বহুল
আলোচিত এ বছরের মার্কিন নির্বাচনে রঙ বদলেছে নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন
মুহূর্তে। ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন আর রিপাবলিকান প্রার্থী
ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির থেকে বিভিন্ন ইস্যুতেই দ্বিমতগুলো
স্পষ্ট। বিভিন্ন জনমত জরিপে বরাবরই হিলারি এগিয়ে থেকেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ
থেকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি এসব জনমত জরিপকে। তবে নির্বাচনের আগের ঠিক শেষ দুই
সপ্তাহে একটি বিষয়ে সবাই একমতÑ হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান ক্রমেই
কমছে। তাতে করে এই নির্বাচন হয়ে উঠেছে আরো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই
নির্বাচনে জনগণের ভোট ছাপিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইলেক্টোরাল কলেজ।
কেননা, শেষ পর্যন্ত ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটেই নির্বাচিত হবেন মার্কিন
প্রেসিডেন্ট। সেটা নিশ্চিত করতে একজন প্রার্থীকে পেতে হবে কমপক্ষে ২৭০টি
ইলেক্টোরাল কলেজ। এই ইলেক্টোরাল কলেজ কীভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হয়ে
যাবে তা বিশ্লেষণ করতেই সিএনএন ‘রোড টু ২৭০’ ম্যাপ প্রকাশ করে আসছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে এই ম্যাপে ইলেক্টোরাল কলেজের রঙ বদলায়। এই
ম্যাপে তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে হিলারি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে
ট্রাম্প গত কয়েকদিনে এগিয়ে এসেছেন অনেকটাই। সাধারণভাবে মার্কিন নির্বাচনের
ইলেক্টোরাল কলেজের বিশ্লেষণে রাজ্যগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। এর
মধ্যে কিছু রাজ্য রয়েছে যেগুলো রিপাবলিকানরাই পাবেন, কিছু রাজ্য
নিশ্চিতভাবেই পাবেন ডেমোক্রেটরা। আর বাকি রাজ্যগুলোতে একেক বছর একেক দল
বিজয়ী হয়। এগুলোকে বলা হয় ব্যাটলগ্রাউন্ড বা সুইং স্টেট। সিএনএনের ‘রোড টু
২৭০’ ম্যাপ বলছে, গত কয়েকদিনে এই ম্যাপে কিছু পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প।
কয়েকটি রাজ্যের অবস্থানকে খানিকটা পালটে দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে শুরুতেই
রয়েছে মেইনের দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট। এটি সাধারণত ব্যাটলগ্রাউন্ড
হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এই এলাকা ঝুঁকে পড়েছে রিপাবলিকানদের প্রতি। আবার
নিউ হ্যাম্পশায়ার ডেমোক্রেটদের দিকে ঝুঁকে ছিল। এখন সেটা পরিণত হয়েছে
ব্যাটলগ্রাউন্ডে। ওহাইও আবার ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট থেকে ঝুঁকে পড়েছে
রিপাবলিকানদের প্রতি। আর ব্যাটলগ্রাউন্ড থেকে রিপাবলিকানদের প্রতি ঝুঁকে
পড়েছে ইউটাহ-ও। সিএনএন তাদের বিশ্লেষণে বলছে, গত কয়েকদিনে তিনটি
ব্যাটলগ্রাউন্ডকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছে ট্রাম্প শিবির।
আবার নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্রেটদের অবস্থান ভালো থাকলেও এই রাজ্যকেও
ব্যাটলগ্রাউন্ডে পরিণত করেছেন ট্রাম্প।
