পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছর টানা দুটি
সেঞ্চুরি করার পর তামিম ইকবাল আরও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। পাঁচ হাফ
সেঞ্চুরির ইনিংসগুলো যথাক্রমে ৬৪, ৬০ ৬১* ৭৩ ও ৮০। সর্বশেষ ফিফটি এই
আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরেই। হাবিবুল বাশার সুমনের পর তাকে নতুন ‘মি.
ফিফটি’ নামে ডাকাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই তামিমই কাল এক বছরেরও বেশি সময় পর
ওয়ানডেতে আবার সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। বাংলাদেশের রান মেশিন পা দিলেন সপ্তম
স্বর্গে। ১৫৬ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরিটি এলো আফগানদের
বিপক্ষেই। দু’দলের পাঁচবারের মুখোমুখিতে এটাই কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম
সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের ব্যাটিং রেকর্ডের প্রায় সবই নিজের করে নিয়েছেন তামিম।
এবার আরেকটি রেকর্ড শুধু একার করে নিলেন। সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে তামিম
এখন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক। সমান ছয়টি করে
সেঞ্চুরি নিয়ে রেকর্ডটি এতদিন যৌথভাবে ছিল দু’জনের।
তামিম অবশ্য কাল ফিরতে পারতেন এক রানেই। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আফগান স্পিনার মোহাম্মদ নবীর ফাঁদে পা দেন তামিম। শর্ট বলটা মারতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তবে সহজ ক্যাচটা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই। ক্যাচ মিসের চড়া মাশুল গুনতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। প্রথম ওয়ানডেতে ৩০ রানের সময় একবার জীবন পেয়ে তামিম ইনিংসটা নিয়ে গিয়েছিলেন ৮০ রানে। কাল শুরুতেই জীবন পেয়ে সঙ্গে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। পরে অবশ্য ১১৮ বলে ১১৮ রান করে সেই নবীর বলেই ফিরেছেন তামিম। ২০০৭ সালে অভিষেকের পর তামিম প্রথম সেঞ্চুরি করেন ২০০৮ সালে ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। নিজের ২৭তম ওয়ানডেতে তামিম সেদিন ১৩৬ বলে করেন ১২৯ রান। ১৫৬ ওয়ানডেতে তামিমের হাফ সেঞ্চুরি ৩৩টি। দু’বার আউট হয়েছেন নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১০ সালে এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৫ সালে ৯৫ রানে আউট হন তিনি। আশির ঘরে তিনবার ও সত্তরের ঘরে আউট হয়েছেন ছয়বার। এছাড়া ১৩ বার আউট হয়েছেন ষাটের ঘরে গিয়ে।
কাল মিরপুরে ওই একটি ক্যাচ বাদ দিলে প্রায় নিখুঁত একটি ইনিংস খেলেছেন তামিম। আউট হয়ে ফেরার আগে আর কোনো সুযোগই দেননি তিনি। নবীর দ্বিতীয় বলে জীবন পাওয়ার পর একই ওভারে তাকে চার মেরে আÍবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন তামিম। এরপর আর কাউকেই ছাড় দেননি তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বির রহমানকে নিয়ে গড়েন ১৪০ রানের জুটি। মিড-অফ, মিড-অন, কভার দিয়ে মারা তার শটগুলো ছিল দৃষ্টিনন্দন। যে রাশিদ খানের লেগ-স্পিন খেলতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে তাকেই কভার দিয়ে যে চারটা মারলেন সেটাই হয়তো দিনের সেরা শট হয়ে থাকবে। তামিম ফিফটি করেন ৬৩ বলে। এ সময়ে মাত্র পাঁচটি চার মারেন। