বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী
ওবায়দুল কাদের। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এ নেতা এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক। রোববার দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
করা হয়। তিনি সদ্য সাবেক কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্ব নেয়ার পর বেশকিছু বড় বড় প্রকল্প হাতে নেন। তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে
বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিআরটিসহ অনেক মেগা প্রকল্প।
এরই মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন প্রকল্প।
মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতরগুলোর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার
ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। সড়ক নির্মাণ, গণপরিবহনে যাত্রীসেবা, বিআরটিসির
বাসের সেবা ও বিআরটিএ’র দুর্নীতি বন্ধে প্রায়শই আকস্মিক সফর করে আলোচনার
জন্ম দেন ওবায়দুল কাদের। ওই সময়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যা
সমাধানেরও চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে।
ওবায়দুল কাদেরের জন্ম নোয়াখালীর
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বড় রাজাপুর গ্রামে ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি। তার বাবার
নাম মোশাররফ হোসেন। তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের সহপাঠী ছিলেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে কাদেরের বাবা শিক্ষকতা পেশায় যোগ
দেন। ওবায়দুল কাদেরের মায়ের নাম ফজিলাতুন্নেসা। স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা
আইনজীবী। বসুরহাট সরকারি এএইচসি হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন
পাস করেন ওবায়দুল কাদের। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়
অংশ নিয়ে তিনি মেধা তালিকায় স্থান পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজজীবন থেকেই
রাজনীতিতে যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে
সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
ওবায়দুল কাদের একাত্তরে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি মুজিব বাহিনীর
কোম্পানীগঞ্জ থানার কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক
ঘটনার পর ওবায়দুল কাদের কারাবরণ করেন। আড়াই বছর তিনি কারাগারে অন্তরীণ
ছিলেন। সে অবস্থাতেই ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। পরপর দু’বার এ
পদে ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসন
থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের যুব, ক্রীড়া ও
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত
ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক
সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত
হন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি। এ পদে থাকার সময়ই তিনি এক-এগারোর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ মার্চ গ্রেফতার হন। ১৭ মাস ২৬ দিন
কারাগারে ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভায় ভয়াবহ গ্রেনেড
হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা চলাকালে ভারতে দুই দফায়
৯৪টি স্পিন্টার তার শরীর থেকে বের করা হয়। এখনও ১৮টি স্লিন্টার তার শরীরে
রয়েছে। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-৫ আসন থেকে
তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠন হলে
তিনি দায়িত্ব পান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। তিনি কিছুদিন রেল
মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বও পালন করেছেন। ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে
সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলার বাণী
পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। রচনা করেছেন আটটি
গ্রন্থ। এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের হৃদয়, পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু,
এই বিজয়ের মুকুট কোথায়, তিন সমুদ্রের দেশে, মেঘে মেঘে অনেক বেলা,
রচনাসমগ্র, কারাগারে লেখা অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি।

No comments:
Post a Comment