ডেমোক্রেট বা রিপাবলিকানদের পক্ষের রাজ্যগুলোকেও আবার ভাগ করা হয় দুই ভাগে। এর একটি অংশে রয়েছে এমন রাজ্য যেগুলোতে নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষে রায় এখনই নিশ্চিত বলা যায়। আরেকটি অংশের রাজ্যগুলোকে বলা হয় কোনো দলের প্রতি ঝুঁকে পড়া। ডেমোক্রেটদের পক্ষে ঝুঁকে পড়া ও নিশ্চিত রাজ্যগুলোকে বিবেচনায় নিলে হিলারির পক্ষে মোট ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা এখন ২৬৮। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০৪। এই হিসাবের বাইরের ছয়টি রাজ্যই তখন ফল নির্ধারক হয়ে ওঠে। এগুলো হলো অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নেব্রাস্কার দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট। এই ছয়টি রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা ৬৬। ইলেক্টোরাল ম্যাপের বর্তমান পরিস্থিতিতে হিলারি ছয়টি ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটের যেকোনো একটিতে জয় পেলেই প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন। কিন্তু ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হলে হিসাবের ছয়টি রাজ্যেই বিজয়ী হতে হবে। সর্বশেষ জনমত জরিপ, নির্বাচনী প্রচারণা শিবির থেকে পাওয়া খবর, গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে নির্বাচন নিয়ে কর্মরত দলগুলোর থেকে পাওয়া খবর, টিভি ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবরের প্রতিফলন রয়েছে এই ইলেক্টোরাল ম্যাপে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের একটি আগাম অনুমান এই মানচিত্র। সেই ফলাফলে ভিন্নতা থাকতেই পারে।
এক নজরে রাজ্যগুলোর বর্তমান অবস্থা (ব্র্যাকেটে রাজ্যের ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা)
রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান যেসব রাজ্যে
অ্যালাবামা (৯), আলাস্কা (৩), আরকানসাস (৬), আইডাহো (৪), ইন্ডিয়ানা (১১), কানসাস (৬), কেনটাকি (৮), লুজিয়ানা (৮), মিসিসিপি (৬), মিসৌরি (১০), মনটানা (৩), নেব্রাস্কা (৪), নর্থ ডাকোটা (৩), ওকলাহোমা (৭), সাউথ ক্যারোলাইনা (৯), সাউথ ডাকোটা (৩), টেনেসি (১১), টেক্সাস (৩৮), ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (৫), ওয়াইওমিং (৩)। মোট ইলেক্টোরাল কলেজ ১৫৭।
রিপাবলিকানদের প্রতি ঝুঁকে পড়া রাজ্য
জর্জিয়া (১৬), আইওয়া (৬), মেইন দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট (১), ওহাইও (১৮), ইউটাহ (৬)। মোট ৪৭।
ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট
অ্যারিজোনা (১১), ফ্লোরিডা (২৯), নেভাদা (৬), নেব্রাস্কা দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট (১), নিউ হ্যাম্পশায়ার (৪), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৫)। মোট ৬৬।
ডেমোক্রেটদের পক্ষে ঝুঁকে পড়া রাজ্য
কলোরাডো (৯), মিশিগান (১৬), পেনসিলভ্যানিয়া (২০), ভার্জিনিয়া (১৩), উইসকনসিন (১০)। মোট ৬৮।
ডেমোক্রেটদের শক্তিশালী অবস্থান যেসব রাজ্যে
ক্যালিফোর্নিয়া (৫৫), কানেকটিকাট (১৭), ডেলাওয়ার (৩), ওয়াশিংটন ডিসি (৩), হাওয়াই (৪), ইলিনয় (২০), মেইন (৩), ম্যারিল্যান্ড (১০), ম্যাসাচুসেটস (১১), নিউ জার্সি (১৪), নিউ ইয়র্ক (২৯), অরেগন (৭), রোড আইল্যান্ড (৪), ভারমন্ট (৩), ওয়াশিংটন (১২), মিনেসোটা (১০), মেক্সিকো (৫)। মোট ২০০।
