জন্ম
থেকেই চোখের আলো নেই সুভাষ বিশ্বাসের। জন্ম বরিশালে। শৈশবে কাকার হাত ধরে
চলে আসেন চাঁদপুরে। পড়াশোনা হয়নি। খেটে যে খাবেন, সেখানে বাধা ওই চোখের
আলো। তাই বলে কি থেমে থাকবেন তিনি? মোটেও না। ১০ বছর বয়স থেকে কাকার কাছে
বাঁশি বাজানো শিখেছেন। এখন বাঁশি বাজিয়েই চলছে তাঁর জীবন। চাঁদপুর শহরে
ঘুরে ঘুরে প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে আনন্দ দেন সুভাষ।
বিনিময়ে জোটে জীবিকার জোগান। এভাবে দিন কাটাচ্ছে তাঁর ছয় সদস্যের পরিবার।
প্রথম আলোকে সুভাষ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দুমুঠো ভাতের জন্য তাঁকে কারও কাছে
হাত পাততে হয়নি বা কোনো কাজও করতে হয়নি। তবে বাঁশি শুনিয়ে মানুষকে আনন্দ
দেওয়া তাঁর একমাত্র কাজ। এই বাঁশি শুনে লোকজন যে যার মতো করে সাহায্যের
হাত বাড়িয়ে দিয়ে আসছে। এভাবে সুভাষ কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের ৪০টি বছর। এখন
তাঁর ঘরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে। সুভাষকে কখনো চাঁদপুর শহরের সরকারি কলেজ
এলাকায়, কখনোবা হকার্স মার্কেটের সামনে, আবার কখনো শহরের শিল্পকলা একাডেমি
মিলনায়তনের সামনে দেখা যায়।
একটানা
বাঁশি বাজিয়ে চলেছেন। ক্লান্ত হয়ে হয়ে গেলে একটু থামার পর আবার শুরু করেন।
একটি গানের সুর শেষ হয়ে গেলে আবার আরেকটি শুরু করেন। সঙ্গে তাঁর কোনো ছেলে
বা মেয়ে থাকে। কখনো ছেলেমেয়ে দুজনই থাকে। সুভাষ জানান, বাঁশিতে প্রায় ২০০টি
গানের সুর তুলতে পারেন। যখন যেটা ভালো লাগে বা কেউ শুনতে চান, তখন তিনি
সেটাই বাজিয়ে শোনান। দিন শেষে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আসে। কখনোবা ৮০০ টাকাও আয়
করেন। কেউ আগ্রহী হলে সুযোগমতো বাঁশি বাজানো শেখান। সুভাষ জানান, স্ত্রী,
তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শহরের বড় স্টেশন রেলওয়ের একটি বস্তিতে ভাড়া
থাকেন। অভাবের কারণে ছেলেমেয়েরা কেউ পড়াশোনা করার সুযোগ পায়নি। তাই তাদের
সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন বেরিয়ে পড়েন বাঁশি হাতে। ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করানোর
খুব ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু সে সাধ্য তো নেই।

No comments:
Post a Comment