মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপজুড়ে। পশ্চিমা বিশ্বের উদার গণতন্ত্রের ওপর আছড়ে পড়ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও কট্টর ডানপন্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) দিয়ে এর শুরু। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভূমিকম্প তাতে সুনামির সৃষ্টি করেছে। এখন ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি-স্পেন-নেদারল্যান্ডসেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কট্টরপন্থীরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে যা ঘটবে, তা হচ্ছে ব্রেক্সিট প্লাস প্লাস প্লাস। তার বিজয়ের প্রভাব লাগবে সামনে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নির্বাচনে। এতে কেমন পরিবর্তন হবে ইউরোপীয় গণতন্ত্রে?
লি পেনের নতুন ফরাসি বিপ্লব?
ফ্রান্সের রাজনীতি পাল্টে দিচ্ছে ম্যারিন লি পেনের ন্যাশনাল ফ্রন্ট। ম্যারিন লি পেন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর টুইট করে বলেছেন, এক নতুন বিশ্ব তৈরি হচ্ছে, বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে যাচ্ছে। ফ্রান্সে তার দল একই রকম বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। তাদের এ স্বপ্ন একেবারে অবাস্তব নয়। কারণ প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের সমর্থন এখন একেবারে সর্বনিন্ম পর্যায়ে নেমে এসেছে। মে মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনায়াসে ন্যাশনাল ফ্রন্ট দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার ন্যাশনাল ফ্রন্ট ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও কোনো আঞ্চলিক সরকারের নিয়ন্ত্রণই তারা পায়নি। এর আগে ন্যাশনাল ফ্রন্টের বিজয় ঠেকাতে বামপন্থী আর ডানপন্থী দলগুলো একাট্টা হয়েছিল। এবারও তারা সেই কৌশল নিতে পারে।
ইতালি : বাঁচা-মরার ভোট
ইতালিতে আগামী ৪ ডিসেম্বর গণভোট হবে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে। কিন্তু এ গণভোটকে মধ্য-বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির সরকারের জন্য এক বড় পরীক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, এ ভোটে ইতালির প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধী দল ফাইভ স্টার মুভমেন্টের অবস্থানই শক্তিশালী হবে। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়কে তাদের জন্য সুসংবাদ হিসেবেই দেখছে, তারা মনে করছে ইতালির গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী আর সাংবাদিকদের জন্য এটা অশনি সংকেত।
অস্ট্রিয়া : কট্টর ডানপন্থার বিজয়
যেদিন ইতালিতে ভোট হবে, সেদিনই অস্ট্রিয়ায় ভোটে জিতে ক্ষমতায় চলে আসতে পারে একজন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক নোরবেট হোফের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এমন ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। গত মে মাসে মাত্র এক শতাংশ ভোটে গ্রিন পার্টির কাছে হেরেছিলেন নোরবেট। কিন্তু সেই নির্বাচনী ফল বাতিল করে দেন আদালত। সেজন্য আবার নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যদি নোরবেটের অভিবাসনবিরোধী দল বিজয়ী হয়, ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের জন্য সেটা হবে এক বিরাট সাফল্য।
নেদারল্যান্ডস : ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর নেদারল্যান্ডসের ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতিক খ্রিট উইল্ডার্স তার উল্লাস চেপে রাখতে পারছেন না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুকরণে তিনি টুইট করেছেন, উই উইল মেক নেদারল্যান্ডস গ্রেট এগেইন। সামনের বছরের ১৫ মার্চ নেদারল্যান্ডসে নির্বাচন। উইল্ডার্স বলছেন, তিনি নেদারল্যান্ডসকে তার দেশের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চান। জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে তার ফ্রিডম পার্টি ২৭টি আসন জিততে পারে। এর মানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাটের উদারপন্থী দলের সঙ্গে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
জার্মান জাতীয়তাবাদ
জার্মানিতে পার্লামেন্টারি নির্বাচন সামনের বছরের সেপ্টেম্বরে। সেখানেও উত্থান ঘটছে উগ্র জাতীয়তাবাদী দলগুলোর। দ্য ন্যাশনালিস্ট অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এরকম একটি দল। আঞ্চলিক নির্বাচনে তারা এরই মধ্যে অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের দলের বিরুদ্ধে সাফল্য দেখিয়েছে। মার্কেল যেভাবে অভিবাসী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য তার দেশের সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন, তা অনেকে পছন্দ করেনি। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাচ্ছে এ দল। তারা পার্লামেন্ট নির্বাচনে অন্তত দশ শতাংশ আসন জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলাম এবং অভিবাসনবিরোধী কথা বলে তারা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
লি পেনের নতুন ফরাসি বিপ্লব?