ডেমোক্রেট বা রিপাবলিকানদের পক্ষের রাজ্যগুলোকেও আবার ভাগ করা হয় দুই ভাগে। এর একটি অংশে রয়েছে এমন রাজ্য যেগুলোতে নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষে রায় এখনই নিশ্চিত বলা যায়। আরেকটি অংশের রাজ্যগুলোকে বলা হয় কোনো দলের প্রতি ঝুঁকে পড়া। ডেমোক্রেটদের পক্ষে ঝুঁকে পড়া ও নিশ্চিত রাজ্যগুলোকে বিবেচনায় নিলে হিলারির পক্ষে মোট ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা এখন ২৬৮। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২০৪। এই হিসাবের বাইরের ছয়টি রাজ্যই তখন ফল নির্ধারক হয়ে ওঠে। এগুলো হলো অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নেব্রাস্কার দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট। এই ছয়টি রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা ৬৬। ইলেক্টোরাল ম্যাপের বর্তমান পরিস্থিতিতে হিলারি ছয়টি ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটের যেকোনো একটিতে জয় পেলেই প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন। কিন্তু ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হলে হিসাবের ছয়টি রাজ্যেই বিজয়ী হতে হবে। সর্বশেষ জনমত জরিপ, নির্বাচনী প্রচারণা শিবির থেকে পাওয়া খবর, গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে নির্বাচন নিয়ে কর্মরত দলগুলোর থেকে পাওয়া খবর, টিভি ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবরের প্রতিফলন রয়েছে এই ইলেক্টোরাল ম্যাপে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের একটি আগাম অনুমান এই মানচিত্র। সেই ফলাফলে ভিন্নতা থাকতেই পারে।
এক নজরে রাজ্যগুলোর বর্তমান অবস্থা (ব্র্যাকেটে রাজ্যের ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা)
রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান যেসব রাজ্যে
অ্যালাবামা (৯), আলাস্কা (৩), আরকানসাস (৬), আইডাহো (৪), ইন্ডিয়ানা (১১), কানসাস (৬), কেনটাকি (৮), লুজিয়ানা (৮), মিসিসিপি (৬), মিসৌরি (১০), মনটানা (৩), নেব্রাস্কা (৪), নর্থ ডাকোটা (৩), ওকলাহোমা (৭), সাউথ ক্যারোলাইনা (৯), সাউথ ডাকোটা (৩), টেনেসি (১১), টেক্সাস (৩৮), ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (৫), ওয়াইওমিং (৩)। মোট ইলেক্টোরাল কলেজ ১৫৭।
রিপাবলিকানদের প্রতি ঝুঁকে পড়া রাজ্য
জর্জিয়া (১৬), আইওয়া (৬), মেইন দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট (১), ওহাইও (১৮), ইউটাহ (৬)। মোট ৪৭।
ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট
অ্যারিজোনা (১১), ফ্লোরিডা (২৯), নেভাদা (৬), নেব্রাস্কা দ্বিতীয় কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট (১), নিউ হ্যাম্পশায়ার (৪), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৫)। মোট ৬৬।
ডেমোক্রেটদের পক্ষে ঝুঁকে পড়া রাজ্য
কলোরাডো (৯), মিশিগান (১৬), পেনসিলভ্যানিয়া (২০), ভার্জিনিয়া (১৩), উইসকনসিন (১০)। মোট ৬৮।
ডেমোক্রেটদের শক্তিশালী অবস্থান যেসব রাজ্যে
ক্যালিফোর্নিয়া (৫৫), কানেকটিকাট (১৭), ডেলাওয়ার (৩), ওয়াশিংটন ডিসি (৩), হাওয়াই (৪), ইলিনয় (২০), মেইন (৩), ম্যারিল্যান্ড (১০), ম্যাসাচুসেটস (১১), নিউ জার্সি (১৪), নিউ ইয়র্ক (২৯), অরেগন (৭), রোড আইল্যান্ড (৪), ভারমন্ট (৩), ওয়াশিংটন (১২), মিনেসোটা (১০), মেক্সিকো (৫)। মোট ২০০।
>>>মানবজমিন

No comments:
Post a Comment