![]() |
| হিলারি ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প |
দিনক্ষণ
বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মঙ্গলবার ৮ নভেম্বর অর্থাৎ
এখনো বাকি এক মাস। প্রধান দুই প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের
মধ্যে এখনো বাকি আছে দুটো বিতর্ক। বাকি আছে প্রার্থীদের অনেক অনেক
প্রচারসভা এবং টেলিভিশনে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন। প্রার্থী ও তাঁদের
সমর্থকদের কথাবার্তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় চলবে। আপাতদৃষ্টে মনে হবে,
নির্বাচনের বাকি আছে অনেক সময়। কিন্তু দেশে আসলে ভোট দেওয়া শুরু হয়ে গেছে
সপ্তাহ দুয়েক আগেই এবং ভোটারদের মধ্যে কিছু অংশ ইতিমধ্যেই পছন্দের
প্রার্থীর পক্ষে তাঁদের ভোট দিয়ে ফেলেছেন। সেসব ভোট নির্বাচনের দিনে দেওয়া
অন্য ভোটের সঙ্গেই গণনা করা হবে। কিন্তু বিশ্লেষক ও গবেষকদের ধারণা, কী
পরিমাণ ভোট আগে দেওয়া হচ্ছে নির্বাচনের ফলাফলের একটা ইঙ্গিত তাতে পাওয়া যায়
এবং ফলাফলে তার প্রভাব থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় এমন ব্যবস্থা আছে, যাতে করে ভোটাররা চাইলে নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের আগেই ভোট দিতে পারেন এবং এ জন্য তাঁদের কোনো কারণ দেখাতে হয় না। বাকি ১৩টি অঙ্গরাজ্যে কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিতভাবে অর্থাৎ ডাকযোগে ভোট দেওয়া যায়। যেসব অঙ্গরাজ্যে ‘আগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা’ বা ‘আর্লি ভোটিংয়ের’ ব্যবস্থা আছে, সেখানে সশরীরে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি আছে। এ ছাড়া আছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা। অধিকাংশ রাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দিতে চাইলে আগে থেকে অনুরোধ করতে হয়, কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হবে যে তিনটি অঙ্গরাজ্য আছে, যেখানে নির্বাচনের আগেই ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁরা চাইলে ডাকযোগে বা সশরীরে ভোট দিতে পারেন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন, অরিগন ও কলোরাডো। এ ব্যবস্থা অরিগন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় ২০১১ সালে এবং কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ২০১৩ সালে। এই তিনটি রাজ্যেই অবশ্য নির্বাচনের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে থেকে কিছু কিছু ভোটকেন্দ্র খোলা থাকে, যাতে করে ভোটাররা চাইলে সশরীরে ভোট দিতে পারেন এবং অবশ্যই নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র খোলা রাখা হয়, তবে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা থাকে কম। আগে আগে ভোট দেওয়ার এই ব্যবস্থা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় বিভিন্ন সময়ে। সবচেয়ে আগে যেখানে ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে তা হলো মিনেসোটা এবং সাউথ ডাকোটা, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে ভোট প্রদান শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় এমন ব্যবস্থা আছে, যাতে করে ভোটাররা চাইলে নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের আগেই ভোট দিতে পারেন এবং এ জন্য তাঁদের কোনো কারণ দেখাতে হয় না। বাকি ১৩টি অঙ্গরাজ্যে কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিতভাবে অর্থাৎ ডাকযোগে ভোট দেওয়া যায়। যেসব অঙ্গরাজ্যে ‘আগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা’ বা ‘আর্লি ভোটিংয়ের’ ব্যবস্থা আছে, সেখানে সশরীরে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি আছে। এ ছাড়া আছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা। অধিকাংশ রাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দিতে চাইলে আগে থেকে অনুরোধ করতে হয়, কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হবে যে তিনটি অঙ্গরাজ্য আছে, যেখানে নির্বাচনের আগেই ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁরা চাইলে ডাকযোগে বা সশরীরে ভোট দিতে পারেন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন, অরিগন ও কলোরাডো। এ ব্যবস্থা অরিগন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় ২০১১ সালে এবং কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ২০১৩ সালে। এই তিনটি রাজ্যেই অবশ্য নির্বাচনের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে থেকে কিছু কিছু ভোটকেন্দ্র খোলা থাকে, যাতে করে ভোটাররা চাইলে সশরীরে ভোট দিতে পারেন এবং অবশ্যই নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র খোলা রাখা হয়, তবে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা থাকে কম। আগে আগে ভোট দেওয়ার এই ব্যবস্থা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় বিভিন্ন সময়ে। সবচেয়ে আগে যেখানে ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে তা হলো মিনেসোটা এবং সাউথ ডাকোটা, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে ভোট প্রদান শুরু হয়েছে।
আইওয়াতে শুরু হয়েছে ২৯
সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে যাঁরা খবর রাখেন, তাঁরা নিশ্চয়
ওহাইওর কথা শুনতে অভ্যস্ত আছেন। কেননা, প্রায়ই একে ব্যাকগ্রাউন্ড স্টেট বলে
বর্ণনা করা হয়। ফলে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত চলে প্রচারাভিযান। কিন্তু
এই অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শুরু হবে ১২ অক্টোবর থেকে। সশরীরে আগে ভোট দেওয়ার
কেন্দ্রগুলো হয় বাজারে, দোকানে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেসব অঙ্গরাজ্যে
সশরীরে আগেই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে শেষে এই
ব্যবস্থার শুরু হবে ওকলাহোমাতে—৩ নভেম্বর। কয়েক দশক ধরে আগেভাগে ভোট দেওয়ার
এই প্রবণতা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। ১৯৯৬ সালে ১১ শতাংশ ভোটার আগে ভোট
দিয়েছিলেন, ২০০০ সালে তা দাঁড়ায় ১৬ শতাংশে। ২০০৪ সালে ২২ শতাংশ, ২০০৮ সালে
৩৪ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৩৫ শতাংশ ভোটার আগেই ভোট দিয়েছেন। যেসব অঙ্গরাজ্যে
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা আছে এই ‘আগে ভোট দেওয়ার’ প্রবণতা ফলাফল
নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। যেমন আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ২০১২ সালের নির্বাচনে যাঁরা
আগে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের ৫৯ শতাংশ ভোটার বারাক ওবামাকে ভোট দিয়েছিলেন।
রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি পেয়েছিলেন ৩৯ শতাংশ। ভোটের দিনে দেওয়া ভোটে
ওবামার পাওয়া ভোটের হার ছিল ৪৬ শতাংশ; মিট রমনি পেয়েছিলেন ৫১ শতাংশ। মোট
ভোটের হিসাবে ওবামা ৬ শতাংশ ভোটে জয়ী হন। ২০১২ সালে যেসব অঙ্গরাজ্যে তীব্র
প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হয়েছিল তার মধ্যে নেভাডাও ছিল; সেখানে
প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার আগেই ভোট দিয়েছিলেন এবং বারাক ওবামা বিজয়ী হয়েছিলেন।
আগে
ভোট দেওয়ার উৎসাহ সাধারণত কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি। ২০০৮ সালে
ফ্লোরিডায় যাঁরা আগে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের ২২ শতাংশ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। যদিও
এই রাজ্যে মোট ভোটারের ১৩ শতাংশ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। একইভাবে ভোটের দিনে
ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার যে সুযোগ ১৩টি অঙ্গরাজ্যে রয়েছে, সেখানে
কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি তৈরি হয়। যেমন: নর্থ
ক্যারোলাইনায় ২০১২ সালে যত লোক ভোটের দিনেই ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন,
তাঁদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। এই রাজ্যের মোট ভোটারের ২২ শতাংশ
হচ্ছেন কৃষ্ণাঙ্গ। অন্য যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ডাকযোগে
এবং সশরীরে আগে ভোট দেওয়ার পরিমাণ বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কোনো কোনো
হিসাবে ছয়টি অঙ্গরাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনা, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, নেভাডা,
অ্যারিজোনা এবং জর্জিয়াতে মোট ভোটারের ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ আগেই ভোট
দিতে পারেন। আগে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ভোটারদের উৎসাহিত করতে ডেমোক্রেটিক
পার্টির উদ্যোগ সব সময়ই বেশি থাকে। অতীতে এই ব্যাপারে ডেমোক্রেটিক পার্টি
রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। রিপাবলিকানরা এ বিষয়ে পিছিয়ে
থেকেছে কেননা দেখা গেছে, একেবারে গোড়াতে তাঁরাই ভোট দেন, যাঁরা দলের কট্টর
সমর্থক এবং যাঁদের বয়স বেশি। যেহেতু এ ধরনের ভোটারদের একটা বড় অংশ হচ্ছেন
রিপাবলিকান, সেহেতু রিপাবলিকানরা আগে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ভোটারদের উৎসাহিত
করার তাগিদ বোধ করেন না। কিন্তু এটাও দেখা গেছে, আগে ভোট দেওয়ার সময় যখন
প্রায় শেষ হয়ে আসতে থাকে, অর্থাৎ আগে আগে ভোট দেওয়ার শেষ সপ্তাহগুলো, সে
সময় তরুণদের ভোট দেওয়ার পরিমাণ বাড়ে। যাঁরা বিশেষ কোনো দলের সমর্থক নন
তাঁদের সংখ্যা বাড়ে। ডেমোক্র্যাটরা এঁদের কাছে আবেদন তৈরির জন্যই
সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা চালান।
রিপাবলিকানরা
গত দুটি নির্বাচনে তাঁদের এ ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার এ বিষয়ে
মনোযোগ দিয়েছেন। তার ফলাফল কী হবে সেটা এখনো বোঝার উপায় নেই। কিন্তু এ
ব্যাপারে তাঁরা এখনো ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। কিন্তু যেটা
লক্ষ করার বিষয় সেটি হচ্ছে হিস্পানিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার এবং আগে ভোট
দেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না। সাধারণভাবে হিস্পানিকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ
ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক। ২০১২ সালের নির্বাচনে তাঁরা ছিলেন মোট ভোটারের
১০ শতাংশ। কিন্তু লক্ষণীয়ভাবে হিস্পানিকদের ভোট দেওয়ার হার ছিল কম। মোট
হিস্পানিক ভোটারের মাত্র ৪৮ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন, যা শ্বেতাঙ্গ এবং
কৃষ্ণাঙ্গদের চেয়ে ২০ শতাংশ কম। এবার মোট ভোটারের ১২ শতাংশ হচ্ছেন
হিস্পানিক। অন্য বছরের তুলনায় হিস্পানিকদের মধ্যে এবার ভোটের ব্যাপারে
আগ্রহ তৈরি হয়েছে সেটি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের হিস্পানিকদের
প্রতি অপমানসূচক কথাবার্তার কারণে, যার অর্থ হচ্ছে তাঁরা ভোট দিলে হিলারির
পক্ষেই দেবেন। হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর যে বড় অংশ এখন উৎসাহী হচ্ছেন তাঁদের
অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থান থেকে তাঁদের আগে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ফলে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হিস্পানিক ভোটার রয়েছে এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতে আগে
ভোট দেওয়ার সংখ্যা বাড়ে, তবে আমরা সম্ভবত একটা ইঙ্গিত পাব।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

No comments:
Post a Comment