ফ্রান্সের রাজনীতি পাল্টে দিচ্ছে ম্যারিন লি পেনের ন্যাশনাল ফ্রন্ট। ম্যারিন লি পেন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর টুইট করে বলেছেন, এক নতুন বিশ্ব তৈরি হচ্ছে, বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে যাচ্ছে। ফ্রান্সে তার দল একই রকম বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। তাদের এ স্বপ্ন একেবারে অবাস্তব নয়। কারণ প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের সমর্থন এখন একেবারে সর্বনিন্ম পর্যায়ে নেমে এসেছে। মে মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনায়াসে ন্যাশনাল ফ্রন্ট দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে তার ন্যাশনাল ফ্রন্ট ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও কোনো আঞ্চলিক সরকারের নিয়ন্ত্রণই তারা পায়নি। এর আগে ন্যাশনাল ফ্রন্টের বিজয় ঠেকাতে বামপন্থী আর ডানপন্থী দলগুলো একাট্টা হয়েছিল। এবারও তারা সেই কৌশল নিতে পারে।
ইতালি : বাঁচা-মরার ভোট
ইতালিতে আগামী ৪ ডিসেম্বর গণভোট হবে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে। কিন্তু এ গণভোটকে মধ্য-বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির সরকারের জন্য এক বড় পরীক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, এ ভোটে ইতালির প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধী দল ফাইভ স্টার মুভমেন্টের অবস্থানই শক্তিশালী হবে। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়কে তাদের জন্য সুসংবাদ হিসেবেই দেখছে, তারা মনে করছে ইতালির গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী আর সাংবাদিকদের জন্য এটা অশনি সংকেত।
অস্ট্রিয়া : কট্টর ডানপন্থার বিজয়
যেদিন ইতালিতে ভোট হবে, সেদিনই অস্ট্রিয়ায় ভোটে জিতে ক্ষমতায় চলে আসতে পারে একজন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক নোরবেট হোফের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এমন ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি। গত মে মাসে মাত্র এক শতাংশ ভোটে গ্রিন পার্টির কাছে হেরেছিলেন নোরবেট। কিন্তু সেই নির্বাচনী ফল বাতিল করে দেন আদালত। সেজন্য আবার নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যদি নোরবেটের অভিবাসনবিরোধী দল বিজয়ী হয়, ইউরোপের কট্টর ডানপন্থীদের জন্য সেটা হবে এক বিরাট সাফল্য।
নেদারল্যান্ডস : ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর নেদারল্যান্ডসের ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতিক খ্রিট উইল্ডার্স তার উল্লাস চেপে রাখতে পারছেন না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুকরণে তিনি টুইট করেছেন, উই উইল মেক নেদারল্যান্ডস গ্রেট এগেইন। সামনের বছরের ১৫ মার্চ নেদারল্যান্ডসে নির্বাচন। উইল্ডার্স বলছেন, তিনি নেদারল্যান্ডসকে তার দেশের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চান। জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে তার ফ্রিডম পার্টি ২৭টি আসন জিততে পারে। এর মানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাটের উদারপন্থী দলের সঙ্গে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
জার্মান জাতীয়তাবাদ
জার্মানিতে পার্লামেন্টারি নির্বাচন সামনের বছরের সেপ্টেম্বরে। সেখানেও উত্থান ঘটছে উগ্র জাতীয়তাবাদী দলগুলোর। দ্য ন্যাশনালিস্ট অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এরকম একটি দল। আঞ্চলিক নির্বাচনে তারা এরই মধ্যে অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের দলের বিরুদ্ধে সাফল্য দেখিয়েছে। মার্কেল যেভাবে অভিবাসী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য তার দেশের সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন, তা অনেকে পছন্দ করেনি। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাচ্ছে এ দল। তারা পার্লামেন্ট নির্বাচনে অন্তত দশ শতাংশ আসন জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলাম এবং অভিবাসনবিরোধী কথা বলে তারা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

No comments:
Post a Comment