জঙ্গিবাদের বিষয়টিকে সামনে রেখে
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণাÍক কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে ভারত। পাঁচ
জাতির ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে
পাকিস্তানকে আরও কোণঠাসা করতে চাইছে ভারত। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের
এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রুশ
প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রাজিলের
প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা
অংশগ্রহণ করছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্রিকস জোটভুক্ত পাঁচ দেশে বাস করেন
৩৬০ কোটি মানুষ, যা পুরো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার সমান। আর এ
দেশগুলোর মোট জিডিপি প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার।
সম্প্রতি
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব^ চরমে ওঠায় এবারের সম্মেলনটি
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এবারের ব্রিকস সম্মেলনে জঙ্গিবাদের হুমকি,
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা
হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণে
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতা চাইবে ভারত। এক ফেসবুক
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য
দেশগুলোর মধ্যকার সহযোগিতা বাড়বে। সেইসঙ্গে উন্নয়ন, শান্তি, স্থিতিশীলতা
এবং সংস্কারের পারস্পরিক সাধারণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও অগ্রসর হওয়া যাবে।’
ধারণা করা হচ্ছে, ভারত ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদবিরোধী
সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চাইছে। সম্প্রতি জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ
মোকাবেলায় একটি কনভেনশনের উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের
সংজ্ঞা নিয়ে দ্বিমত থাকায় তা কার্যকর করা যায়নি। এ নিয়েও এবারের সম্মেলনে
আলোচনা হতে পারে। সম্মেলন চলাকালে মোদি রুশ ও চীনা প্রেসিডেন্টসহ অন্য
নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। এক সংবাদ
সম্মেলনে রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ জানিয়েছেন, সম্প্রতি
পাকিস্তানের সঙ্গে রুশ সামরিক বাহিনীর যৌথ মহড়ার বিষয়টি আলোচনা উত্থাপন করা
হবে। মোদি বলেছেন,
‘বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রতিনিধিরা এখানে অংশ
নিচ্ছেন। আমরা আশা করছি, তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভাজন কমাতে সহায়ক হবে।’
ভারত বিভিন্ন দেশের নেতার সামনে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা সম্পর্কিত আলোচনায় উরি
সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার বিষয়টিকে সামনে তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা, আফগানিস্তানের আশরাফ গণি, ভুটানের শেরিং তবগে,
মালদ্বীপের আবদুল্লা ইয়ামিন, মিয়ানমারের অং সান সুচি, নেপালের পুষ্প কমল
দাহাল, শ্রীলংকার মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এবং থাইল্যান্ডের ক্ষমতাসীন নেতা
প্রায়ুথ চান ওচা এবারের ব্রিকস-বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলে
জানা গেছে। ভারত সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং জি-২০
সম্মেলনেও জঙ্গিবাদের বিষয়টিকে সামনে রেখে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক
তৎপরতা চালিয়েছে। এবার সেই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতে তৎপরতায় পাকিস্তান ইতিমধ্যেই কূটনৈতিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদত
দেয়ার নিন্দায় সরব হয়েছে।

No comments:
Post a Comment