![]() |
| কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে গতকাল দেশে ফেরার পর গণভবনে শিশুদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। |
স্লোগান
আর ফুলে ফুলে সংবর্ধনা দেওয়া হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। গতকাল
শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার আগে আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। সেখানে দলের ও সরকারের
পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দর থেকে গণভবন
পর্যন্ত পথে দলীয় নেতা-কর্মীরা জাতীয় পতাকা, ফুল, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে
দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রীকে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম
অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী গতকাল দেশে ফেরেন। এবার তিনি দুটি
আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। এগুলো হলো ‘প্ল্যানেট ৫০: ৫০ চ্যাম্পিয়ন’
এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’।
গত বছরও জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে ফেরার
পর তাঁকে দলের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী
উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে
অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী নেমে আসার পর সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী
ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী
আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ
আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম,
ওবায়দুল কাদেরসহ দলের ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিমানবন্দর থেকে
সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রী বের হন। এ সময় সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ
দলের নেতা-কর্মীরা স্লোগান ধরেন ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ফুলের
পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভ্যর্থনার জবাব দেন। তবে কোনো
বক্তব্য দেননি।বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত কিছু স্থানে নেতা-কর্মীদের
চাপে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের গতি কমে যায়। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে
প্রধানমন্ত্রী গণভবনে পৌঁছান। সেখানে অপেক্ষমাণ সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা
চৌধুরী বন্যা গান গেয়ে বরণ করেন প্রধানমন্ত্রীকে। এ সময় ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফুল দিয়ে
প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি
বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে অবতরণ করার কথা ছিল। এ জন্য দুপুরের পর থেকেই
অভ্যর্থনা কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে বাস, ট্রাক ও
ব্যক্তিগত যানে করে নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর ফেরার পথে অবস্থান নিতে
থাকেন। ঢাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে সড়ক ধরে মিছিল আসে প্রধানমন্ত্রীর
আগমনের পথে। বিকেলের দিকে বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের
সড়ক, জাহাঙ্গীর গেট, বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের একটা বড় অংশ চলে
যায় কর্মী-সমর্থকদের অধীনে। সাধারণত ভিভিআইপি যে পথ ধরে চলেন, অনেক আগে
থেকেই সেই পথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়
রাজধানীর একটি বড় অংশে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর আগমন পিছিয়ে যাওয়ার কারণে
অভ্যর্থনায় আগত ব্যক্তিদের অনেকেই বাড়ির পথ ধরেন। এতে সড়কে উপচে পড়া ভিড়
কিছুটা কমে যায়। অভ্যর্থনায় আগত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল জাতীয়
ও দলীয় পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন। অনেকের হাতে শোভা পায় বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব
ওয়াজেদ জয়ের ছবি। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে স্লোগানও ধরেন অনেক কর্মী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে। গতকাল
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও একাধিক সরকারি চাকরির পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে
ভর্তি পরীক্ষা ছিল ঢাকায়। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আগত চাকরিপ্রার্থী ও
শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গতকাল ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল।
৩৭তম বিসিএস
ছাড়াও একটি সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষাও হয় ঢাকার বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের কাছে
কথা হয় লাভলী আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি
পরীক্ষা দিয়ে মহাখালী আসতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। যাবেন ময়মনসিংহে।
বিমানবন্দর সড়কে যানজটের কারণে ময়মনসিংহের বাসও দেরিতে ছাড়বে বলে বসে আছেন।
অভ্যর্থনায় আগত নেতা-কর্মীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার কারণে বিকেল থেকেই বন্ধ
হয়ে যায় বিজয় সরণি। ফলে মিরপুর থেকে আসা যানবাহন আটকে যায় আগারগাঁওয়ে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেও নেতা-কর্মীদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল থমকে
যায়। বিকেল চারটার আগেই টঙ্গী ডাইভারশন রোড থেকে বিজয় সরণি উড়ালসড়ক ধরে
পশ্চিমমুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়
ফার্মগেট থেকে মহাখালী যাওয়ার পথও। বিমানবন্দর গোলচত্বরের যান চলাচল
অনেকটাই আটকে যায়। এর ফলে পশ্চিমে মিরপুর রোড, পূর্বে টঙ্গী ডাইভারশন
রোড, উত্তরে আবদুল্লাহপুর, দক্ষিণে শাহবাগ পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ দিনের সফর শেষে গতকাল সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন
প্রধানমন্ত্রী। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।

No comments:
Post a Comment