Sunday, October 9, 2016

তিন অভিযানে ১১ জঙ্গি নিহত

গাজীপুরের হাড়িনালে শনিবার কাউন্টার
টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে
গোলাগুলিতে নিহত জঙ্গিদের লাশ -সংগৃহীত
রাজধানীর উপকণ্ঠ গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আইনশৃংখলা বাহিনীর তিন অভিযানে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের পাতারটেকে ‘অপারেশন স্পেট-৮’-এ সাতজন ও হাড়িনালে ভিন্ন অভিযানে দু’জন নিহত হয়। টাঙ্গাইলের কাগমারায় মারা যায় আরও দুই জঙ্গি। একই দিনে আইনশৃংখলা বাহিনীর এত অভিযান ও ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এদের একজন নব্য জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ ওরফে প্রভাত। অন্যরা হচ্ছে- ঢাকা প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ও নরসিংদীর রাশেদ।
ভোর ৩টার দিকে হাড়িনাল পশ্চিমপাড়া লেবুবাগান এলাকায় বাইতুল এবাদত জামে মসজিদসংলগ্ন আতাউরের বাড়ি ঘিরে ফেলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ট ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি) ও গাজীপুর জেলা পুলিশ। জঙ্গিদের বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। সকাল ৮টার দিকে উল্টো আইনশৃংখলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল ৯টার দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নোয়াগাঁও পাতারটেকে সৌদি প্রবাসী সোলায়মানের বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃংখলা বাহিনী। ডিএমপির সিটি ও সোয়াত ইউনিট, জেলা পুলিশ এবং পুলিশ সদর দফতরের এলআইসি শাখার যৌথ এ অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন স্পেট-৮’। সেখানেও প্রথমে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। এতে সাড়া না দিয়ে জঙ্গিরা গুলি ও গ্রেনেড ছুড়লে আইনশৃংখলা বাহিনীও জবাব দেয়। বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে গোলাগুলি। প্রায় ৭ ঘণ্টার এ অভিযানে মারা যায় সাত জঙ্গি। পুলিশ জানায়, ওই দুই আস্তানা থেকে পুলিশ একটি একে-২২ রাইফেল, তিনটি পিস্তল, কয়েকটি গ্রেনেড, ম্যাগাজিন, বেশ কিছু ছুরি ও চাপাতি, গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করে। এছাড়া পুড়িয়ে দেয়া ও ভাঙা ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ৯ লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের মির্জা মাঠ এলাকার একটি তিন তলা ভবনে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই ভবনের একটি কক্ষে ঢুকতে গেলে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। র‌্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে গোলাগুলি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব জানায়, সেখান থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দশটি চাপাতি, দুটি ল্যাপটপ ও ৬৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানায়, ‘শরতের তুফান’ অভিযান চালানো বাড়িটি দেখাশোনা করতেন প্রবাসী সোলায়মানের ভাই কালীগঞ্জ জাঙ্গালিয়া সিদ্দিকীয়া আলীম মাদ্রাসার প্রভাষক ওসমান আলী। দোতলা বাড়ির পূর্ব পাশের ইউনিটটি ২ মাস আগে কলেজছাত্র পরিচয়ে ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। টাঙ্গাইলের বাড়িটি কলেজছাত্র পরিচয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ভাড়া নিয়েছিল দুই যুবক।
এদিকে বিকালে সাভারের আশুলিয়ার গাজীর চট এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আরেকটি বাড়ি ঘিরে ফেলে আইনশৃংখলা বাহিনী। রাত ৮টায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩০ লাখ টাকাসহ আবদুর রহমান নামে একজনকে সপরিবারে আটক করা হয়। সে জেএমবির অর্থদাতা বলে দাবি করে র‌্যাব। পাতারটেকে অভিযান : প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯টার দিকে পুলিশের এক গাড়িতে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়। তারা পাতারটেক আবাসিক এলাকার প্রবাসী সোলায়মানের ওই বাড়িটি দেখিয়ে দেয়। মুহূর্তেই বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে জঙ্গিদের আÍসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সাড়া না দিয়ে মুহুর্মুহু গুলি শুরু করে জঙ্গিরা। পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। অভিযান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, শুধু গুলি বর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে। অভিযানে সোয়াত টিমের এক সদস্যের হাতে গুলি লেগেছে। ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের দৃশ্য পুলিশ বাহিনী দেখেছে। অভিযানের একপর্যায়ে জঙ্গিরা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এজন্য ফায়ার সার্ভিসকেও সঙ্গে নেয়া হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আমরা জঙ্গিদের বারবার আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছি। তাদের পান করার জন্য পানি দিয়েছি। খাবার দিতে চেয়েছি। কিন্তু তার বিনিময়ে তারা আমাদের ওপর গুলি করেছে। সিটির অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, আস্তানার ভেতরে অবস্থান করা জঙ্গিরা ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ গুলি, পিস্তল ও গ্রেনেড ছিল। এগুলো দিয়ে তারা পুলিশকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। তাদের হ্যান্ডমাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তারা আহ্বানে সাড়া না দিয়ে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অভিযানে পুলিশ স্নাইপার রাইফেল, একে-৪৭, রিভলবার ও গ্রেনেড ব্যবহার করে। তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
ছানোয়ার হোসেন আরও জানান, আশা করছি এ অভিযানের মধ্য দিয়ে নব্য জেএমবির শক্তি ৯০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। নব্য জেএমবির এ নেতা আকাশ শোলাকিয়ায় গত রোজার ঈদে জঙ্গি হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়। শোলাকিয়া থেকে পালিয়ে সে নব্য জেএমবির সদস্যদের পুর্নগঠিত করার চেষ্টা করছিল। এখানে যারা নিহত হয়েছে তারা নব্য জেএমবির সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু তারা উচ্চমাত্রায় প্রশিক্ষিত নয়। তারা অল্প প্রশিক্ষণ নিয়ে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, এদের আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছে। সেটি এনআইডির সার্ভারে থাকা হাতের ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে জঙ্গিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযানের পর বাড়ির কাচ, দরজা-জানালা ও দেয়ালে শত শত গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। গুলিতে জানালার কাচ ভেঙে অনেক দূরে গিয়ে পড়ে। আতংক নিয়েও হাজার হাজার উৎসুক মানুষ অভিযান দেখার জন্য ভিড় জমায়। অভিযানে অংশ নেয়া ডিবি পুলিশের এক সদস্য জানান, দোতলা বাড়ির দোতলায় পূর্বপাশের ফ্ল্যাটে ছিল জঙ্গিদের অবস্থান। নিচতলায় দুই ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া ছিল। দোতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটটি ছিল খালি। জঙ্গিদের ঘিরে ফেলার পর তারা পিস্তল দিয়ে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু করে। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় গোলাগুলি চলতে থাকে। অভিযান শেষে সিটি ইউনিটের একজন পরিদর্শক জানান, সাত জঙ্গির বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বাসার দেয়ালের পাশেই পাশাপাশি ছিল ৫ জনের লাশ। তাদের মাথায়, ঘাড়ে, হাত ঊরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লেগেছে। আস্তানায় কিছু বই, তিনটি পিস্তল, রুমাল, ১২/১৪টি চাপাতি পাওয়া গেছে। এছাড়া মোবাইল, ল্যাপটপসহ কিছু ডিভাইস ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। ক্রাইম সিন ইউনিটের এক সদস্য জানান, জঙ্গিদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে গুলিতে। ওই বাড়ির পাশের বাড়ির প্রবীণ বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, একাত্তর সালের পর এরকম গোলাগুলির শব্দ আর কখনও শুনিনি। ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছি না। মনে হয় এই বুঝি গায়ে এসে গুলি লাগল। পুরো দিন আতংক আর ভয়ে কেটেছে। প্রতিবেশী আয়নাল হোসেন জানান, ২ মাস আগে কলেজছাত্র পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। তারা দিনে বের হতো না। রাতে বের হতো। সাদা একটি গাড়ি এ বাড়ির সামনে প্রায় আসত। সেই বাড়িতে দু-তিনজন লোক আসত। যাদের একজনের দাড়ি ছিল। বাড়িতে অবস্থান করা জঙ্গিদের কখনও দেখিনি। বাড়ির নিচ তলার ভাড়াটিয়ার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মকবুল নামের এক ব্যক্তি জানান, ‘আমরা বাড়ির মালিক (কেয়ারটেকার) ওসমান প্রফেসরকে ব্যাচেলর ভাড়া দিতে নিষেধ করি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। বলেছেন, তার এক বন্ধুর ছেলে। ২-৩ মাস থেকে চলে যাবে।