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে লেগেছে ১১০ বল। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে রহমত শাহর এক ওভারে একটি চার ও টানা দুটি ছয় মেরে বাংলাদেশের রানের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তামিম আউট হন নবীর বলে। লং-অফ দিয়ে ছয় হাঁকাতে গিয়ে টাইমিং গড়বড় করে ফেলেন। বদলি ফিল্ডার নাভিন উল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১১৮ বলে ১১টি চার ও দুটি ছয়ে ১১৮ রানে ফেরেন তামিম। শেষ পর্যন্ত আট উইকেটে ২৭৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি
ব্যাটসম্যান ম্যাচ সেঞ্চুরি সর্বোচ্চ গড় রান
তামিম ইকবাল ১৫৬ ৭ ১৫৪ ৩২.৪৪ ৪৯৩১
সাকিব আল হাসান ১৬০ ৬ ১৩৪* ৩৫ ৪৪৮০
শাহরিয়ার নাফীস ৭৫ ৪ ১২৩* ৩১.৪৪ ২২০১
মুশফিকুর রহিম ১৬১ ৪ ১১৭ ৩১.৩০ ৩৯৭৬
বাংলাদেশ
রান বল ৪ ৬
তামিম ক বদলি ব নবী ১১৮ ১১৮ ১১ ২
সৌম্য ক শাহজাদ ব আশরাফ ১১ ১১ ১ ০
সাব্বির ক নওরোজ ব রহমত ৬৫ ৭৯ ৬ ৩
সাকিব ক শাহজাদ ব দৌলত ১৭ ৩৫ ১ ০
মুশফিক এলবিডব্ল– ব রশীদ ১২ ১৩ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ নটআউট ৩২ ২২ ৪ ০
মোসাদ্দেক স্টা. শাহজাদ ব রশীদ ৪ ৪ ১ ০
মোশাররফ ক নাজিবউল্লাহ ব নবী ৪ ১৪ ০ ০
মাশরাফি ক নওরোজ ব আশরাফ ২ ৪ ০ ০
শফিউল নটআউট ২ ১ ০ ০
অতিরিক্ত ১২
মোট (৮ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৭৯
উইকেট পতন : ১/২৩, ২/১৬৩, ৩/২১২, ৪/২২৬, ৫/২৩০, ৬/২৩৫, ৭/২৪৮, ৮/২৭০।
বোলিং : মোহাম্মদ নবী ১০-১-৪১-২, দৌলত জাদরান ১০-০-৫৮-১, মিরওয়াইজ আশরাফ ৮-০-৪৩-২, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ৩-০-২৮-০, রাশিদ খান ১০-০-৩৯-২,
রহমত শাহ ৮-০-৫৯-১, নওরোজ মঙ্গল ১-০-৯-০।
আফগানিস্তান ৯৪/৭, ২৬.৫ ওভারে (মোহাম্মদ শাহজাদ ০, নওরোজ মঙ্গল ৩৩, রহমত শাহ ৩৬, হাশমতউল্লাহ শাহিদি ০, আসগর স্টানিকজাই ১, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ১৩, মোহাম্মদ নবী ৩, নাজিবউল্লাহ জাদরান ১*, রাশিদ খান ৪*, অতিরিক্ত ৩। মাশরাফি মুর্তজা ১/১৫, মোশাররফ
হোসেন ৩/১৫, তাসকিন আহমেদ ২/২৬)। অসমাপ্ত।
তামিম অবশ্য কাল ফিরতে পারতেন এক রানেই। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আফগান স্পিনার মোহাম্মদ নবীর ফাঁদে পা দেন তামিম। শর্ট বলটা মারতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তবে সহজ ক্যাচটা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই। ক্যাচ মিসের চড়া মাশুল গুনতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। প্রথম ওয়ানডেতে ৩০ রানের সময় একবার জীবন পেয়ে তামিম ইনিংসটা নিয়ে গিয়েছিলেন ৮০ রানে। কাল শুরুতেই জীবন পেয়ে সঙ্গে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। পরে অবশ্য ১১৮ বলে ১১৮ রান করে সেই নবীর বলেই ফিরেছেন তামিম। ২০০৭ সালে অভিষেকের পর তামিম প্রথম সেঞ্চুরি করেন ২০০৮ সালে ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। নিজের ২৭তম ওয়ানডেতে তামিম সেদিন ১৩৬ বলে করেন ১২৯ রান। ১৫৬ ওয়ানডেতে তামিমের হাফ সেঞ্চুরি ৩৩টি। দু’বার আউট হয়েছেন নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১০ সালে এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৫ সালে ৯৫ রানে আউট হন তিনি। আশির ঘরে তিনবার ও সত্তরের ঘরে আউট হয়েছেন ছয়বার। এছাড়া ১৩ বার আউট হয়েছেন ষাটের ঘরে গিয়ে।
