছাউনি ঘেরাও করে জনগণ ছয়জন পাঞ্জাবি সৈনিককে জেলে ঢুকিয়ে অজয় রায়কে মুক্ত করে আনেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কমরেড অজয় রায় ময়মনসিংহে ফিরে আসেন এবং পুনরায় কমিউনিস্ট পার্টির কাজে যুক্ত হন। অজয় রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সর্বমোট ১৮ বছর জেল খেটেছেন এবং স্বাধীনতার আগে-পরে পাঁচ বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে কাটিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট কেন্দ্রের সভাপতি ছিলেন তিনি। তবে বষীয়ান এই নেতার দল কমিউনিস্ট কেন্দ্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরে তিনি এর থেকে বেরিয়ে যান। গঠন করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন।
এদিকে অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের বামপন্থী কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় প্রয়াত কমরেড অজয় রায়ের শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি বিমল বিশ্বাস, কার্যকরী সভাপতি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজুও বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
>>>নয়া দিগন্ত
অজয় রায় ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে। বাবা প্রমথনাথ রায় বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন। মা কল্যাণী রায়। ৮৮ বছর বয়সী অজয় রায় মৃত্যুকালে স্ত্রী জয়ন্তী রায়, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে সুইজারল্যান্ডে এবং ছেলে ও ছোট মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
অজয় রায়ের লাশ বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রামে নিজ ভিটায় তাকে দাফন করা হবে।
অজয় রায় ১৯৩৭ সালে বারানসীতে চতুর্থ শ্রেণিতে স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৪৩ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৫ সালে বারানসী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করে সেখানেই ফার্মেসি বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে বাবা ও মা মারা যাওয়ার কারণে তিনি বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার ছেদ ঘটিয়ে কিশোরগঞ্জে ফিরে আসেন। পরে ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মুন্সীগঞ্জ থেকে বিকম পাস করেন।
অজয় রায় স্কুলের ছাত্র থাকাবস্থায়ই ভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বারানসী স্কুলেই তিনি ছাত্র ফেডারেশনের সংস্পর্শে আসেন এবং কমিউনিস্ট নেতাদের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ২৮ মার্চ ময়মনসিংহে ইপিআর ছাউনি ঘেরাও করে জনগণ ছয়জন পাঞ্জাবি সৈনিককে জেলে ঢুকিয়ে অজয় রায়কে মুক্ত করে আনেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কমরেড অজয় রায় ময়মনসিংহে ফিরে আসেন এবং পুনরায় কমিউনিস্ট পার্টির কাজে যুক্ত হন। অজয় রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সর্বমোট ১৮ বছর জেল খেটেছেন এবং স্বাধীনতার আগে-পরে পাঁচ বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে কাটিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট কেন্দ্রের সভাপতি ছিলেন তিনি। তবে বষীয়ান এই নেতার দল কমিউনিস্ট কেন্দ্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরে তিনি এর থেকে বেরিয়ে যান। গঠন করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন।
এদিকে অজয় রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের বামপন্থী কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় প্রয়াত কমরেড অজয় রায়ের শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি বিমল বিশ্বাস, কার্যকরী সভাপতি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজুও বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
>>>নয়া দিগন্ত

No comments:
Post a Comment