ঘটনাস্থলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, এলাকার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুপুর ২টার দিকেই আমরা নিশ্চিত হই সেখানে ৬ জনের বেশি জঙ্গি আছে। পরে জানতে পারি তাদের সংখ্যা ৭। এ বিষয়ে মামলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ির কেয়ারটেকার ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি যদি জেনেশুনে জঙ্গিদের ভাড়া দিয়ে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এরপর তাদের লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) ড. মো. জাভেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
হাড়িনালে অভিযান : ভোর ৩টার দিকে হাড়িনাল পশ্চিমপাড়ায় নব্য জেএমবির আস্তানা ঘিরে ফেলে র‌্যাব। সকাল ৮টায় অভিযান শুরু করে ১০টায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সেখানে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তারা হচ্ছে ডুয়েট ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম ও নরসিংদীর রাশেদ। রাশেদ এইচএসসি পাস করেছে। অভিযান শেষে র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গাজীপুরের কোম্পানি কমান্ডার মুহিউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে একে-২২ বোরের একটি রাইফেল, ম্যাগাজিন, তিনটি চাপাতি, বিপুল পরিমাণ গুলি, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এক তলা বাড়িটির মালিক আতাউর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকায় থাকেন। মাত্র দেড় মাস আগে তিনি বাড়িটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। আর এক মাস আগে ভাড়া দেয়া হয়। স্থানীয়রা আরও জানান, ভোর রাতে র‌্যাব সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে। সকাল ৮টার দিকে তারা ব্যাপক গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে জানতে পারেন ওই বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। বাড়িতে নিহত দুই জঙ্গিকে তারা কখনও দেখেননি। টাঙ্গাইলে অভিযান : টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের মির্জা মাঠ এলাকার এক তিনতলা ভবনে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই ভবনে প্রায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালায় বাহিনীটি।
বিকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে র‌্যাব-১২ অধিনায়ক সামসুদ্দিন খান জানান, আজাহার মাস্টারের তিনতলা ভবনের নিচতলায় জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠার সংবাদ পায় টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি ৩। এর ভিত্তিতে তিন দিন ধরে বাড়িটির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব। শনিবার সকালে র‌্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে একটি দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে। আজাহার মাস্টারকে দিয়ে জঙ্গিদের ঘরটি খুলতে বলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের কয়েকজন ঘরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জঙ্গিদের এক সদস্য র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে থাকা দুই জঙ্গি নিহত হয়। এরপর দুপুরে র‌্যাবের বোমা বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে ভবনটিতে উদ্ধার তৎপরতা চালায় র‌্যাব। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ১০টি চাপাতি, দুইটি ল্যাপটপসহ ৬৬ হাজার ৯৮৫ টাকা উদ্ধার হয়। তবে নিহত জঙ্গিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। কলেজছাত্র পরিচয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর কক্ষটি ভাড়া নেয় দুই যুবক। বাড়ির মালিক কয়েকদিন বাড়িতে না থাকায় তাদের পরিচয়পত্র বা ঠিকানা তিনি নিতে পারেননি বলেও জানান র‌্যাব অধিনায়ক। তবে র‌্যাবের ধারণা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা বা আশুরায় কোনো রকম নাশকতা চালানোর চেষ্টায় জঙ্গিরা এ ভবনটিতে আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। অভিযান চলাকালে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম খানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

No comments:

Post a Comment