‘স্নেহের রেনু আমার ভালোবাসা নিবা। তোমায়
পত্র দিতে পারি নাই। মনে কিছু করিবা না। আমি খুব ব্যস্ত। ... জন্য জীবন
উৎসর্গ করিব। ... এ জন্য কাজে অগ্রসর হইয়াছি। চিঠি দিবা। সকলে কেমন আছে।
আল্লাকে ডাকিও...। আমাকে নিম্ম লিখিত ঠিকানায় চিঠি দিও। ইতি তোমার মজিবর।’
কবিতার মতো সাজানো টুকরো এ চিঠি বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা। চিঠির কিছু লাইন
সেখানে নেই। তার পরও চিঠিটি দৃষ্টি কেড়েছে দর্শনার্থীদের। আরেকটি চিঠিতে
বঙ্গবন্ধু তার স্ত্রী রেনুকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘কেন যে চিন্তা কর বুঝি
না। কবে মুক্তি হবে তার কোনো ঠিক নাই। তোমার একমাত্র কাজ হবে আমার
ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখান।’ কারাগার থেকে এরকম লেখা কিছু চিঠি ও
বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার জীবন সংগ্রামের ১৪৫টি ছবি নিয়ে কারাগারে
শুরু হয়েছে বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী সংগ্রামী জবনগাথা।
মঙ্গলবার প্রধান
অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় ১৯৫৫ সালে ৪২ দিন কারাবন্দি থাকার স্মৃতিচারণ করেন
অর্থমন্ত্রী। তুলে ধরেন ওই সময় বন্দি হয়ে তার কারাগারে যাওয়া, কারাগারের মেন্টাল ওয়ার্ডে বন্দি হিসেবে থাকা ও খাবার-দাবারসহ নানা বিষয়ে।
২২৮ বছরের ইতিহাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবারই প্রথম কোনো উন্মুক্ত
অনুষ্ঠান ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেলহ হক খান, অতিরিক্ত কারা
মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল হাসান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. একেএম আবুল মোমেন,
স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র
খায়রুজ্জামান লিটন। আলোকচিত্র গুলিতে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক,
কারাগারে থাকার ইতিহাস ও ঘটনাবহুল জীবনী তুলে ধরা হয়। যেমন- একটি ছবির
ক্যাপশনে লেখা হয় ১৯৬২। স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত
পূর্ববাংলার বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও
আতাউর রহমান খানের উপস্থিতিতে বক্তৃতা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
শেখ মুজিবুর রহমান।

No comments:
Post a Comment