![]() |
| তোফায়েল আহমেদ |
বিশ্ববাজারে
যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে চীন, বিভিন্ন দেশ থেকে দেশটির আমদানির পরিমাণও
কম নয়। চীন বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ দিলেও তা খুব বেশি
কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কারণ, বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখী নয়।
বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উচিত হবে এমন সব পণ্য উৎপাদন করা, যাতে চীনের মতো
একটি বড় বাজার ধরা যায়। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল রোববার
অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত
‘বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায়
এসব কথা উঠে এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এতে প্রধান অতিথি
ছিলেন। ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন
করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার
গোলাম মোয়াজ্জেম। বক্তব্য দেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, বিএনপির
স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব
ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) চেয়ারম্যান
মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান
সাদিক আহমেদ এবং বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল ইসলাম বুলবুল। বাণিজ্যমন্ত্রী
বলেন, চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে।
চলতি
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চীনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২৫ শতাংশ। যেখানে দেশের
মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ। মন্ত্রী আশাবাদী, আগামী দুই থেকে তিন
বছরের মধ্যে চীনে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করা যাবে। চীনের
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফরে যে ঢাকায়
আসছেন, সে সময় বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ
সরকার। ইতিমধ্যে ২০টির কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে একটি দেওয়া হবে চীনকে।
তবে চীন বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে
একটি অসুবিধার দিক আছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চীনের
প্রকল্পগুলোতে দরপত্র ডাকতে দেয় না। এ বিষয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত
মন্ত্রিসভা কমিটিতে আমি প্রায়ই প্রশ্ন তুলি।’ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম
তাঁর প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ
হয়েছে। এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান
অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। আগের সম্পর্কগুলো
নতুন করে স্থাপন করতে হবে।
বিশ্ব
অর্থনীতির প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ
সম্পর্ক হতে পারে ‘টেস্ট কেস’ এবং চীনের সঙ্গে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক
অংশীদারি চুক্তি’ করা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ সম্পৃক্ততা বাড়াতে
চীনের যে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নীতি পরিকল্পনা আছে, তাতে বাংলাদেশ আছে
কি না স্পষ্ট নয় বলে জানান গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘তবে কলকাতা আছে।
বাংলাদেশের মোংলা অথবা পায়রা বন্দরকে চীনের এ নীতিতে সম্পৃক্ত করতে
সরকারি প্রচেষ্টা দরকার।’ পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ বলেন,
চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বিশ্বের মোট অর্থনীতির প্রায় ১৬ শতাংশ।
চীন শুধু বড় রপ্তানিকারকই নয়, আমদানিকারকও। তিনি বলেন, চীনের সরাসরি
বৈদেশিক বিনিয়োগ ১ শতাংশও বাংলাদেশে এলে তা বিশাল টাকা। ১ শতাংশ বাংলাদেশে
আনতে চেষ্টা করতে হবে। তবে চীনের বিনিয়োগ আনতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা
বাড়াতে হবে। জোর দিতে হবে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও অবকাঠামোয়। বিএফইউজে
সভাপতি মনজুরুল ইসলাম বুলবুল প্রশ্ন তোলেন, আমরা যদি চীনের ১ শতাংশ বাজার
পাই, তাহলে সেই পরিমাণ পণ্য কি আমরা উৎপাদন করতে পারব?

No comments:
Post a Comment