![]() |
| প্যারিসের নর্ড ভিলপাঁন্তে গতকাল থেকে শুরু হওয়া খাদ্যপণ্যের মেলায় বাংলাদেশের প্রাণ গ্রুপের স্টলে ক্রেতারা। প্রথম আলো |
প্যারিসের নর্ড ভিলপাঁন্তে গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খাদ্যপণ্যের মেলা সিয়াল ফেয়ার। নিজস্ব পণ্যের পসরা নিয়ে বৈশ্বিক এই মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের প্রাণ গ্রুপ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে বিভিন্ন দেশের প্রায় সাত হাজার প্রতিষ্ঠান এই মেলায় নিজ নিজ পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ গ্রুপ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা। বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের অন্যতম মেলা সিয়ালের এবারের প্রতিপাদ্য ‘লুক ডিপার’ বা ‘গভীরে তাকাও’। বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাপন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য আচরণে যে পরিবর্তন ঘটছে, সেটিকে নির্দেশ করেই এমন স্লোগান।
প্রতি দুই বছর পরপর এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। যার লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী খাবারের নতুন চলমান প্রবণতা এবং অভিনব উৎপাদনগুলো তুলে ধরা। আর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য থাকে নিজ নিজ দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজার দখল করা। কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নতুন রেসিপি কিংবা পণ্য উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্যও এই মেলা বেশ সহায়ক। গতকাল মেলায় ঘুরে দেখা গেল, প্রায় পাঁচটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান প্রদর্শনী কেন্দ্রে নানা দেশীয় পণ্যের স্টল। চীন, ব্রাজিল, তুরস্ক কিংবা বেলজিয়ামের মতো দেশগুলো বিশাল এলাকাজুড়ে নিজ নিজ পণ্যের প্রদর্শনী করছে। ‘মেড ইন ব্রাজিল’ কিংবা ‘মেড ইন বেলজিয়াম’ লেখা সুবিশাল ব্যানারে নিজ নিজ দেশের ব্র্যান্ড পরিচয় প্রচারের চেষ্টাও লক্ষ করা গেল। বেকারি পণ্য থেকে শুরু করে শিশুদের নানা খাবার, কাঁচা কিংবা প্রক্রিয়াজাত, তাজা অথবা হিমায়িত হরেক রকমের খাবারের পসরা এসব স্টলে। কোথাও কোথাও আবার বিভিন্ন দেশের রেসিপি রান্না করেও দেখানো হচ্ছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং অভিনব খাবার বাছাই করে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। এই মেলার বিশেষ দিক হলো এখানকার দর্শনার্থীরা সব খাবার সরবরাহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রাণের স্টলে যাঁদের ভিড়, তাঁদের কেউ চাইছেন ইতালিতে সরবরাহকারী হতে,
কেউ চাইছেন কোনো বিশেষ পণ্য নিজেদের ব্যানারে বানিয়ে নিতে। আবার কারও চাওয়া প্রাণের পণ্য কিনে নিজ দেশে বিক্রি করা। বিভিন্ন দেশ থেকে এসব খাদ্য ব্যবসায়ী এসেছেন নিজেদের ব্যবসার নতুন সুযোগ খুঁজতে। প্রাণ-এর রপ্তানিবিষয়ক প্রধান মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, টানা অষ্টমবারের মতো প্রাণ এই সিয়াল ফেয়ারে অংশ নিয়েছে। এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রাণ নিজেদের নতুন নতুন পণ্যগুলো বিদ্যমান ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরে। একই সঙ্গে থাকে নতুন ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা। বিশেষ করে ইউরোপ ও আফ্রিকায় নতুন নতুন বাজার তৈরি। তিনি জানান, প্রাণ বর্তমানে ১৩০টি দেশে পণ্য রপ্তানি করে যার মধ্যে আফ্রিকার ৩৫টি দেশ রয়েছে। মিজানুর রহমান বলেন, এই মেলা থেকে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের বাজার সম্পর্কে হালনাগাদ ধারণা পাওয়া যায়, যা কাজে লাগিয়ে প্রাণ নতুন নতুন পণ্য তৈরির কাজ করে। প্রাণের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (রপ্তানি) গোলাম রসুল প্রথম আলোকে বলেন, এবারের মেলায় কনফেকশনারি ও বেভারেজ মিলে প্রাণের দুই শতাধিক পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত দেড় বছরে প্রাণ শতাধিক নতুন পণ্য বাজারে এনেছে, যা এবারের মেলায় দুটি ভিন্ন স্টলে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment