Wednesday, November 23, 2016

টেলিভিশন নির্বাহীদের ডেকে শাসালেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরোধিতাকারী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তাদের ডেকে একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার বিরোধিতাকারী টিভি চ্যানেলগুলোকে ছেড়ে কথা বলবেন না। জানিয়েছেন, তাকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যেসব খবর প্রকাশ করেছে সেগুলো ছিল ‘অসত্য’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। সোমবার নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠক ডেকেছিলেন ভাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকটি ছিল অনানুষ্ঠানিক। ফলে উপস্থিত টিভি চ্যানেলগুলো বৈঠকের খবর প্রকাশ না করার শর্তে বাধা ছিল।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রত্যাশা ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ এটা। তবে বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার পর ট্রাম্পের কথা শুনে তাদের আশাবাদ আরও তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।বৈঠকে উপস্থিত হওয়া চ্যানেলগুলো নিজেরা খবর প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও দৈনিক পত্রিকায় পরিচয় গোপন করে বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত হওয়া কর্মকর্তারা ছিলেন সিএনএন, এনবিসি, সিবিএস নিউজ, ফক্স নিউজ, এমএসএনবিসি, এবিসিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিভি চ্যানেলের। শুধু কর্মকর্তারাই নন, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন সংবাদ উপস্থাপককেও। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ জনের মতো কর্মকর্তা ও উপস্থাপক উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সময় যে ক’জন উপস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিলেন ট্রাম্প তাদের কয়েকজনও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। মিট দ্য প্রেসের উপস্থাপক চাক টড, এবিসি নিউজের উপস্থাপক জর্জ স্টেফানোপৌলস ও ডেভিড মুইর, সিএনএনের ওল্ফ ব্লিটজার ও এরিন বার্নেট, এনবিসি নাইটলি নিউজের লেস্টার হল্ট, সিবিএস নিউজের নোহার ওডোনেল, চার্লি রোজ, জন ডিকারসন ও গেইল কিং। বৈঠকটিতে দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও রেডিওর কোনো প্রতিনিধিকে আহ্বান জানানো হয়নি। অবশ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদকদের সঙ্গে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক দুটি বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রধান কৌশলবিদ স্টিফেন কে, ব্যানন, ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রেইবাস ও মেয়ের জামাই জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান,
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠকের শুরুতেই সিএনএন ও এনবিসি চ্যানেলে তাকে প্রচারিত খবরের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প এসব খবরকে অসত্য ও পক্ষপাতমূলক হিসেবে অভিহিত করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংবাদমাধ্যম কর্মীদের মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা ট্রাম্প বৈঠকেও কোনো ধরনের ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাননি। ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি ক্ষেপা ছিলেন সিএনএন ও এবিসি চ্যানেলের ওপর। যদিও চ্যানেল দুটির যাদের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ তাদের নাম সরাসরি বলেননি তিনি। সব চ্যানেলের মধ্যে এ দুটিকে সবচেয়ে জঘন্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প এনবিসি নিউজের প্রেসিডেন্ট ডেবোরাহ টার্নেসকে একপর্যায়ে বলেন, চ্যানেলটি ট্রাম্পের একটি সুন্দর ছবিও নাকি প্রচার করতে পারে না। অথচ তার (ট্রাম্প) অনেক ভালো ও সুন্দর ছবি রয়েছে। শর্ত থাকার ফলে এনবিসি নিউজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আলোচ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে নিউইয়র্ক পোস্ট বৈঠকে উপস্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আলোচনা খুবই উত্তপ্ত ছিল। ট্রাম্প নাকি সিএনএন সাংবাদিকদের মিথ্যাবাদী এবং তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন। বৈঠকটি ‘ফায়ারিং স্কোয়াডের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ট্রাম্প নাকি বারবার বলেছেন, আমরা একদল মিথ্যাবাদী, অসৎ মিডিয়া; যারা সবকিছুতে ভুল করে তাদের সঙ্গে বসে আছি। পলিটিকোকে বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় ট্রাম্প নিজেও আশা প্রকাশ করেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার বিষয়ে। তিনি চান সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষতা বজায় রাখুক। এ সময় এক চ্যানেলের কর্মকর্তা ট্রাম্পের কাছে নিরপেক্ষতার সংজ্ঞা জানতে চান। তখন ট্রাম্প জানান, সত্য প্রচার।

No comments:

Post a Comment