কাল মিরপুরে ওই একটি ক্যাচ বাদ দিলে প্রায় নিখুঁত একটি ইনিংস খেলেছেন তামিম। আউট হয়ে ফেরার আগে আর কোনো সুযোগই দেননি তিনি। নবীর দ্বিতীয় বলে জীবন পাওয়ার পর একই ওভারে তাকে চার মেরে আÍবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন তামিম। এরপর আর কাউকেই ছাড় দেননি তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বির রহমানকে নিয়ে গড়েন ১৪০ রানের জুটি। মিড-অফ, মিড-অন, কভার দিয়ে মারা তার শটগুলো ছিল দৃষ্টিনন্দন। যে রাশিদ খানের লেগ-স্পিন খেলতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে তাকেই কভার দিয়ে যে চারটা মারলেন সেটাই হয়তো দিনের সেরা শট হয়ে থাকবে। তামিম ফিফটি করেন ৬৩ বলে। এ সময়ে মাত্র পাঁচটি চার মারেন। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে লেগেছে ১১০ বল। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে রহমত শাহর এক ওভারে একটি চার ও টানা দুটি ছয় মেরে বাংলাদেশের রানের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তামিম আউট হন নবীর বলে। লং-অফ দিয়ে ছয় হাঁকাতে গিয়ে টাইমিং গড়বড় করে ফেলেন। বদলি ফিল্ডার নাভিন উল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১১৮ বলে ১১টি চার ও দুটি ছয়ে ১১৮ রানে ফেরেন তামিম। শেষ পর্যন্ত আট উইকেটে ২৭৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি
ব্যাটসম্যান ম্যাচ সেঞ্চুরি সর্বোচ্চ গড় রান
তামিম ইকবাল ১৫৬ ৭ ১৫৪ ৩২.৪৪ ৪৯৩১
সাকিব আল হাসান ১৬০ ৬ ১৩৪* ৩৫ ৪৪৮০
শাহরিয়ার নাফীস ৭৫ ৪ ১২৩* ৩১.৪৪ ২২০১
মুশফিকুর রহিম ১৬১ ৪ ১১৭ ৩১.৩০ ৩৯৭৬
বাংলাদেশ
রান বল ৪ ৬
তামিম ক বদলি ব নবী ১১৮ ১১৮ ১১ ২
সৌম্য ক শাহজাদ ব আশরাফ ১১ ১১ ১ ০
সাব্বির ক নওরোজ ব রহমত ৬৫ ৭৯ ৬ ৩
সাকিব ক শাহজাদ ব দৌলত ১৭ ৩৫ ১ ০
মুশফিক এলবিডব্ল– ব রশীদ ১২ ১৩ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ নটআউট ৩২ ২২ ৪ ০
মোসাদ্দেক স্টা. শাহজাদ ব রশীদ ৪ ৪ ১ ০
মোশাররফ ক নাজিবউল্লাহ ব নবী ৪ ১৪ ০ ০
মাশরাফি ক নওরোজ ব আশরাফ ২ ৪ ০ ০
শফিউল নটআউট ২ ১ ০ ০
অতিরিক্ত ১২
মোট (৮ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৭৯
উইকেট পতন : ১/২৩, ২/১৬৩, ৩/২১২, ৪/২২৬, ৫/২৩০, ৬/২৩৫, ৭/২৪৮, ৮/২৭০।
বোলিং : মোহাম্মদ নবী ১০-১-৪১-২, দৌলত জাদরান ১০-০-৫৮-১, মিরওয়াইজ আশরাফ ৮-০-৪৩-২, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ৩-০-২৮-০, রাশিদ খান ১০-০-৩৯-২,
রহমত শাহ ৮-০-৫৯-১, নওরোজ মঙ্গল ১-০-৯-০।
আফগানিস্তান ৯৪/৭, ২৬.৫ ওভারে (মোহাম্মদ শাহজাদ ০, নওরোজ মঙ্গল ৩৩, রহমত শাহ ৩৬, হাশমতউল্লাহ শাহিদি ০, আসগর স্টানিকজাই ১, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ১৩, মোহাম্মদ নবী ৩, নাজিবউল্লাহ জাদরান ১*, রাশিদ খান ৪*, অতিরিক্ত ৩। মাশরাফি মুর্তজা ১/১৫, মোশাররফ
হোসেন ৩/১৫, তাসকিন আহমেদ ২/২৬)। অসমাপ্ত।

No comments:
Post a Comment