Monday, November 21, 2016

চর্চার কোনো বিকল্প নেই সঙ্গীতে

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হলেও ভিন্ন ধারার গান নিয়েও বেশ জনপ্রিয় এ শিল্পী। আজ তার জন্মদিন। দিনটি উদযাপন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি
*আজকের দিনের আয়োজনে কী থাকছে?
**সাধারণত জন্মদিনে আমি হৈচৈ পছন্দ করি না। পরিবারের সদস্যরা মিলে নিজেরাই ঘরোয়াভাবে দিনটি উদযাপন করার চেষ্টা করি। এবারও ঠিক তাই হবে। আট-দশটি দিনের মতোই আজকের দিনটি কাটবে। কাছের মানুষের সঙ্গে হয়তো দেখা হবে। তাদের সঙ্গে খোশ-গল্পে কেটে যাবে দিনটি। তবে সবার কাছে একটাই চাওয়া, ভালো কিছু গান নিয়ে যেন শ্রোতাদের হৃদয়ে থাকতে পারি এ দোয়া করবেন।
*রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হলেও ভিন্ন ধারার গান নিয়েও আপনার জনপ্রিয়তা রয়েছে...
**সেটা খুব বেশি নয়। তবে একটি গানের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। ‘নাই টেলিফোন নাই রে পিয়ন, নাই রে টেলিগ্রাম, বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌঁছাইতাম’ এ গানটি বেশ জনপ্রিয়। এখনও কোথাও গাইতে গেলে এ গানের অনুরোধ আসে। বিষয়টি আমাকে বেশ গর্বিত করে। তাছাড়া আরও কয়েকটি গান রয়েছে। তারপরও আমি বলব, রবীন্দ্রসঙ্গীতই আমার ধ্যান-জ্ঞান। আমি মনেপ্রাণে একজন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী।
*একটি সংগঠন থেকে আপনাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি কীভাবে উপভোগ করেন?
**শুভেচ্ছা সাংস্কৃতিক ফোরাম নামে একটি সংগঠন থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি অবশ্যই অনেক আনন্দের। যখন কোনো স্বীকৃতি পাই তখন বারবার শুধু একটি কথাই মনে হয়, ভালো কাজের মূল্যায়ন সবসময়ই হয়। যারা আমাকে সম্মাননা দিচ্ছেন তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
*সম্প্রতি রবীন্দ্রচর্চায় অনন্য অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি কর্তৃকও পুরস্কৃত হয়েছেন...
**আগেই বলেছি, যে কোনো স্বীকৃতি আমার কর্মস্পৃহা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০১৩’ ও ‘ফেলোশিপ ২০১৫’ দুটিই আমার জন্য নিঃসন্দেহে সম্মানের এবং গৌরবের।
*আপনার সঙ্গীতচর্চার বিষয়টি নিয়ে এ সময়ের শ্রোতাদের আগ্রহ অনেক...
**সঙ্গীতে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় ছায়ানটে ১৯৬৬ সালে। ১৯৭৩ সালে সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করি। আতিকুল ইসলাম, ওয়াহিদুল হক, সানজিদা খাতুন, জাহিদুর রহিমের কাছেও রবীন্দ্রসঙ্গীতে তালিম নিয়েছি। ১৯৭৩ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী সেসময় শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ভারত সরকারের বৃত্তি লাভ করি। এরপর থেকে তো চর্চার মধ্যেই আছি। এখনও রয়েছি।
*নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
**শেখার কোনো শেষ নেই। নতুন যারা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখছেন, তাদের অবশ্যই চর্চার মধ্যে থাকতে হবে। এটা একটা মহাসমুদ্র। এর তলদেশে পৌঁছাতে হলে অনেক সাধনা করতে হবে। শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত কেন, সঙ্গীতের যে কোনো শাখায়ই বিচরণ করতে গেলে চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

No comments:

Post a Comment